× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার

এবার মন্ত্রিত্ব

দেশ বিদেশ

জাবেদ রহিম বিজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ২ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার, ৯:৪৪

আশার ফানুস উড়ছে সেই ২০০৮ সাল থেকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জোরালো হয়েছে দাবি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের গত দুই মেয়াদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে ‘মন্ত্রিত্ব পাওয়ার স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই থেকে গেছে দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের। অবশ্য তারও আগে ১৯৯৬ সাল থেকে ‘সদর’-এ দলের মন্ত্রিত্ব বঞ্চিত। যদিও তখন সদর আসন আওয়ী লীগের হাতছাড়াই ছিল। তবে অন্যান্য সরকারের সময় এখানে মন্ত্রিত্ব ছিল। জিয়াউর রহমানের সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন সদরের বাসিন্দা ডাক্তার ফরিদুল হুদা। আর এরশাদ সরকারের সময় উপমন্ত্রী ছিলেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির।
’৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে সদরের এমপি অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশিদকে করা হয় প্রতিমন্ত্রী। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয় মামা-ভাগ্নের। মামা মুশফিকুর রহমান আর ভাগ্নে হারুন-আল-রশিদের দ্বন্দ্বের কারণে শেষ পর্যন্ত তাদের কারও ভাগ্যেই জুটেনি মন্ত্রিত্ব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ওই নির্বাচনে ৪ দলীয় জোট প্রার্থী সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমানের সমর্থকদের অন্যতম প্রচারণাই ছিল, ‘মন্ত্রী হবেন মুশফিক ভাই, আমরা সবাই তাকে চাই’। বিএনপি সরকারের ওই মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী করা হয় জেলার সরাইলের বাসিন্দা উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়াকে।

২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে সদরে বিএনপির শক্তিশালী নেতা হারুন আল রশিদকে ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা অ্যাডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চু। এর আগে এখানে পাঁচবারের এমপি ছিলেন বিএনপি নেতা হারুন। এক সময় বিএনপির এই ঘাঁটি আওয়ামী লীগের হাতে আসার পরই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক লুৎফুল হাই সাচ্চু মন্ত্রী হবেন সেটি নিশ্চিত করেই ধরে নেন সবাই। তার ভোটের ফিগারও ছিল চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বাধিক। কিন্তু সেবার মন্ত্রিত্ব পান বাঞ্ছারামপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন অব. এবি তাজুল ইসলাম। ২০১০ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরে এলে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ স্বপ্ন দেখে সাচ্চু ভাই মন্ত্রী হবে’- এমন নানা স্লোগান লেখা ব্যানার ফেস্টুনে সাচ্চুকে মন্ত্রী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় ব্যাপকভাবে। এর কয়েক মাস পরই অ্যাডভোকেট সাচ্চু প্রয়াত হন। লুৎফুল হাই সাচ্চুর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সদর আসনে উপ-নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। ‘জয়ী হওয়ামাত্র মন্ত্রী’- উপনির্বাচনের প্রচারণায় তার কর্মী-সমর্থকদের এটাই ছিল মূল স্লোগান। এমনকি জেলা ও কেন্দ্রের দায়িত্বশীল নেতারাও তখন তাদের বক্তব্যে বলেছিলেন পাস করলেই মন্ত্রী হবেন মোকতাদির। তবে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব মিলেনি। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাতেও যোগ হয়েছিল মন্ত্রিত্বের বিষয়টি।

এবারো বঞ্চিত হয় সদর। মন্ত্রিত্ব পান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত নতুন মুখ অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক। তিনি এর আগে ১৯৭৩, ৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মন্ত্রী থাকাকালে ২০১৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বর প্রয়াত হন ছায়েদুল হক। এ দু-জন পূর্ণ মন্ত্রী পাওয়ার মধ্য দিয়ে এর আগের কয়েক যুগে জেলায় পূর্ণ মন্ত্রী না পাওয়ার দুঃখ ঘুচে যায়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় আবারো সদরে মন্ত্রী দেয়ার দাবি উঠেছে। প্রচারণার শেষ দিকে সুলতানপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর এক জনসভায় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত এই দাবি তুলেন। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রাণ গোপাল দত্ত। মহিলা লীগের ওই নেত্রী প্রাণ গোপালকে জনসভায় হাজার-হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখিয়ে বলেন- লাখ লাখ ভোট পেয়ে পাস করবেন তিনি। আপনি নেত্রীর আস্তাভাজন। আপনি নেত্রীর কাছে সুপারিশ করবেন আমাদের নেতা মোকতাদির চৌধুরীকে যেন মন্ত্রী করা হয়। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজ মো. ইয়াছিনও একই দাবি জানান তার বক্তব্যে। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্যারিয়ার এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদান- সব মিলিয়ে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মোকতাদির চৌধুরী। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ষাটের দশকের শেষ থেকে আশির দশকের প্রথম দিকে দেশে ছাত্র রাজনীতির নেতৃস্থানীয়দের অন্যতম ছিলেন মোকতাদির। ১৯৮৩ সালে সিভিল সার্ভিসে (প্রশাসন ক্যাডার) যোগ দেন এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রনেতা। ২০০৫ সালে সিভিল সার্ভিস ছেড়ে আবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার ডিগ্রিধারী মোকাতাদির চৌধুরী একাধারে একজন লেখক, শিক্ষানুরাগী ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ হিসেবেও পরিচিত। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ৩,৯৩,৫২৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল পেয়েছেন ৪৬,০৭৭ ভোট। জেলায় জয়ে হায়েস্ট ভোটের রেকর্ড করেছেন তিনি এবার। ভোটের হিসেবে তার পরের অবস্থানে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত বর্তমান আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার পর একাদশ সংসদ নির্বাচনে আনিসুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র প্রার্থী মো. জসিমের (হাতপাখা) সঙ্গে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে করা পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় এই আসনের বিএনপি প্রার্থী মুসলিম উদ্দিনের মনোনয়ন স্থগিত হয়। অ্যাডভোকেট আনিসুল হক পেয়েছেন ২ লাখ ৮২ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জসিম পেয়েছেন ২৯৪৯ ভোট। তিনি ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) থেকে নির্বাচিত ক্যাপ্টেন অব. এবি তাজুল ইসলামও আশাবাদী মন্ত্রিত্ব পাওয়ার বিষয়ে। ভোটের রাতে তার সমর্থকরা তাকে ঘিরে আনন্দ উচ্ছ্বাস করার ফাঁকে জানতে চান এবার আমরা আর কি পামু। তিনি আশ্বস্ত করেন তাদের। মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন। তাজ অষ্টম সংসদে জয়ী হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর