× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
আলাপন

‘অনেক কিছু আছে নজরুলের গানে’

বিনোদন

ফয়সাল রাব্বিকীন | ২৫ মে ২০১৯, শনিবার, ৯:৪৬

বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল। লন্ডনে প্রকৌশলবিদ্যায় পড়াশোনা করলেও ছোটবেলা থেকেই হতে চেয়েছিলেন সংগীতশিল্পী। নজরুলের গানকে নিয়েই করে চলেছেন সংগীত সাধনা। আর সেই গানই তাকে খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে গেছে। বর্তমানে গান নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন খায়রুল আনাম শাকিল। সব মিলিয়ে কেমন আছেন? শাকিল বলেন, বেশ ভালো। গানের মাঝেই আছি। এভাবেই আসলে ভালো আছি।
নজরুল সংগীতশিল্পী হয়ে ওঠার যাত্রাটা আপনার কেমন ছিল? উত্তরে এ শিল্পী বলেন, পারিবারিকভাবেই আমাদের সংগীত চর্চা ছিল। আমার বাবা তরুণ বয়সে একজন সংস্কৃতিকর্মী ছিলেন। তৎকালীন আর্ট কাউন্সিলের তিনি অনারারি সেক্রেটারি ছিলেন। চলচ্চিত্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ‘জয়বাংলা’, ‘সুতরাং’, ‘কাগজের নৌকা’ ছবিগুলোর প্রযোজক তিনি। ১৬ থেকে ২৬ বছর পর্যন্ত আমি বিলেতে বড় হয়েছি। কিন্তু ছায়ানটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে দেশে ফিরে আসি। আমি টেলিভিশন ও  রেডিওতে তালিকাভুক্ত হয়েছিলাম ১৬/১৭ বছর বয়সে। এর পর ছায়ানটে শিক্ষকতা, এর বাইরে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানে গান করা। এখন সবাই কেবল জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটছে।

আপনি বিষয়টি কিভাবে দেখেন? শাকিল বলেন, শুদ্ধ সংগীত চর্চা সব সময়ের জন্যই জরুরি। আমরা যেমন স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য ব্যায়াম করি, কণ্ঠ তৈরি এবং ঠিক রাখার জন্য  তেমনই শাস্ত্রীয় সংগীত অবশ্যই শিখতে হবে। এখনকার ছেলেমেয়েরা এটা কতটা উপলব্ধি করে, আমি জানি না। তবে শিক্ষা যে কোনো বয়সেই গ্রহণ করা যায়। এর কোনো বয়স নেই। এখন নজরুলসহ অনেক গানেরই ফিউশন হয়। এটাকে কিভাবে দেখছেন? শাকিল বলেন, এটা হলো এক্সপেরিমেন্ট করা। নানাভাবে নানা সময়ে গুণীজনেরা এটা করেছেন। রবীন্দ্রনাথও করেছেন, নজরুলও করেছেন। এখনকার ছেলেমেয়েরাও করছে। আসলে ফিউশন কথাটার অর্থ ভালোভাবে বুঝতে হবে। ফিউশন হলো মেশানো। এমনভাবে মেশানো, যাতে আমি আমার সংস্কৃতিটাকে প্রধান রেখে বাইরের যা কিছু ভালো, সেটাকে মিশিয়ে সুন্দর কিছু একটা তৈরি করতে পারি। ফিউশনে বাংলা গানে বিদেশি সুরের ব্লেন্ডিংটা এমনভাবে হবে যেন তা বাংলা বলেই মনে হয়। আপনি নজরুল চর্চায় কেন এবং কিভাবে এলেন? শাকিল বলেন, ছেলেবেলায় জ্ঞানেন্দ্র গোস্বামীর গানে আমার ভালোলাগা শুরু হয়েছিল। আমি শাস্ত্রীয় সংগীত শিখেছি।

একটা পর্যায় ছিল যখন আমি কাজী নজরুল ইসলামের রাগপ্রধান গানই করতাম। কিন্তু আর একটা পর্যায়ে এসে আমি দেখলাম যে, অনেক কিছু আছে নজরুলের গানে। একদিকে আমাদের যে শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারা খেয়াল, ধ্রুপদ, ঠুমরি, গজল, কাজরি এবং নানান ধরনের ঋতুভিত্তিক গান, এর সবটাই যদি আমরা খুঁজি তো কাজী নজরুল ইসলামের গানে পাব। সে সঙ্গে তিনি বাংলা গানের ধারাও যুক্ত করেছেন, যেমন লোকগানের ধারা। নজরুল তার বাণী দিয়ে এর সবটাই বেঁধেছেন। একটি বিষয় হলো, আমি রাগসংগীত শিখেছিলাম, আরেকটি হলো যখন বুঝলাম কাজী নজরুলের অনেক দিকে বিচরণ রয়েছে, আমি তখন সেগুলো শেখার চেষ্টা করলাম। সত্যিকার অর্থেই নজরুল একজন অনন্য প্রতিভা। বিশেষ করে সংগীতের জগৎকে উনি সমৃদ্ধ করে দিয়ে গেছেন। রাগসংগীতের প্রতি ভালোবাসা প্রথমে নজরুলের রাগপ্রধান গানের দিকে আমাকে আকৃষ্ট করে এবং পরে আমি সব ধরনের গানই গাওয়ার চেষ্টা করেছি। এ সময়ে তরুণরা কেমন করছে নজরুল সংগীতে? শাকিল বলেন, অনেকে অনেক ভালো করছেন। তরুণদের মধ্যে নজরুলের প্রতি ভালোবাসা দেখলে আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিশ্বাস করি তরুণ প্রজন্ম সত্যিকারের অর্থেই নজরুলকে ধারণ করে। তবে চর্চাটা যেন সঠিক হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর