× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুন ২০১৯, বুধবার

বিচার বিভাগের জন্য উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের দাবি

এক্সক্লুসিভ

রাশিম মোল্লা | ১১ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:০৩

দেশে সুশাসন কায়েম করার জন্য আগামী ২০১৯-২০২০ সালের জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। গতকাল মানবজমিন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হলো আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ। এর মধ্যে বিচার বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে যদি বিচার বিভাগ সুষ্ঠু ও নিরাপদ না হয় তাহলে দেশে সুশাসন কায়েম করা সম্ভব হয় না। আর একটি দেশে সুশাসন না থাকলে সে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অর্থবহ হয় না।
বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করে মাহবুব হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মামলার সংখ্যাও বেড়ে চলছে। ইতিমধ্যে দেশের নিম্ন ও উচ্চ আদালতে ৪০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এই অবস্থায় বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করা অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু অতীতের জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা খুবই হতাশাব্যঞ্জক ছিল। এমনকি বাজেটে মৎস্য বিভাগের জন্য যতটুকু বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল, এর চাইতেও কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল দেশের বিচার বিভাগের জন্য। তাই আমি মনে করি, দেশের মানুষকে সুবিচার নিশ্চিত করতে চাইলে এবারের বাজেটে সরকার বিচার বিভাগের জন্য উপযুক্ত বাজেট বরাদ্দ দেবেন। সরকারকে এ কথা মনে রাখতে হবে বিচার বিভাগ সরকারের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। এখান থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাজস্ব সরকারি রাজস্ব বিভাগে জমা হয়।
এই আইনজীবী আরো বলেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের জন্য অনেক অর্থ বরাদ্দ রাখে। সে জন্য সে দেশের বিচার বিভাগ ভালো চলে। দেশে অনেক আদালত রয়েছে, যেখানে এজলাস সংকটে বিচারকরা আলাদাভাবে বসতে পারেন না। এ কারণেও আদালতে মামলাজটের সৃষ্টি হয়। তারা বিচার কাজ পরিচালনা করবেন, অথচ সে মোতাবেক সুবিধা নেই। আসলে সরকার এগুলো চিন্তা করে না। যদি চিন্তা করত, তাহলে বিচার বিভাগ ও সুপ্রিম কোর্টের জন্য বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্ধ দিত। আশা করি, এবারের বাজেটে সরকার বিচার বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সুবিবেচনা করবেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৫২১ কোটি টাকা, বাজেটের ০.৩২ শতাংশ। ২০১৭-১৮ বাজেটে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকার বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা, বাজেটের ০.৩৯ শতাংশ। ২০১৬-১৭ সালে ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকার বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, বাজেটের ০.৪৪ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা, আইন ও বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ২১৯ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বাজেটের ০.৪৬ শতাংশ। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় মোট বাজেটের ০.৩-০.৪ শতাংশ। অপরদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ হয় ০.৫-০.৬ শতাংশ। ওই অর্থবছরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। অপরদিকে মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দেয়া হয় ১ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিচারক, কোর্ট-কর্মচারী ও আইনজীবীদের চেয়ে প্রায় দেড়গুণ বেশি ছিল।
এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় ও ২০১৯ সালের বাজেট অধিবেশন আগামী ১১ই জুন বিকাল ৫টায় শুরু হবে। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৩ই মে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ অধিবেশনে আগামী ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশের তারিখ ঘোষণা করেছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর