× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

রাশিয়ায় উদ্‌যাপিত হলো ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা দিবস

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ৮:৪৪

বাংলাদেশে ইউনূস সেন্টারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাশিয়ায়ও প্রতি বছর ২৮শে জুন আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা দিবস পালিত হয়ে থাকে। সেখানে দিবসটি ২০১৩ সাল থেকে জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে। এ বছরও এই দিবস উপলক্ষে সমাজের জরুরি সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে বিশেষভাবে আগ্রহী এমন সামাজিক উদ্যোক্তা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনরা সমবেত হন।

২০১৩ সাল থেকে রাশিয়ার ৬৭টি অঞ্চলে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে ৫১৮টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব বাৎসরিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পুরো রাশিয়াজুড়ে আয়োজিত হয়েছে গোলটেবিল আলোচনা, সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন প্রতিযোগিতা, সেমিনার, কর্মশালা, বক্তৃতা ও সামাজিক প্রকল্পের জন্য উন্মুক্ত-দ্বার দিবস। এসব অনুষ্ঠানে সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে রাশিয়ার বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান যেমন দি এজেন্সি ফর স্ট্র্যাটেজিক ইনিশিয়েটিভ, অপোরা রাশিয়া, বিজনেস রাশিয়া, রাশিয়ান ইউনিয়ন ফর ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড এনট্রাপ্রিনিয়রস এবং দেশটির খ্যাতনামা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাৎসরিক অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনে মাইক্রোফাইন্যান্স এসোসিয়েশন অব রাশিয়া এবং আওয়ার ফিউচার ফাউন্ডেশন মূল ভূমিকা পালন করে আসছে।

এ বছরের সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ‘রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা দিবস উদ্‌যাপনের ফলাফল পর্যালোচনা’- যেখানে সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগ ও সামাজিক ব্যবসার আইনি অবস্থানের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সামাজিক ব্যবসা উদ্যোক্তা বিকাশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন। আলোচনায় আরো অন্তর্ভুক্ত ছিল রাশিয়ায় সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের বিকাশে সহায়তার জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পার্টনারদের মধ্যে কীভাবে আরো বেশি প্রণোদনা ও আগ্রহ সৃষ্টি করা যায়, সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগগুলোর ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ও তাদের বিকাশের সম্ভাব্য বিভিন্ন পথ ইত্যাদি।

প্রফেসর ইউনূস ছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো যে সব খ্যাতনামা ব্যক্তিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন, তাদের মধ্যে ছিলেন- চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব দ্য রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট সের্গেই ক্যাটিরিন, আওয়ার ফিউচার ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও আঞ্চলিক সামাজিক কর্মসূচির পরিচালক তহবিল নাতালিয়া জ্‌েভরেভা, রাশিয়ান ফেডারেশনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক উপ-মন্ত্রী ভাদিম জিভুলিন, ব্যাংক অব রাশিয়ার সার্ভিস ফর কনজ্যুমার প্রোটেকশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনের প্রধান মিখাইল মামুতা, রাশিয়ান পার্লামেন্ট ‘স্টেট ডুমা’র সদস্য ও অর্থনৈতিক নীতি, শিল্প, উদ্ভাবন উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি সজোনভ।

এ বছরের সামাজিক ব্যবসা দিবস অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রফেসর ইউনূসের গ্রন্থ ‘অ ডড়ৎষফ ড়ভ ঞযৎবব তবৎড়ং’ এর রাশিয়ান সংস্করণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রতিনিধিকে বইটির একটি কপি উপহার হিসেবে তাদের কনফারেন্স ব্যাগের সঙ্গে প্রদান করা হয়।
রাশিয়ায় প্রফেসর ইউনূসের সফরকালে অনুষ্ঠিত সব সম্মেলন উপলক্ষে এই বিশেষ সংস্করণটি ছাপানো হয় যা যুগ্মভাবে স্পন্সর করে মাইক্রোফাইন্যান্স এসোসিয়েশন অব রাশিয়া এবং আওয়ার ফিউচার ফাউন্ডেশন।

প্রফেসর ইউনূস এরপর রাশিয়ার অন্যতম নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইউনিভার্সিটি’র রেক্টর প্রফেসর মিখাইল এসকিনদারভের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। রেক্টরের সঙ্গে আরো ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ডেপুটি রেক্টরগণ। রেক্টর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ‘ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
এরপর প্রফেসর ইউনূসকে ‘কালেকশন’ নামে খ্যাত ডেভিড লাকোভাচভিলি প্রতিষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত মস্কো মিউজিয়াম ঘুরিয়ে দেখানো হয়। ২০ হাজারের অধিক আইটেম নিয়ে এই মিউজিয়াম কালেকশনটি পৃথিবীতে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (ওয়ার্ল্ড কালচারাল হেরিটেজ) সর্ববৃহৎ ব্যক্তিগত সংগ্রহ বলে দাবি করা হয়।

এ ছাড়াও প্রফেসর ইউনূস তার সম্মানে রাশিয়ান ইউনিয়ন অব ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড এনট্রাপ্রিনিয়রস-এর চেয়ারম্যান কর্তৃক আয়োজিত একটি নৈশভোজে যোগ দেন যেখানে নোবেল লরিয়েট রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন। প্রফেসর ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন যে, ব্যবসা ও শিল্পগুলো যদি কেবল মুনাফার অনুসন্ধানে তাদের সব মনোযোগ নিবদ্ধ রাখে তাহলে পৃথিবী শিগগিরই বিলুপ্তির সম্মুখীন হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মানবজাতিকে রক্ষা করতে হলে এই প্রক্রিয়া এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন। সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে, আমাদেরকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর