× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার

হঠাৎ পিয়াজের দাম দ্বিগুণ

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:২৩

ঈদুল ফিতরের পর স্থিতিশীল থাকলেও হঠাৎ করেই রাজধানীর বাজারগুলোতে পিয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। গত দুই দিনে খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে অস্বাভাবিকভাবে দ্বিগুনের বেশি দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম গড়ে ১৫ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির তেমন কোন কারণ নেই বলে জানিয়েছেন পাইকারি বিক্রেতারা। কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা পিয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সরবরাহ ও আমদানি মূল্য কম থাকার পরও বাড়তি মুনাফা করার জন্য দাম বাড়িয়েছেন চক্রটি। অন্যদিকে, ভোক্তারা মনে করেন, বাজার পর্যবেক্ষণ না থাকার কারণে এরকম দাম বেড়েছে। এখনি বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার না করা গেলে পিয়াজসহ অন্য মসলারও দাম বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানান তারা।
দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন মৌসুমে পিয়াজ তোলার সময় বৃষ্টি ছিল। এতে নষ্ট হওয়ার ভয়ে দেশি পিয়াজ আগাম বেশি বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে, আড়তগুলোতে এখন দেশি পিয়াজ কম সরবরাহ হচ্ছে। তাছাড়া সামনে কোরবানির ঈদ এবং ভারতীয় বাজারে পিয়াজের দাম বৃদ্ধির কথা বলেন তারা।

কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দেখালেও পিয়াজ কিনতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীদের ওপর।

বাজারে গত শুক্রবার পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত থাকলেও রোববার হঠাৎ করে পিয়াজের দাম কেজিতে ১৮ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিপাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হয়েছে ২২৫ টাকায়। শুক্রবার প্রতিকেজির দাম ছিল ২৫ থেকে ২৭ টাকা এবং পাল্লা ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। গত রোববার থেকে রাজধানীর খুচরা দোকান ও মুদি দোকানগুলোয় পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে, শুক্রবারেও যা ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি।

বেসরকারি চাকরিজীবী হাসনাত রিপন রাগান্বিত স্বরেই বললেন, গত শুক্রবারও যে পিয়াজ কিনেছি ২৮-৩০ টাকা কেজি, তা এখন হয়ে গেল ৫০ টাকা। এটা কি মগের মুল্লুক নাকি! পিয়াজ ছাড়া রান্না চলে না তো, তাই জেনেশুনে এমন সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়। এটা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর অত্যাচার ছাড়া কিছু না।

কাওরান বাজারের পিয়াজ ব্যবসায়ী ফয়েজ আহমেদ বলেন, ভারতীয় পিয়াজের আমদানি খরচ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পিয়াজ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। তাই পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। আরেক ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিনে পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে কেজিপ্রতি পিয়াজের দাম পড়েছে ৩৮ থেকে ৩৯ টাকা। এর সঙ্গে খরচ যোগ করে আমাদের ৪৫ টাকা দামে বিক্রি করতে হয়েছে।

শ্যামবাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে দিনে ভারত থেকে ২০০ পিয়াজের গাড়ি ৪টি স্থল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করতো। কিন্তু এখন সেখানে ১০০ থেকে ১২০টি গাড়ি ঢুকছে বাংলাদেশে। আমদানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানান তিনি।

খুচরা বাজারে দেখা গেছে, মানভেদে দেশি পিয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা। গত রোববার থেকে এই দামে পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে গত শুক্রবার প্রতি কেজি ভালো মানের দেশি পিয়াজ বিক্রি হয় ৩০-৩৫ টাকা। অর্থাৎ খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা। রোববার পাইকারিতে দাম বাড়ার প্রভাবে ওই দিন থেকেই খুচরা বাজারে পিয়াজের দামে বড় ধরনের উত্থান হলেও, মঙ্গলবার পাইকারিতে দাম কমার প্রভাব এখনও খুচরা বাজারে পড়েনি। খুচরা বাজারে এখনও বাড়তি দামেই পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

কাওরানবাজারের পিয়াজ ব্যবসায়ী হাসান মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে গত দুদিনে পিয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। ওই সময় আমাদের প্রতি মণ পিয়াজ কেনা পড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ে ৩৮-৩৯ টাকা। এর সঙ্গে খরচ যোগ করে আমাদের ৪৫ টাকা দামে বিক্রি করতে হয়েছে।

তবে পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি মণ কেনা পড়ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৩০-৩২ টাকা। এই পিয়াজ আমরা ৩৫-৩৬ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এ হিসাবে এখন পিয়াজের দাম প্রতি কেজিতে কমেছে ১০ টাকা করে। কিন্তু খুচরা বাজারে চিত্র ঠিক উল্টো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর