× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার

মিন্নিকে রিমান্ডের পরে আদালতে উপস্থিত না করা আইনের বরখেলাপ: খন্দকার মাহবুব

শিক্ষাঙ্গন

স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ৭:৪৭

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, বরগুনার রিফাত হত্যাকা-ের ঘটনায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডের পরে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও নেয়া হয়েছে। কতটা সত্যি, কতটা মিথ্যা সেটা বিচারে দেখা যাবে। কে দোষী, কে দোষী না সেটা বড় কথা নয়। আমরা চাই, আইন অনুযায়ী বিচার হবে, আইন অনুযায়ী সাজা হবে। বুধবার উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা রয়েছে, যদি কাউকে রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়। তাকে অবশ্যই বিচারিক আদালতে উপস্থিত করতে হবে।
কিন্তু মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরে তাকে আদালতে না নিয়ে সরাসরি  জেল খানায় পাঠিয়ে দেয়া হলো। এটা আইনের বরখেলাপ

সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা মনে করি রাজনৈতিক প্রভাবে আমাদের নিম্ন আদালতগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এমনকি সুপ্রিমকোর্টের আদেশকেও তারা অমান্য করছে। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, বরগুনায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডের পরে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও  নেয়া হয়েছে। কতটা সত্যি, কতটা মিথ্যা  সেটা বিচারে  দেখা যাবে। আমাদের কথা হলো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা রয়েছে, যদি কাউকে রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়। তাকে অবশ্যই বিচারিক আদালতে উপস্থিত করতে হবে। যাতেসে বলতে পারে রিমান্ডে থাকাকালিন অবস্থায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা। নির্যাতন যদি করা হয়ে থাকে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা আমাদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা। তারপরও একজন নারীকে, তরুনী  মেয়েকে একজন পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তার  হেফাজতে  দেয়া হলো। একবারও আদালত চিন্তা করলো না। তার উপরে কি ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন হতে পারে। তিনি বলেন, বিচারক কোনো রকম বিবেচনা না করে তাকে তদন্তকারি কর্মকর্তার  হেফাজতে দিয়ে দিলেন। কিন্তু সে কথিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরে তাকে আদালতে না নিয়ে সরাসরি  জেল খানায় পাঠিয়ে দেয়া হলো।

খন্দকার মাহবুব বলেন, তার আইনজীবী আবেদন করলো- মিন্নি আদালতে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, সেটা প্রত্যাহার করতে চাই। আপনি তাকে আদালতে আনেন। কিন্তু তাকে আনা হলো না। এইভাবে আইনের বরখেলাপ হচ্ছে। তারপরও আমাদের  ফৌজদারি কার্যবিধিতে স্পষ্ট বিধান রয়েছে।  যেকোনো অপরাধ আসামি যদি নারী হয়, যদি অসুস্থ হয়, তাহলে আদালত তাকে জামিন  দেবেন। এক্ষেত্রে তার জামিনের আবেদন করা হলেও, আইনের সম্পূর্ণ বরখেলাপ করে রাজনৈতিক প্রভাবে অথবা একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে মামলার মূল আসামিরা যাতে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে সেই কারণে তাকে জামিন দেওয়া হলো না। এটাও আইনের বরখেলাপ।

আমি মনে করি আইনের বরখালাপের জন্য সারাদেশে হত্যা, গুমের মহাপ্লাবন চলছে। সেখানে গণপিটুণী চলছে- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আইনশৃংখলা বাহিনীর উপর আস্থা নাই। আশা করি উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে নজর দিবেন, কিভাবে একজন মহিলাকে পুরুষের হেফাজতে দেয়া হলো। তারপরে তাকে বিচারিক আদালতে উপস্থিত না করে সরাসরি জেলে পাঠানো হলো। তাকে সুযোগ দেয়া হলো না, তাকে নির্যাতন করা হয়েছে কি না।  আইনে সুস্পষ্ট বিধান থাক স্বত্বেও তাকে জামিন না দিয়ে জেলে পাঠানো হলো। আদালতে লিখিত কোনো আবেদন করে হস্তক্ষেপ চেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব বলেন, আমি করিনি। আমি  তো আইনজীবী। এটা কোর্টের দায়িত্ব।

মামলাটি উচ্চ আদালতে এলে মিন্নিকে আইনি সহায়তা দেবেন কি-না এমন প্রশ্নে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, অবশ্যই। বিচার যাতে সঠিকভাবে হয়, ন্যায় বিচার যাতে পায়। রাজনৈতিক প্রভাবে যাতে বিচার না হয় সেটাই আমরা দেখবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর