× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার

বিরোধীদের সমর্থনেই ৩৭০ ধারা বাতিলের কাজ হাসিল

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ৬ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ১:১৫

মাত্র সাত মাস আগে কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মঞ্চে ২১টি বিরোধী রাজনৈতিক দল যে যৌথ আন্দোলনের উপর জোর দিয়েছিল, তারাই নির্বাচনে গো-হারা হারার পর ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ জুটি গত দু’সপ্তাহে একের পর এক বিতর্কিত বিল পাস করিয়ে নিয়েছেন। সোমবার নিজেদের মন্ত্রীদেরও অন্ধকারে রেখে কাশ্মীরে প্রযোজ্য  ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বাতিলের চমকপ্রদ ঘোষণা করে মোদী সরকার বিরোধীদের জোটবদ্ধ হওয়ার কোন সুযোগই দেয়নি। সংসদে কিছু দল হট্টগোল করলেও বাস্তবে বরং বিরোধীদের একটি বড় অংশের সমর্থন পেয়ে যাওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় কাশ্মীর সংক্রান্ত সব কটি বিলই সরকার একদিনে পাস করিয়ে নিয়েছে। সোমবার রাজ্যসভায় কাশ্মীর রাজ্য পুনর্গঠন বিল নিয়ে ভোটাভুটিতেই স্পষ্ট হয়েছে বিরোধীদের অনৈক্য। রাজ্যসভায় বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১২৫ জন। বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৬১ জন। অথচ লোকসভায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাজ্য সভায় বিজেপি ও তার সহযোগী দলগুলির গরিষ্ঠতা নেই।
তবুও ভোটাভুটিতে দেখা গেছে বিলের পক্ষে এনডিএর দলগুলি ছাড়াও এগিয়ে এসে সমর্থন দিয়েছে আম আদমী পার্টি, বিজু জনতা দল, বহুজন সমাজ পার্টির মতো বিজেপি বিরোধী দরগুলো। এছাড়াও সমর্থ জানিয়ে ভোট দিয়েছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি ও  এআইডিএমকে।  অন্যদিকে বিপক্ষে ভোট দিয়েছে কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই, সিপিআইএম, মুসলিম লিগ, কেরালা কংগ্রেস ও এমডিএমকে। সবচেয়ে মজার হলো, সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও ভোটাভুটিতে অংশ না নিয়ে অনুপস্থিত থেকে সরকারকে পরোক্ষে সহযোগিতাই করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি ও সংযুক্ত জনতা দল। কাশ্মীরের দুই পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যকে সংবিধান ছেঁড়া এবং বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ায় তারা ভোট দিতে পারেন নি। তবে ভোটাভুটির এই অবস্থা ছাড়াও এদিন ৩৭০ ধারার প্রশ্ন কংগ্রেসের মধ্যকার দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে এসেছে। জনার্ধন দ্বিবেদীর মতো প্রবীণ নেতা থেকে শুরু করে দীপেন্দ্র হুডার মতো কংগ্রেসের নবীন নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সমর্থন করেছেন। সেই পথে হেঁটে সমর্থন ঘোষণা করেছেন মিলিন্দ দেওরাও। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ভুবনেশ্বর কলিতা রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ৩৭০ ধারা  নিয়ে দলের অবস্থান মানতে না পারায়।
এদিকে  জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি থমথমে। তবে সরকারের পক্ষে দাবি করা হয়েছে সেখানে শান্তি বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সোমবার রাতেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল কাশ্মীর গিয়েছেন। সোমবার ভোর থেকেই উপত্যকায় মোবাইল, ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় রাজ্য ভাগ, রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের খবর গোটা দেশ জেনে গেলেও কাশ্মীরের মানুষ জেনেছেন অনেক পরে। আধা সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য বিধিনিষেধ থাকায় ঘর থেকে মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পথে নামছেন না বলে মিডিয়ার খবরে জানা গেছে। রবিবার গৃহবন্দি রাখার পর সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, মেহবুবাকে রাখা হয়েছে শ্রীনগরের বাইরে একটি গেস্ট হাউসে। ওমর ও মেহবুবা ছাড়াও গ্রেপ্তার করা হয়েছে কাশ্মীর পিপলস কন্ফারেন্স নেতা সাজ্জাদ লোন ও ইমরান আনসারিকে। রাজ্যের বেশিরভাগ নেতাকেই গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাই ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে তাদের কোনও মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Imon Hussain
৬ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ৭:৫৯

১৯৭১ এ যে ভুল করে পাকিস্তান তাদের পূর্ব পাকিস্তানকে হারিয়েছিল, ঠিক একই ভুল করে মোদি সরকার এবার কাশ্মির হারাবে। সাধারণ জনগনের অধিকার হরন করে, তাদের উপরে স্টিম রোলার চালিয়ে দিয়ে ইয়াহিয়া ভুট্টোরা যেমন নিজেদের পতন ডেকে এনেছিল​, এবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে খোদ ভারতে।

অন্যান্য খবর