× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার
নির্যাতনের বিচার নেই

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে একি কাণ্ড!

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:৩৬

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের এক প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তার অধীন নির্বাহী প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এবং থানায় অভিযোগ দেন ওই নির্বাহী প্রকৌশলী। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। উল্টো ঘটনার শিকার নির্বাহী প্রকৌশলীকে হেনস্থা করার পদক্ষেপ নেয়া হয়। তাকে কারণ দর্শাও নোটিশ এবং চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখানো হয়। নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এখন ওই প্রকৌশলী। একটি চক্র তাকে বিপদে ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা তার। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে ওই কোম্পানিতে।
তবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দাবি বিষয়টি মিটে গেছে।
কোম্পানির ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের (সাউথ) নির্বাহী প্রকৌশলী (পর্ব) এসএম সাইদুজ্জামানের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ই জুলাই সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের (সাউথ) করিডোরে ঢুকে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ওই বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহআলম খান। অকথ্য গালাগাল করে একপর্যায়ে প্রধান প্রকৌশলী সাইদুজ্জামানের ঘাড়ে ও মাথায় আঘাত করে তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রুকন মিয়া ও মো. শাহনেওয়াজ। এরপর তাকে দমিয়ে রাখার জন্য প্রধান প্রকৌশলী ফোনে আরো দুইবার চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটিয়ে তিনি তার বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ হিসেবে অফিসিয়াল নোট ইনিসিয়েট করেন। অন্যদিকে ১৭ই জুলাই সাইদুজ্জামানকে কোম্পানির কৈফিয়ত তলবে বলা হয়- সকাল ৭টায় তার ডিউটি শুরু হয়। কিন্তু ৮টা সময় নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা কন্ট্রোল রুমে গিয়ে তাকে পাননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে ডাইনিং রুমে পাওয়া যায়। ৮টা থেকে ৮টা ১০ মিনিট পর্যন্ত দরজা ধাক্কাধাক্কির পর সাইদুজ্জামান ডাইনিং রুমের দরজা খুলেন এবং সে সময় তার চোখে ঘুমের ছাপ পাওয়া যায়। কর্মরত অবস্থায় কর্মস্থল ছেড়ে অন্যত্র ঘুমানো অসদাচরণ বলে গণ্য উল্লেখ করে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না ৭ দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়। এই কৈফিয়ত তলবে স্বাক্ষর করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপক (এইচআরএম) মোহাম্মদ এনামুল হক।
ওদিকে সাইদুজ্জামান তাকে নির্যাতন করার ঘটনাটি তাৎক্ষণিক মুঠোফোনে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানালে তিনি বিষয়টি আমলে নেননি। এরপর নির্বাহী পরিচালকের (কারিগরি) কাছে সরাসরি নালিশ নিয়ে যান। তিনিও তার অভিযোগ শুনতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে ওইদিন বিকালে আবার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি তাকে বলেন, ‘তোমার নামে যে নোট দিছে তাতে তোমার চাকরি চলে যাবে।’ সাইদুজ্জামান জানান, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এমন আচরণ পেয়ে ওইদিন রাত সাড়ে ১০টায় আশুগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ নিয়ে যান। এরপর ১৭ই জুলাই তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে ১৬ই জুলাই নির্বাহী পরিচালকের (কারিগরি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এসব অভিযোগে ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট সাউথ ও নর্থের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহআলম খানের অধীনে প্রায় এক বছর ধরে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন সাইদুজ্জামান। তিনি অভিযোগ করেন এই সময়ে প্রায়ই মো. শাহআলম খানের খারাপ আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। ১৫ই জুলাই শাহআলম খান তার সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করেন। সাইদুজ্জামানের এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে থানায় দেয়া অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেন কর্তৃপক্ষ। ওই সময় তাকে দেয়া কৈফিয়ত প্রত্যাহার করে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। পরে ৪ঠা আগস্ট কৈফিয়ত প্রত্যাহার করা হয়। সাইদুজ্জামান প্রধান প্রকৌশলীর আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাও গ্রহণ করেন। কোম্পানির মেডিকেল সেন্টার থেকে দেয়া সনদে তিনি শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সেটিই প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কোম্পানির সার্ভিস রুল অনুসারে মিস কনডাক্টের জন্য অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন এবং তার বরখাস্ত হওয়ার কথা ছিল। সাইদুজ্জামান বলেন, তিনি কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যান্টে দায়িত্ব পালন করেন। যেটি বাংলাদেশের সর্র্ব প্রথম অত্যাধুনিক প্রযুক্তির একটি প্ল্যান্ট। এর মেশিন অপারেশনের সঙ্গে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি চক্র তাকে বিপদে ফেলতে পারে এই আশঙ্কা করছেন তিনি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। তবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএএম সাজ্জাদুর রহমান জানিয়েছেন, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। এটা আমরা মিটিয়ে ফেলেছি। আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম জানান, কোম্পানির পরিচালক একেএম ইয়াকুব আলী বিষয়টি সমাধান করে নির্বাহী প্রকৌশলীকে দিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করিয়ে নেন।



অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর