× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার
কোম্পানীগঞ্জে সক্রিয় সিন্ডিকেট

৩০ কোটি টাকার বালু লুটপাট

বাংলারজমিন

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১০ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ৮:১৬

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে চলছে বালু সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব। শুধু দিনে নয়, রাতেও তারা সক্রিয় বালু উত্তোলনে। গত তিন মাসে অন্তত ৩০ কোটি টাকার বালু লুটপাট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর তাদের সহযোগিতা করার অভিযোগ খোদ পুলিশের দিকে। এ কারণে বাড়ছে ক্ষোভও। বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কোম্পানীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদ অভিযোগ করেছেন, ইজারা বহির্ভূত জায়গা থেকে বোমা মেশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি প্রায় ১৫ দিন আগে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হলেও বালু সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব কমছে না। এবার সিলেটে বালু উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয় মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে। নতুনভাবে সৃজন করা ভাটরাই মৌজা নামমাত্র মূল্যে লিজ নিয়ে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আপ্তাব আলী কালা মিয়া বালু উত্তোলন শুরু করেন। সেই থেকে এখনো চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। একটি মৌজা লিজ থাকলেও তিনটি মৌজা থেকে বালু লুটপাট চালানো হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে এখন দিনে কোম্পানীগঞ্জে বালু উত্তোলনের মাত্রা কমে এসেছে। রাতে শতাধিক নৌকা দিয়ে ব্যাঙ্কারের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতি রাতেই বালু উত্তোলনকারী মেশিনের শব্দে ঘুম হারাম স্থানীয়দের। বালুর সঙ্গে লুটপাট করা হচ্ছে পাথরও। আর এই পাথর লুটপাটের কারণে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। এসব বালুর নৌকার থেকে ভূমির মালিক, ইজারা ট্যাক্স ও পুলিশের পক্ষ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসককে দেয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের তথ্যে সূত্রে জানা গেছে কোম্পানীগঞ্জের ভাটরাই, কালাসাদেক ও কালাইরাগ মৌজায় তিনটি বালু মহাল বিদ্যমান রয়েছে। এবার ভাটরাই মৌজার একাংশ লিজ নেয়ার পর সব মৌজা থেকে বালু লুটপাটের মহোৎসব শুরু হয়। প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার বালু লুটপাট করা হচ্ছে। শুধু লিজকৃত বালু মহাল নয়, কালাইরাগ ও কালা সাদেক এলাকায় থাকা দুটি বালু মহালে এখন লুটপাট চলছে। এ দুটি বালু মহাল সরকার লিজ দেয়ার আগেই ভাটরাই মৌজার লিজ গ্রহিতা মোট তিনটি বালু মহাল লুটপাট করে যাচ্ছে। স্থানীয় শ্রমিকদের হিসাব মতে প্রতিদিন ৫০ লাখ টাকার বালু লুটপাট করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ধলাই নদীর উপর স্থাপিত সেতুটি। এই সেতুটি হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের বৃহৎ অংশের চলাচলের মাধ্যম। কিন্তু নদীর পাদদেশ থেকে অবাধে পাথর লুটপাটের ফলে এখন সেতুটির গার্ডার সম্পূর্ণ হুমকির মুখে পড়েছে। এর বাইরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্কুল, বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, সরকারি রাস্তাও হুমকির মুখে রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের বড় হাটবাজার দয়ারবাজার, লিলাইরবাজার ও কুশিঘাট বাজার তিনটি অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। বালু উত্তোলনের ফলে শূন্য হয়ে পড়ছে নদী তীরবর্তী বাজারের নিচ। আর ঢেউয়ের তোড়ে তিনটি বাজারে ইতিমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কালিবাড়ি ও কালাইরাগ এলাকার দুটি খেলার মাঠ ভেঙে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে রেলওয়ের বাঙ্কার এলাকা। এই বাঙ্কার এলাকাটি হচ্ছে সংরক্ষিত সম্পত্তি। কিন্তু বাঙ্কারের পাশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে গোটা বাঙ্কার পড়েছে হুমকির মুখে। বাঙ্কারে থাকা রেলওয়ের সম্পত্তি, যেমন মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। এ ছাড়াও ১০-১২টি গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কে আছে। এই আতঙ্কের কারণ হচ্ছে বালু উত্তোলনের ফলে গ্রামের অধিকাংশ বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পথে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর মধ্য রয়েছে- কালিবাড়ি, কালাইরাগ, মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গ্রাম, ভোলাগঞ্জ আদর্শ গুচ্ছ গ্রাম, বিজিবি ক্যাম্প ও কাস্টমস এলাকা। কলাবাড়ি মাদ্রাসা ও দয়ারবাজার থেকে কালাইরাগ পর্যন্ত এলজিইডির রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পথে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি বন্ধে কোম্পানীগঞ্জের প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। যখনই খবর আসছে অভিযান চালানো হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর