× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার

দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভেড়া দিলেন সমাজসেবক আবদুল মান্নান

শেষের পাতা

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে | ১০ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ৮:২৪

একজন আব্দুল মান্নান আকন্দ। সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে ইতিমধ্যেই বগুড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন। গেল রমজানের শুরুতে তিনি সুবিধাবঞ্চিত স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে রমজানে দুই বেলা ভালোভাবে খাবার জন্য প্রায় আশি লাখ টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। সেই সঙ্গে শতাধিক দরিদ্র শিক্ষার্থীর পরিবারকে দুই বেলা খাবার রান্না করে নিয়মিত খাওয়াচ্ছেন। গতকাল তিনি বগুড়া সদরের ফাঁপোর পল্লীমঙ্গল উচ্চবিদ্যালয়ে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে ওই এলাকার কয়েকটি স্কুলের সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়। সমাজসেবক আব্দুল মান্নান এসব শিক্ষার্থীর হাতে বাংলা, ইংরেজি এবং গণিতের খাতা দ্বিতীয় বারের মতো তুলে দেন। সেই সঙ্গে ২০ জন হতদরিদ্র শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেন ২০টি ভেড়া।
তিনি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে সিলিং ফ্যানও দিয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভাবনা মাথায় জাগ্রত করার প্রয়াস থেকেই এই চিন্তা করেছি। এতে এসব শিক্ষার্থী দরিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে এক সময় আর্থিক ভাবেও দাঁড়িয়ে যাবে। তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

এ ছাড়াও তিনি গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা করে তিনি বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি বগুড়ার ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষার মাঝে তিন ধরনের ৩৬ হাজার খাতা বিতরণ করেছেন। স্কুলে গিয়ে নিজ হাতে তিনি এসব শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছেন। অন্যান্য স্কুলের পাশাপাশি বগুড়ার সরকারি শিশু পরিবারের শিক্ষার্থীদের পাশেও দাঁড়ান সব সময়। সাম্প্রতিক সেখানে তিনি খাতার পাশাপাশি ২০টি পড়ার টেবিল এবং ৪০টি চেয়ার বিতরণ করেন। এসব শিক্ষা উপকরণ হাতে পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা।

আব্দুল মান্নান আকন্দ পেশায় একজন ব্যবসায়ী পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে জরিত। ব্যক্তি উদ্যোগে সামাজিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি মানবজমিনকে জানান, আমি এবং আমার পরিবার একসময় সব ধরনের কষ্ট পেয়েছি। খাবারের কষ্ট, পোশাকের কষ্টসহ সব ধরনেরই কষ্ট এক সময় অনুভব করেছি। ফলে আমি এখনো ছোট বেলার কষ্টের কথাগুলো ভুলতে পারিনি। এখন আল্লাহ আমাকে সামর্থ্য দিয়েছে আমি সেখান থেকে কষ্টে থাকা মানুষগুলোকে কিছুটা কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, সমাজিক কার্যক্রমে আব্দুল মান্নান দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান আছেন, তাদের বেশির ভাগই কিন্তু মানুষের জন্য চিন্তা করেন না। আব্দুল মান্নান আকন্দ মানুষের জন্য যেসব কাজ করছেন তাতে সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অতিসাধরণ মানুষগুলো তার সহযোগিতা পেয়ে মানসিক তৃপ্তি অনুভব করেন। তিনি সমাজের অন্য বিত্তবানদেরকেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন, ফাঁপোড় পল্লীমঙ্গল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু, আবদুল আল মামুন, রাকিব উদ্দিন সিজার।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর