× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার

শোলাকিয়া ঈদ জামাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

বাংলারজমিন

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১১ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৮:২১

গত ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহার জামাতকে ঘিরেও শোলাকিয়া ময়দানে গড়ে তোলা হচ্ছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির জন্য ড্রোন উড়বে শোলাকিয়ার আকাশে। বিজিবি, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, আরআরএফসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য দিয়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানকে। ঈদগাহ ময়দানের বাইরে, ভেতরে ও প্রবেশ পথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জামাতকে সামনে রেখে শহর এবং আশেপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ঈদগাহ ময়দান, আশেপাশের এলাকা এবং অলিগলিসহ মাঠ সংলগ্ন চারপাশের এলাকা নিয়ে আসা হচ্ছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় আওতায়। মাঠে স্থাপন করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার। ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশপথে স্থাপিত আর্চওয়ে দিয়ে মুসল্লিদের ঢুকতে হবে ঈদগাহ ময়দানে।
এর আগে আরো অন্তত কয়েক দফা মেটাল ডিটেক্টরে মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের ছাতা বা কোনো ধরনের ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হবেনা। শুধু পাতলা জায়নামাজ নিয়ে তারা আসতে পারবেন। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে কোন ঝুঁকি দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। শোলাকিয়ার ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ১৯২তম ঈদুল আজহার জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা হিফজুর রহমান খান। শোলাকিয়া ঈদগাহের নিয়মিত ইমাম ইসলাহুল মুসলিহীন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ হজে যাওয়ায় বিকল্প ইমাম হিসেবে মাওলানা হিফজুর রহমান খান জামাতে ইমামতি করবেন।
পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদজামাত অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মাঠের বাইরে, মাঠের ভেতরে ও প্রবেশ পথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মাঠের ভিতর-বাইরে সাদা পোশাকেও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। থাকবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান। সার্বিক প্রস্তুতির বিবেচনায় নির্বিঘ্নে শোলাকিয়ায় মুসল্লিগণ ঈদুল আজহার জামাত আদায় করতে পারবেন বলে পুলিশ সুপার আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রস্তুতি ও সার্বিক অবস্থা সরজমিন পরিদর্শন করেছেন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পাওয়া কিশোগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. নাজমুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদির মিয়া, কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুবকর সিদ্দিকসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঈদগাহ মাঠের নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এবারও সে সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। এছাড়া মাঠের নিরাপত্তায় র‌্যাব, পুলিশসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। সুষ্ঠুভাবে ঈদ জামাত আদায়ের লক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ ফোর্সকে আইনগত দিকনির্দেশনা দেয়াসহ ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য ঈদগাহ মাঠের বিভিন্ন পয়েন্ট ও এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গৃহীত প্রস্তুতির বিবেচনায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে এবারো উৎসবমুখর পরিবেশে সুন্দর ও সুচারুভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদ জামাতে দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ঈদের দিন বাংলাদেশ রেলওয়ে ২টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে। ১২ই আগস্ট সোমবার ঈদুল আজহার দিন ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামের ২টি বিশেষ ট্রেনের একটি সকাল ৬টায় ভৈরব বাজার থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছুবে। জামাত শেষে ট্রেনটি বেলা ১২টায় পুনরায় ভৈরববাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। অপর ট্রেনটি ঈদের দিন সকাল পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছুবে। এ ট্রেনটিও জামাত শেষে বেলা ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
শোলাকিয়ার বৃহত্তম জামাতে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য প্রতিবারই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিগণ ছুটে আসেন। তবে কোরবানির ব্যস্ততার কারণে ঈদুল আজহার জামাতে ঈদুল ফিতরের তুলনায় মুসল্লির সংখ্যা অনেক কম হয়ে থাকে।
১৮২৮ সালে জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একর জমির উপর এ মাঠের গোড়াপত্তন হয়। ওই বছর স্থানীয় সাহেব বাড়ির ঊর্ধ্বতন পুরুষ সৈয়দ আহমদ (র.) এর ইমামতিতে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সে ঈদের জামাতে মুসল্লির সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়া লাখ। এই সোয়া লাখ থেকেই উচ্চারণ বিবর্তনে বর্তমানে ‘শোলাকিয়া’ নামকরণ হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর