× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার

আওয়ামী লীগে আলোচনায় বিশেষ কাউন্সিল

প্রথম পাতা

কাজী সোহাগ | ১১ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৮:৩৯

অক্টোবরে নির্ধারিত ছিলো আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। ৪ কারণে তা এখন অনেকটা অনিশ্চিত। পর পর দুই ঈদ, আগস্ট জুড়ে শোকের মাস, বন্যা ও সর্বশেষ ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। তাই এখন আলোচনা হচ্ছে বিশেষ কাউন্সিল নিয়ে। এর মধ্য দিয়ে অক্টোবরে শেষ হতে যাওয়া দলটির বর্তমান কমিটির মেয়াদ আরো কিছুদিন বাড়ানো হতে পারে। এরপর পরিস্থিতি বুঝে জাকজমকভাবে আয়োজন করা হবে জাতীয় সম্মেলনের। সম্প্রতি এই বিশেষ কাউন্সিল নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে। যদিও শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি,দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় কমিটি এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তাই এখনই বলা যাবে না যে কাউন্সিল হচ্ছে না। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, জাতীয় সম্মেলনের জন্য আমরা প্রস্তুত। অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলন হতে কোন বাধা নেই। এরইমধ্যে কাউন্সিলের জন্য সারাদেশ থেকে যেসব ডেলিগেট আসবেন তাদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় অক্টোবরে যদি কাউন্সিল না হয় তাহলে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়া হতে পারে।

দলের মধ্যে বিশেষ কাউন্সিল নিয়ে যে আলোচনা চলছে সে প্রসঙ্গে তিনি জানান, বন্যার পর থেকেই এ ধরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি বড় দলের কাউন্সিল ঘিরে নানা ধরণের আলোচনা, সমালোচনা, হিসাব-নিকাষ, গবেষণা হবে এটাই তো স্বাভাবিক। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় কমিটি এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলটির সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর। সে হিসেবে আগামী ২৩ অক্টোবর শেষ হচ্ছে তিন বছরের জন্য গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ। প্রতিবার সম্মেলনের আগে গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র হালনাগাদ করা হয়। দলের শীর্ষ কয়েক নেতা জানিয়েছেন,সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কাউন্সিলরদের হালনাগাদ তালিকা, গঠনতন্ত্র সংশোধন ও প্রয়োজনীয় প্রকাশনীর কাজ এখন পর্যন্ত শুরু করা হয়নি। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী বৈঠকে যথাসময়ে অর্থাৎ আগামী অক্টোবরের মধ্যেই সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজও শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেগুলো আর এগোয়নি। শোকের মাস আগস্টে শোকের কর্মসূচি ছাড়া সাংগঠনিক কোনও কর্মকান্ড হয় না। এরপর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নিউইয়র্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফিরবেন সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের প্রথমে। যে কারণে অতি অল্প সময়ে সম্মেলন আয়োজন সম্ভব নাও হতে পারে। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সারা দেশ থেকে সাড়ে ৬ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন। দলের জেলা কমিটির নির্বাচিত নেতারা হলেন জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিলর।

দলের গঠনতন্ত্রে প্রতি ২৫ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একজন কাউন্সিলর নির্বাচনের বিধান আছে। অক্টোবরে সম্মেলন হলে এরই মধ্যে কাউন্সিলরদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে যেত। কিন্তু এখনও সে বার্তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। এছাড়া সম্মেলনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে সাংগঠনিক সফরের জন্য আটটি টিম গঠন করা হয়। ঈদুল ফিতরের আগেই দু’একটি জেলায় সফরেও যান নেতারা। কিন্তু রমজান মাসে সফর বন্ধ হয়ে যায়। যা এখনও পূর্ণাঙ্গরুপে শুরু হয়নি। এছাড়া প্রতিটি সম্মেলনের আগে তৃণমূল তথা ইউনিয়ন, থানা, জেলা পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করে এরপর কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়। এবার হাতে গোনা দু’একটি থানা ছাড়া এখনও কোথাও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোরও সম্মেলন করা হয়। আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ তিন সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগের মধ্যেও কোনও সম্মেলন প্রস্তুতি নেই। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন,অক্টোবরে সম্মেলন না হলে নভেম্বরে করতে হবে। আর কোনো কারণে নভেম্বরে করা না গেলে দুই বছর পিছিয়ে যেতে পারে। যুক্তি হিসেবে তারা বলেন, ডিসেম্বরে ঢাকার দুই সিটিতে ভোট হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে। সে কারণে ডিসেম্বরে সম্মেলন হবে না। অন্যদিকে ২০২০-২১ সাল মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে টানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। এসব কারনে দলটির মধ্যে এখন বিশেষ কাউন্সিল নিয়েই আলোচনা বেশি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর