× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার

সিলেটে শেষ মুহূর্তের অপেক্ষায় ক্রেতারা

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ১১ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ১১:১৬

‘তিন দিন ধরে হাটে ঘুরছি। দাম বেশি। কিনতে পারছি না। ব্যাপারীরা গরুর দাম ছাড়ছেন না।- সিলেটের পশুর হাট কাজিরবাজারে গরু কিনতে আসা আনসার আলী এ কথা বলেন।’- বলছেন- এবার বাজারে গরুর দাম বেশি। এ কারণে দেখা চলছে। কেনা হচ্ছে না। সিলেটের প্রধান পশুর হাট কাজিরবাজারে গতকাল পর্র্যন্ত গরুর দাম কমেনি। সন্ধ্যার পর বাজার কিছুটা স্বাভাবিক ছিল।
এ কারণে বিকিকিনি হয়েছে। গরুর দাম কমছে না কেন প্রশ্ন করা হলে  ব্যাপারীরাই জানিয়েছেন- নিজেদের খামারের গরু। লালন পালনে ব্যয় হয়েছে বেশি। এ কারণে পশুর দাম কমছে না। ব্যাপারীদের মুখে এ কথা শোনা গেলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এবার হাটে ভারতীয় গরু ওঠেনি। নেপালের কিছু গরু আছে। ভারতের গরু নাই বললেই চলে। এ কারণে দাম কমাচ্ছেন না দেশের খামারিরা। সিলেটের কাজিরবাজার পশুর হাটের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন লোলন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- দেশি খামারের প্রচুর গরু বাজারে এসেছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে কম। গতকাল বিকাল পর্যন্ত বিকিকিনি জমে ওঠেনি। তিনি জানান- ভারত থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ গরু সিলেটের বাজারে আনা হয়, এবার সেই গরু নেই। ভারত গরু ছাড়েনি। এ কারনে দেশের গরুই কোরবানির সম্বল। এজন্য বাজারে দাম বেশি। তবে- আজ শেষ দিনে ভালো বিকিকিনির আশা করছেন তিনি। শুধু কাজিরবাজার পশুর হাট নয় অস্থায়ী দুটো হাটের অবস্থাও একই রকম। নগরীর টিলাগড়ের বাজারে গতকাল বিকালে গরু বিকিকিনি শুরু হয়েছে। এর আগ পর্যন্ত ক্রেতা বাজারে থাকলেও বিক্রি হচ্ছিল না। রাতেও ওই হাটে গরু বিক্রি হয়েছে। তবে- গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রাক বোঝাই করে গরু নিয়ে আসা হচ্ছিল সিলেটের বাজারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল থেকে এসব গরু আনা হয়। কাজির বাজারে দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ট্রাক ঢুকে। কাজিরবাজারগামী কিছু কিছু ট্রাক পথিমধ্যে আটকে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যাপারীরা। কুষ্টিয়ার ব্যাপারী মনু মিয়া জানিয়েছেন- সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকায় তার দুই ট্রাক গরু অস্থায়ী হাটে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। জোরপূর্বক ট্রাক থেকে গরু নামিয়ে দেয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া অস্থায়ী ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দুটি হাটেও কাজিরবাজারগামী গরু নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। টুকেরবাজারের সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়কের প্রবেশমুখে গড়ে উঠেছে অবৈধ পশুর হাট। ওই হাটে গত তিন দিন ধরে গরু নামানো হচ্ছে। গতকাল কয়েক ট্রাক গরু এ হাটেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্যাপারীরা অভিযোগ করেন- সড়কের উপর হাট থাকায় পশু নিয়ে গন্তব্যে আসা যাচ্ছে না। ওরা হাটে নামিয়ে দেয়। তবে- অবৈধ হাটের নিয়ন্ত্রকদের দাবি- তারা জোরপূর্বক নয়, বেশি সুবিধা দিয়ে গরু নেয়া হচ্ছে। ব্যাপারীদের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তারা। এদিকে- কার্যত এখন সবখানেই গড়ে তোলা হয়েছে সিলেটে পশুর অবৈধ হাট। সিলেট শহর এবং শহরতলীর অর্ধশতাধিক স্থানে এখন পশুর অবৈধ হাট। এসব হাট নিয়ন্ত্রণ করছে সিন্ডিকেট। পুলিশের পক্ষ থেকে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জোরালো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। সিটি করপোরেশনও এ ব্যাপারে নীরব। পুলিশ বলছে- যেখানেই তারা অভিযোগ পাচ্ছেন সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সিটি করপোরেশন ও বৈধ হাট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা চাইলে তারা দিচ্ছেনও। এদিকে-সিলেটের কাজিরবাজার পশুর হাটে আনা হয়েছে ‘রেড কিং’ নামের বিশাল ষাড়, (৩৮ মণ) প্রায় ১৪০০ শত কেজির এই ষাড়ের দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। সিলেটের কাজিরবাজার পশুর হাটের বর্তমানে সব থেকে বড় ও দামি ষাঁড় এটি বলে দাবি করেছেন রেড কিংয়ের মালিক গোলাম ওয়াহিদ। বৃহস্পতিবার বিকালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার শেখের মহল্লা গ্রামের গোলাম ওয়াহিদের খামার থেকে হাটে নিয়ে আসেন ‘রেড কিং’কে এ সময় বিশাল আকৃতির এই ষাঁড় এক নজর দেখতে হাটে ভিড় জমান মানুষজন। ষাঁড়ের মালিক গোলাম ওয়াহিদ জানান, উচ্চতা ছয় ফুট, লম্বা আট ফুট এবং বুকের মাপ সাড়ে আট ফুট লাল রঙের এই ষাঁড়টি পাকিস্থানি সিন্ধু ও শংকর জাতের মিশ্র। সাড়ে তিন বছর বয়সী ষাঁড়টিকে নিজ খামারে খৈল, ভুসি ও ঘাস খাইয়ে পালন করেছেন তিনি। এবার ঈদে ষাঁড়টি বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে এসেছেন ওয়াহিদ। বিশালাকৃতির ষাঁড়টি দেখার জন্য হাটে ভিড় করেন লোকজন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করার ঘোষণা : পবিত্র ঈদুল আজহায় এ বছরও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল দুপুরে নগর ভবনে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দেন। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এবছরও ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে’। পরিচ্ছন্নতা শাখার সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে সিসিক মেয়র বলেন, ‘আপনাদের সম্মতি নিয়ে আমি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, গতবছরের মতো এবারো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করবো।’ তিনি বলেন, এ বছর সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড এলাকায় মোট ৩০টি  স্থান পশু কোরবানির জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সেখানে প্যান্ডেল, পানিসহ যাবতীয় ব্যবস্থা থাকবে। এজন্য নগরবাসীকে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে মেয়র বলেন, যদি নির্ধারিত স্থানে কোনো কারণে কোরবানি দেয়া সম্ভব না হয় তাহলে যেখানেই করবেন সেখানে পানি কিংবা রক্ত সংরক্ষণে রাখবেন। ড্রেন বা নালায় কোরবানির বর্জ্য না ফেলতেও অনুরোধ জানান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর