× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার

গাবতলীর হাটে বড় গরু বেশি, মাঝারিতে চোখ ক্রেতার

অনলাইন

পিয়াস সরকার | ১১ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৪:৫০
ছবিঃ নাসির উদ্দিন

আমেনা বেগম। বয়স ৩৫। স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ নেই ২ বছর। শুধু জানেন ঢাকায় থাকেন। বিয়ে করেছেন আরেকটা। এক ছেলে সন্তানকে নিয়ে যুদ্ধ তার। ছেলে আমিনুর রহমান পড়ে পঞ্চম শ্রেণীতে। হেরে যাবার পাত্র নন তিনি।
কঠোর পরিশ্রমী হত দরিদ্র আমেনা দেখছেন নতুন স্বপ্ন। আমেনার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার আদিতমারিতে। স্বামী চলে যাবার পর থেকে থাকেন বাবার বাড়িতে। মিলেছে কোন রকম মাথা গোজার ঠাঁই। এখানে তিনি পালন করেন গরু। তার তত্বাবধায়নে বড় হয় দুটি গরু। পরম যতেœ গরু দুটি ৮ মাস ধরে পালন করেছেন তিনি। বিক্রির জন্য দিয়েও দিয়েছেন বড় ভাইয়ের হাতে। ভাইয়ের নাম আসগর আলী। তিনি ধানের ব্যবসা করেন। তবে কুরবানী ঈদে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে ঢাকায় বিক্রি করেন। বড় ভাই রাজধানীতে এনেছেন ১৮টি গরু। তার বোনের গরু দুটিও আছে এখানে। বুধবার থেকে তিনি গাবতলী হাটে। এখন পর্যন্ত ৪টি গরু বিক্রি হয়েছে। তবে অবিক্রিত আছে বোনের গরু দুটি।
তিনি বলেন, বোইনের গুরু দুখ্যান ভালো দামোত বিক্রি হউক। এই গরু দুখ্যান ওর সউগ। ভাতারটা চলি গেইচে। খোঁজ নেয় না। গরু দুখ্যান না বিকাইলে সউগ শ্যাষ হয়া যাইবে ওর।
তিনি আশা করেন, গরু দুটি দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হবে। এতে তার দীর্ঘ দিনের কষ্ট লাঘব হবে। মিলবে সারা বছরের চলার রশদ। এছাড়াও ফের গরু কিনতে চান তার বোন।
আজগর আলীর মতো অনেক বিক্রেতা গরু বিক্রির অপেক্ষা থাকলেও গতকাল গাবতলী হাটে ক্রেতার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। তবে বিকালে এ সংখ্যা বাড়ে।
মিরপুর- ১‘র শাড়ি ব্যবসায়ী ইকরামুল ইসলাম এসেছেন গরু কিনতে। সকাল থেকেই শুধু দেখেই যাচ্ছেন গরু। আর ক্রেতা কম থাকায় রীতিমতো শুরু হয় ডাকাডাকি। তিনি হাটের এমাথা থেকে ওমাথা শুধুই দাম জিজ্ঞাসা করে গেলেন। তার ছেলে পছন্দের গরুর ছবি তুলে রাখছেন। তবে দাম শুধু শুনেই গেলেন। কোন দাম বললেন না। এরপর কিছুসময় বিশ্রামের পর সড়কের ধারে বসলেন চায়ের দোকানে। তার সঙ্গে রয়েছেন আরো ৪ জন। তিনি গরু কিনবেন ৩টা।
নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলেন। এরপর শুরু করলেন পছন্দের গরুর দামাদামি। ২ টি গরু কিনেন ১ লাখ করে। আর একটি  ৭৫ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, এবারের গরুর দাম বেশি। ১ লাখ করে করে কেনা গরু দেখিয়ে বললেন, এর আগের ঈদে এই গরু পাওয়া গেছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। আর ৭৫ হাজার টাকার গরুটি এবার নিতে হয়েছে ২০ হাজার টাকা বেশিতে। হাটে বেশ সতর্ক ব্যাবসায়ীরা। তারা বেশ সময় নিয়ে গুণে নিলেন টাকা। একই টাকা গুনে আবার আরেকজন ব্যবসায়ী ফের পরখ করায় ব্যস্ত। কথা হয় গরু ব্যবসায়ী সবুজ মিয়ার সঙ্গে। তিনি এসেছেন কুষ্টিয়া থেকে। ২ জন ব্যবসায়ী নিয়ে এসেছেন ২৩ টি গরু। ৬দিন ধরে তারা এই হাটে। বিক্রি হয়েছে তাদের ৫টি গরু। সবুজ মিয়া জানান, এখনো মানুষ অধিকাংশই দেখছেন। কিনছেন না। শুক্রবার তার বিক্রি হয়েছে ৪টি গরু। আর গতকাল বিক্রি হলো ১টি গরু। তিনি গরুর দামে সন্তুষ্ট। আশা করছেন গতবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন। তিনি আরো জানান, গতবার তিনি নিয়ে এসেছিলেন ৩০টা গরু। ৮টি গরু ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট গরুর চাহিদা বেশি। আবার ছোট গরুর চাহিদা থাকলেও তুলনামূলক ছোট গরু কম। একাধিক ক্রেতা জানান, তারা গরু খুঁজছেন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। কথা হয় গরু ব্যবসায়ী মিয়া আলীর সঙ্গে। তিনি এসেছেন জামালপুর থেকে। তিনি বলেন, আমি গরু নিয়ে এসেছি ১২ টা। এরমধ্যে ছোট গরু ছিলো ৪টা। ৪টাই বিক্রি হয়েছে। ২টা ৬০ হাজার, আর ২টা ৫০ ও ৪৫ হাজার টাকায়। রাজধানীবাসী গরুর পর বেশি কোরবানী করেন ছাগল। ছাগলের বাজারে গরুর থেকে ক্রেতা বেশি। এই বাজারেও দাম নিয়ে অসন্তুষ্টি দেখা মেলে। তবে এই বাজারে মানুষ খুঁজছেন একটু বড় ছাগল। বাজারে অধিকাংশ ছাগল মাঝারি আকারের। দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। যেগুলো বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়। আর ছোট ছোট ছাগলের দাম পড়ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। কালো ছাগলে ছেয়ে গেছে বাজার। তবে অন্য রংয়ের ছাগলের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বেশি মানুষ।
আশরাফুল ইসলাম। বাড়ি তার নোয়াখালীতে। কাজ করেন একটি বেসবরকারি প্রতিষ্ঠানে। প্রতিবছর বাবা মায়ের সঙ্গে ঈদ করেন বাড়িতে। তবে বাবা-মা হজে যাবার কারণে রাজধানীতে ঈদ করছেন তিনি। আবার সদ্য বিবাহিত আশরাফুল বলেন, গরু প্রতিবার কোরবানি দেয়া হয়। এবার বাবা-মা না থাকায় ছাগল কিনবো গরুর থেকে ছাগলে কোরবানি দেয়ায় সময় সাশ্রয় হয় বেশ। থাকা যায় ভেজালমুক্ত।
এ হাটে আসা ‘খান বাহাদুর’ নামের একটি গরুর দাম হাঁকানো হচ্ছে ১৮ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত বলা হয়েছে। তবে দেননি গরুটির মালিক ওয়ালী খান। এই গরুটির সঙ্গে দেয়া হবে একটি কাশ্মিরি ছাগল বিনামূল্যে। আবার লালু, কালু, সম্রাটের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। লালু এসেছে মানিকগঞ্জ থেকে। দাম বলা হয়েছে ৮ লাখ। কালু পালিত হয়েছে সিরাজগঞ্জে। তার দাম বলা হয়েছে ৬ লাখ। আর সম্রাটের দাম ৫ লাখ। আবার বাহারি এক গরু নজর কাড়ছে সবার। গরুর নাম বডি বিল্ডার। নামের সঙ্গে মিল আছে গরুর আকারের। ছোট আকারের সাদা গরুটির গায়ে যেন মাংস একে দেয়া হয়েছে। আর প্রিন্স ও আলিশান নামে দুটি গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা করে। এগুলোর দাম বলা হয়েছে ১২ ও ১৫ লাখ টাকা।
আর ১২ থেকে ১০ লাখ টাকা করে চাওয়া হচ্ছে বেশ কয়েকটি গরুর। এগুলোর নাম প্রিন্স, যোদ্ধা, রক্ত, নিশান, ডরা ইত্যাদি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
১১ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৭:৫৮

The price is unusual in consideration of weight.

অন্যান্য খবর