× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
সরজমিন বাংলাদেশ মেডিকেল

ভিন্ন চিত্র, বিপাকে স্বজনরা

এক্সক্লুসিভ

পিয়াস সরকার | ১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ৮:০৬

রাজধানী জুড়ে ঈদ আমেজ। নিত্যদিনের সঙ্গী যানজটের দেখা নেই। নেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু ভিন্ন চিত্র বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভিড়। ঈদের দিনেও এখানে ভর্তি হয়েছিলেন ৬৯ জন রোগী। আর গতকাল এই হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৬ জন। গত বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয় এক রোগীর। তিনি আইসিইউ-৪ এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে ঈদের এই ছুটিতে বেশ বিপাকে পড়েছেন রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনরা। ধানমন্ডির এ হাসপাতালের আশেপাশের সকল খাবার হোটেল বন্ধ। তাদের খাবার জন্য যেতে হচ্ছে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড। সেখানে খোলা রয়েছে দু’একটি হোটেল। তবে সেসব হোটেলে উচ্চমূল্যের কারণে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন তারা।

ঈশিতা রহমান। বয়স ৩২। এক সন্তানের জননী। ৮ই আগস্ট তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। প্রথমে চিকিৎসা নেন নিজ এলাকা মানিকগঞ্জে। এরপর চলে আসেন রাজধানীতে। ভর্তি হন এই হাসপাতালে। তার স্বামী সিদ্দুকুর রহমান বলেন, আশেপাশে কোন খাবারের হোটেল খোলা নেই। খেতে তো হবেই তাই যেতে হচ্ছে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে কিংবা ঝিগাতলায়। আর দুই স্থানেই খাবারে অনেক দাম। সেখানে পাওয়া যায় না ডিম, ভর্তা, শাক, সবজি। খেতে হয় মাছ কিংবা মাংস দিয়ে। আর তাতে খরচ হয়ে যায় প্রায় দেড়শ টাকা। আবার আমার স্ত্রীর সঙ্গে থাকা বোনের জন্যে নিয়ে আসতে হয় খাবার। ঈদের আগে নিচেই ছিলো প্রায় ৪টি ভ্রাম্যমাণ হোটেল। তিনি আরো বলেন, ৪ বছরের ছোট বাচ্চাটাকে নানা বাড়ি রেখে এসেছি। সেখানেই ঈদ করেছে। ঈদের দিন সন্ধ্যায় মামার সঙ্গে হাসপাতালে দেখতে আসে মাকে। আর সঙ্গে আনে খাবার। ঈদের দিন খাবার না আনলে হয়ত ভাত না খেয়েই থাকতে হতো।
নন পেয়িং শিশু ওয়ার্ড। সেখানে গিয়ে দেখা মেলে খেলনা নিয়ে খেলা করছে ছোট আরিফ। বয়স সাড়ে তিন বছর। ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ঈদের দিন থেকে। আরিফের বাড়ি নরসিংদীতে। ঈদের আগে থেকেই আরিফ ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলো। কিন্তু ঈদের দিন শরীর খারাপ হওয়ায় আর ঝুঁকি নেননি। রাজধানীতে নিয়ে এসে ভর্তি করান সেদিনই। তার বাবা নিজামুল করিম। তিনি বলেন, আমার ছেলের চিন্তায় আছি। বাচ্চাটা কয়েক মাস আগে গাছ থেকে পড়ে পায়ে ব্যথা পায়। আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলো। সারাদিন কান্নাকাটি করে। কাতরায়। তবে শারীরিক অবস্থা ভালো। প্লাটিলেট খুব একটা কমেনি।

তার বাবা বলেন, ডাক্তার নার্সদের সেবায় খুশি। তবে খাবারের কষ্টটা খুব। ঈদের পরদিন খাবারের জন্য ছুটে বেরিয়েছি এপাশ ওপাশ। শেষে ঝিগাতলায় গিয়ে একটি হোটেল খোলা পাই। আর এই হোটেলে এতো ভিড় ছিলো যে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে খেতে হয়েছে। আর ওর মায়ের খাবার নেবার জন্যেও দাঁড়াতে হয় বেশ কিছু সময়। আর প্রতিবেলায় দু’জনের খাবারের জন্য খরচ হয় প্রায় ৩শ’ টাকা।

হাসপাতালের বেশ কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- প্রায় সবাই খাবারের কষ্টে ভুগছেন। আর অধিকাংশ রোগীই মূলত ঢাকার আশেপাশের জেলা থেকে আগত। আর প্রত্যেকেই ডাক্তারদের সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
আইসিইউ’তে ভর্তি ছিলেন মো. ফারুক। গতকাল আইসিইউ থেকে নেয়া হয় সাধারণ ওয়ার্ডে। বয়স ৭০। তিনি এসেছেন গাজীপুর থেকে। তার ছেলের গাজীপুরে আছে একটি মোটর সাইকেলের শোরুম। নাম মো. আকাশ। তিনি বলেন, বাবাকে নিয়ে এখানে ৬ দিন ধরে আছি। প্রতিনিয়ত প্রয়োজন হচ্ছে টাকার। কিন্তু ঈদের কারণে বন্ধ অধিকাংশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকান। একবার দোকান খুঁজতে খুঁজতে যেতে হয়েছিলো শ্যামলীতে। সেখানেও বিপত্তি। কোন দোকান খোলা না থাকায় দিতে হয়েছে হাজারে ১০ টাকা করে বেশি। আর খাবারের সমস্যাতো আছেই।

রোগীদের সঙ্গে হাসপাতালে ঈদ কাটিয়েছেন চিকিৎসক, সেবিকা  হাসপাতালের কর্মকর্তারও। হাসাপাতালের ফটকে কথা হয় পাহাড়াদার মমিনুল রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, হাসপাতালের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তার স্ত্রী সন্তানদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে তিনি একাই রয়ে গেছেন রাজধানীতে।
আর নার্সিং সুপারভাইজার আশা বেগম জানান, তারা যেকোন এক ঈদে ছুটি পান। কিন্তু এবারের ঈদে যাদের ছুটি ছিলো তারা বঞ্চিত হয়েছেন। সেবিকা আলো ইসলামের ঈদের অভিজ্ঞতাটা ভিন্ন। বিয়ের পর এই প্রথম ঈদে যাবার কথা ছিলো শ্বশুর বাড়ি বরগুনায়। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, আমার কারণে আমার স্বামীও ঢাকায় ঈদ করেছেন। আমার বাবা-মা ছাড়া আগেও ঈদ করেছি। তবে এটাই ছিলো তার বাবা-মা ছাড়া প্রথম ঈদ। তবে কোন কষ্ট নেই। এটাই আমার কাজ। রোগীদের সেবা কারাটাই আমার আনন্দ। আমার বাবা-মা বোঝেন। আর কোন কথার সম্মুখীন হতে হয়নি শ্বশুর বাড়ি থেকেও।

ডাক্তার আহসান কবির বলেন, হাসপাতালে অন্য রোগীর চাপ নেই। আর ডেঙ্গু ছাড়া রোগী আছেন অনেক কম। আর যারা ভর্তি হচ্ছেন অধিকাংশই ডেঙ্গু রোগী। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে তাদের সেবা করবার চেষ্টা করছি। আর এটাই আমাদের ঈদ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর