× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

সিলেটে ফেলে দেয়া ২০ ট্রাক চামড়া নিয়ে সংকট, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

এক্সক্লুসিভ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ৮:০৮

সিলেটে ফেলে দেয়া ২০ ট্রাক চামড়া নিয়ে নয়া সংকট দেখা দিয়েছে। এসব চামড়া থেকে এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ময়লা সরিয়ে সেগুলো পুঁতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। এখন ওই ময়লা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সিলেট নগরীর পারাইরচক এলাকায় হচ্ছে সিটি করপোরেশনের ময়লা ডাম্পিংয়ের স্থান। গোটা শহরের ময়লা প্রতিদিন ওখানেই ডাম্পিং করা হয়। ডাম্পিংয়ের পাশ দিয়েই সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এমনিতেই সব সময় দুর্গন্ধ ছড়ায় ওই ডাম্পিং। গত দুই দিন থেকে ডাম্পিং এরিয়া থেকে বেশি পরিমাণ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে করে পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, এখন প্রায় দুই কি.মি এলাকা পর্যন্ত মাংস পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এবার সিটি করপোরেশন থেকে বিপুল পরিমাণ চামড়া এনে এখানে ডাম্পিং করা হয়। এরপর সেগুলো পচে এই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের হিসাব মতে, ঈদের দিন রাত থেকে পরদিন বিকাল পর্যন্ত তারা প্রায় ২০ ট্রাক চামড়া ফেলেছেন ওই ডাম্পিংয়ে। এর বাইরেও বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকযোগে এনে খোলা স্থানে অনেকেই চামড়া ফেলে যান। এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছে সিটি করপোরেশন। চামড়া নিয়ে এবারের তিক্ত অভিজ্ঞতা সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর। ঈদের আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটের সব বর্জ্য অপসারণ করবেন। এ কারণে ঈদের দিন দুপুর থেকে তিনি নগরীতে প্রায় ১২শ’ শ্রমিক নিয়োগ করেন। এসব শ্রমিক বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যার পর থেকে বদলে যেতে থাকে সিলেট নগরীর পরিবেশ। বর্জ্যের পাশাপাশি চামড়াও পাওয়া যায় রাস্তায়। এসব চামড়া নিয়ে দোটানায় পড়েন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। কী করবে এই চামড়া, এ সিদ্ধান্ত চাওয়া হয় মেয়রের কাছে। রাত ১০টার দিকে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিজেও ছুটে আসেন নগরীর সুরমা মার্কেট ও রেজিস্ট্রারি ময়দান এলাকায়। সেখানে এসে তিনি দেখেন রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে চামড়া। এসব চামড়া থেকে দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে। মানবজমিনকে মেয়র জানান, সবাই বিক্রির জন্য এখানে চামড়া এনেছিলেন। কিন্তু দাম পাননি। এ কারণে ক্ষোভে তারা এই চামড়া রাস্তায় ফেলে যান। পরে নির্দেশ দেন চামড়া ময়লার গাড়িতে তোলার জন্য। রেজিস্ট্রারি মাঠ, সুরমা মার্কেট পয়েন্ট এলাকায় যখন মেয়র দাঁড়িয়ে চামড়া অপসারণ তদারকি করছিলেন তখন তিনি দেখেন পাশের কীন ব্রিজের উপর পুরোটাই চামড়ার স্তূপ। চামড়ার কারণে কীন ব্রিজে যানবাহন চলাচল করতে পারছিল না। তার চোখের সামনে অনেকে এসে নদীতে চামড়া ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি দৌড়ে গিয়ে বারণ করেন। বলেন, চামড়া রাস্তায় ফেলে দেন। সিটি করপোরেশনের শ্রমিকরা সরাবে। তার অনুরোধ রাখেন অনেকেই। রাস্তায় চামড়া ফেলে দেন। ভোররাত পর্যন্ত গাড়িযোগে এনে চামড়া ফেলে যান বলে জানান তিনি। আর সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা এসব চামড়া ময়লার গাড়িতে তুলে ডাম্পিং এরিয়া পারাইরচকে নিয়ে যান। মেয়র জানালেন, সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরও এসব চামড়া নিয়ে বিপত্তি দেখা দেয়। পরে তিনি নির্দেশ দেন চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে। কিন্তু ওখানে তো আর মাটি নেই। ময়লার ভাগাড়। যতটুকু পারা গেছে ময়লা সরিয়ে তার নিচে রাখা হয়েছে চামড়ার স্তূপ। তবে, ফেলে দেয়া চামড়া থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কথা নয় বলে জানান মেয়র। সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির বাইরেও সিলেট জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে এনে চামড়া ফেলে দেয়া হয়েছিল ওই ভাগাড়ে। সেগুলো খোলা জায়গা ফেলে দেয়া হতে পারে। এ কারণে ছড়াতে পারে দুর্গন্ধ। তবে সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানান তিনি। এদিকে সিলেটে চামড়া নিয়ে নিয়ে এবার ক্ষোভের অন্ত নেই। দাম না পাওয়ার কারণে চামড়া ফেলে দেয়া হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় চামড়া মাটির গর্তে পুঁতে ফেলা হয়েছে। তবে সুরমা কিংবা কুশিয়ারা নদীতে ক্ষোভে অনেকেই চামড়া ফেলে দিয়েছেন বলে খবর এসেছে। এ কারণে নদীর পানিও দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর