× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুর ভরাট করা সেই মার্কেট উচ্ছেদ

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, ৮:৫৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুর ভরাট করে বানানো আলোচিত সেই সুপার মার্কেট উচ্ছেদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর কয়েক ঘণ্টা ধরে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুজ্জামান এবং ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা হচ্ছেন- মো. মনিরুজ্জামান, তনিমা আফ্রাদ, মো. জুবায়ের হোসেন, সাফফাত আরা সাঈদ ও প্রশান্ত বৈদ্য। পুলিশ ছাড়াও র‌্যাবের একটি দল উপস্থিত ছিল অভিযান চলাকালে। এ সময় শহরের কোর্ট রোড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। উচ্ছেদ প্রত্যক্ষ করতে শত শত সাধারণ মানুষ সেখানে ভিড় জমান। শহরের কোর্ট রোড এলাকার গোলাপ রেস্ট হাউজ সংলগ্ন ওই পুকুরটি একটি প্রভাবশালী পরিবারের লোকজন গত এক মাস ধরে ভরাট করে। এরপর সেখানে মার্কেট গড়ে তোলে। কিন্তু প্রশাসন কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে এই ভরাট ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। রাতের অন্ধকারে সেখানে ট্রাকটরে করে বালু এনে ফেলা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরও অসহায় হয়ে পড়ে তাদের কাছে। মোট কথা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়েই ভরাট কাজ সম্পন্ন করা হয়। উচ্ছেদ চলাকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামসুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, রাতের আঁধারে বালু ফেলে একটি পুকুর ভরাট করে সেখানে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি ভরাটকারীদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। তারা প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করবেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু তারা প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেন। তাদের এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জায়গাটিকে পূর্বের অবস্থায় আনা হবে। পাশাপাশি বালু অপসারণের ব্যবস্থাও করা হবে। এদিকে ৭৬ শতক আয়তনের এই পুকুরের মালিকানা নিয়েও কথা রয়েছে। ভূমির আগেকার রেকর্ড অনুসারে এটি দেবোত্তর সম্পত্তি বলে জানা যায়। কিন্তু হাল রেকর্ডে এর মালিকানা হয়ে যায় শহরের পৈরতলার বজলুর রহমানের ছেলে আনিসুর রহমান আনিস, ফারুক আহমেদ ও গোলাপ মিয়াসহ তাদের ৪ ভাইয়ের নামে। এক বছর আগে পুকুর থাকা অবস্থাতেই তারা শ্রেণি  পরিবর্তন করে কাগজপত্রে এটিকে ভিটি বানিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দলিলপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ১৯৯৭ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি মাঠ জরিপের ভিপি খতিয়ান ২২০ অনুসারে ৩৭৭১ দাগে ৩৭ দশমিক ২৫ শতক এবং এসএ দাগ ১৯৭২ ও বিএস ৩৭৫৬ দাগে ১৭ দশমিক ৫৬ শতক জায়গায় পুকুর রয়েছে। জেলা শহরের কান্দিপাড়ার প্রয়াত আনন্দ বাবু ও রাধিকা মোহন ১১৩৬ নম্বর সিএস খতিয়ানের ১১৪২ সিএস দাগে ৫২ দশমিক ৭৫ শতক জায়গা রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ মন্দিরের নামে দান করেন। ১০৬৪ ও ১০৬৫ নম্বর খতিয়ানের ১৯৭২ এসএ দাগে পুকুরের ৫২ দশমিক ৭৫ শতক জায়গা মন্দিরের পক্ষে সেবায়েত রেবতী মোহন চৌধুরীর নামে লিপিবদ্ধ করা হয়। রেবতী মোহন চৌধুরী পরলোকগমন করার পর তার নাতি আশীষ কুমার চৌধুরী সেবায়েতের দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু প্রভাবশালীরা পুরো পুকুরই ভরাট করেন। এদিকে পুকুর ভরাট করে নির্মাণকাজে বাধা দেয়ায় ওই পুকুর সংলগ্ন এলাকার অমরেন্দ্রনাথ লাল রায়সহ ১১জন ব্যবসায়ীকে গত ২৯শে জুন গোলাপ ও জাহাঙ্গীরসহ তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয় দেখায়। যেকোনো সময় জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেয়ার হুমকি দেয়। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৪৪ ধারা জারি করার জন্য আবেদন করেন ওই ব্যবসায়ীরা। পুকুর ভরাট করার বিষয়ে সোমবার দৈনিক মানবজমিনে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এরপরই মঙ্গলবার এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর