× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

‘গ্রেনেড হামলায় বিএনপি-জামায়াত সরকারের পৃষ্টপোষকতা ছিল’

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, ৯:২২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একুশে আগস্টের ভয়াল গ্রেনেড হামলা তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের পৃষ্টপোষকতায় হয়েছে। তখন খালেদা জিয়াই কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বাবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিল, সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার দায়িত্ব তো অস্বীকার কেউ করতে পারে না।
বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরণে এই সভা আয়োজন করা হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।  
শেখ হাসিনা বলেন, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা সে সময়ের সরকারের পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল। সেদিন আমি ওই এলাকা ছেড়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় লাঠিচার্জ। সিটি করপোরেশনের গাড়ি এনে পানি দিয়ে আলামত মুছে ফেলা হয়। আমি জানতে পেরে নানককে বলি,আলামত নষ্ট করছে,তোমরা ওখানে যাও। আমাদের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে গ্রেনেড হামলার স্থানগুলোতে লাল পতাকা পুঁতে আলামত রক্ষার চেষ্টা করে। অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছিল। সেটি সেনা অফিসার নিয়ে যায়, সে সেটা রাখতে চেয়েছিল বলে চাকরি হারায়। কোনও আলামত না রাখার চেষ্টা তারা করেছিল। দলীয় প্রচেষ্টায় আলামত রক্ষা করার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরাই রক্ষা করার চেষ্টা করি কিন্তু সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোন তৎপরতা ছিল না। যেখানে এতো বড় একটা এক্সিডেন্ট হয়ে গেছে। তার মানে এই ঘটনার যাতে কোন আলামত না থাকে, সেই চেষ্টাটাই কিন্তু তারা করেছিল। জনমতের চাপে একজন হাইকোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে একটা তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই তদন্ত কমিটির যা রিপোর্ট সেটা তো তাদের ফরমায়েশি রিপোর্ট। সেখানে একটা সাধারণ মানুষ ধরে নিয়ে এসে তাকে (জজ মিয়া) আসামি করা হয়। সে নাকি এই আক্রমনটার ব্যবস্থা করেছিল, সেই নাকি এই ষড়যন্ত্রের হোতা। তখন এই জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়। এখন আস্তে আস্তে সবই বেরোচ্ছে। কিভাবে এই জজ মিয়াকে নিয়ে আসে। কিভাবে তার উপর টর্চার করে তাকে দিয়ে স্বীকার করায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জজ মিয়া তো গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ সে এতো গ্রেনেড কোথা থেকে কিনবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা অনেক কিছু বের করে এনেছেন। এটিও বের করতে পারেন-খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ধানমন্ডির ৫ নম্বরে তার শ্বশুরবাড়িতে আগের ১০ মাস থাকতো। ঠিক ১লা আগস্ট ক্যান্টনমেন্টের বাসায় কেন চলে যায়? এ সময় ওখানে বসে বসে তার কাজ কী ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, ওই দিন বাসায় পৌঁছে আমি সবার খোঁজ নেয়া শুরু করলাম। আহতদের উদ্ধার করতে কাউকে আসতে দেয়া হয়নি। ঢাকা মেডিক্যালে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা হাসপাতাল থেকে চলে গিয়েছিল। আমাদের যারা সমর্থক তারাই সেদিন কাজ করেছে, আমাদের লোকজন রক্ত দিয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি, সারা ঢাকা শহরের হাসপাতালের খোঁজ নিয়েছি। আমি খুঁজে খুঁজে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। পরে বিদেশে পাঠিয়েছি। শান্তিনগরের ক্লিনিকে সাহারা আপাকে খুঁজে পেলাম।
তিনি বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বেঁচে থাকার কথা নয়। ওরা ভাবেনি যে বেঁচে থাকবো। অনেক ছোট ছোট ঘটনা আমি জানি। যারা হামলা করেছে তারা এক জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে ফোন করেছে যে আমি মারা গেছি কী না। তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা দুজন যে মারা গেল তাদের খবর কেউ নেয়নি, লাশও কেউ নেয়নি। যাই হোক আল্লাহর মাইর বলে দুনিয়ায় একটা কথা আছে। মানুষ বোঝে না, আল্লাহর শক্তি কত। যে অভিশাপ আমার জন্য দিয়েছিল, সেটা তার কপালেই জুটে গেছে। এটা হল বাস্তবতা। তবে তদন্ত করা হয়েছে এবং সেই তদন্তের মধ্য দিয়ে যারা আসামী তারা শাস্তি পেয়েছে। তবে এখানে ঠিক, খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়নি। তার যে সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব রয়েছে, এটা তো অস্বীকার করা যায় না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর