× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

মশক নিধনে সিসিকের বাজেটে বরাদ্দ নেই

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ২৬ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, ৯:০১

সিলেটে মশক নিধন নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই। পর্যাপ্ত ওষুধের অভাব। ফগার মেশিন চালানোর মতো দক্ষ জনবল নেই। ওষুধ নিয়েও আছে প্রশ্ন। ওষুধ ছিটানো নিয়ে খোদ কাউন্সিলররা ক্ষুব্ধ। এ অবস্থায় মশক নিধন নিয়ে তামাশা করলেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল তিনি সিটি করপোরেশনের ঘোষিত বাজেটে মশক নিধনের জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ রাখলেন না। এ নিয়ে হতবাক সিলেটের সুধীজন ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। এই মুহূর্তের ‘বার্নি ইস্যু’ মশক নিধন। মেয়র আরিফ কেন এই ইস্যুটিকে পাশ কাটিয়ে গেলেন প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র জানালেন- মশক নিধনে যখন যা করা প্রয়োজন তখন তাই করবেন। এ কারণে তিনি বিষয়টি বাজেটে উল্লেখ করেননি। ২০০২ সালে জন্মের পর থেকে সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে যতবার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে ততবারই বাজেটে মশক নিধনের জন্য আলাদা বাজেট রাখা হয়েছে। যদিও এ বাজেটের পরিমাণ খুবই সামান্য। এই সামান্য বাজেটও সিলেটে মশক নিধনে ব্যবহার করা হয়নি। গত বারের ওষুধ অব্যবহৃত ছিল। এবার সেটি ব্যবহার করা হয়েছে। ডেঙ্গু আতঙ্কের মধ্যে সিলেটে মশক নিধন নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এবার ডেঙ্গুর উপদ্রব শুরু হলে তিনি সিলেটের মানুষকে সচেতন করার অভিযান অর্ধেকে রেখে চলে গিয়েছিলেন ঢাকায়। ওই সময় মশার ওষুধ ছিটানো নিয়ে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। কয়েকজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন থেকে দুটি ফগার মেশিন ও একটি স্প্রে মেশিন দিয়ে একটি ওয়ার্ডে একদিনের অভিযান পরিচালনা করা হয়। যেসব ফগার মেশিন দেয়া হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ছিল অকেজো। এছাড়া মশার উৎপত্তিস্থল খুঁজে খুঁজে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়নি। বরং জনস্বাস্থ্যর জন্য হুমকি স্বরূপ পদ্ধতিতে মশার ওষুধ স্প্রে করা হয়। সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার তিনটি ওয়ার্ড এডিশ মশার অভয়ারণ্য। বারবার দক্ষিণ সুরমায় এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তেমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে শেষ মুহূর্তে লার্ভা পাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গত সপ্তাহে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মশক নিধনের জন্য মাত্র ৫ লাখ টাকার ওষুধ ক্রয় করা হয়েছিল। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কেনা ওষুধ ওই বছর প্রয়োগ করা হয়নি। এ কারণে ওষুধগুলোর বেশির ভাগই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। এবার ডেঙ্গুর উপদ্রব শুরু হওয়ায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আরো ২৫ লাখ টাকার ওষুধ ক্রয় করা হয়। দুই বছরের ওষুধ মিলিয়ে এবার স্প্রে করা হয়। এদিকে ফগার মেশিন পরিচালনার জন্য সিটি করপোরেশনে মাত্র দু’জন দক্ষ কর্মী রয়েছে। এবার স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আরো ১০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ দিলেও অর্ধেকের বেশি অদক্ষ কর্মী দিয়ে এবার নগরীতে ফগার মেশিনে ওষুধ স্প্রে করা হয়। এ কারণে অনেক ফগার মেশিন নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে সিটি করপোরেশনে ৫৭টি ফগার মেশিন রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মশক নিধনের জন্য এসব ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ মেশিন নষ্ট থাকায় লোক দেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কাউন্সিলর। তবে কাজ করছে ১০০টি স্প্রে মেশিন। ওইগুলো দিয়ে মশক নিধন করা হচ্ছে। মশক নিধন কার্যক্রমে গড়িমসি এবং বাজেটে টাকা বরাদ্দ না রাখা নিয়ে অন্ধকারে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাকে কিছু বলা হয়নি। তবে তিনি যখন যা চাচ্ছেন তাই পাচ্ছেন বলে জানান। সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশনে মন্ত্রণালয় থেকে ৫০ লাখ টাকার একটি বাজেট এসেছে। এর বাইরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এক বছরের জন্য কর্মপরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনের কাছে। গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি এসে পৌঁছেছে। করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, খুব শিগগিরই তারা এ ব্যাপারে একটি কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। সরকার থেকে আলাদা বরাদ্দ আসতে পারে।



অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর