× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

ইমেইলে হুমকিদাতা গ্রেপ্তার, তদন্তে গোয়েন্দারা

দেশ বিদেশ

রুদ্র মিজান | ২৬ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, ৯:০৫

পরপর দুটি ইমেইল। জানানো হয়, বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া হবে হাসপাতাল, স্কুল। আতঙ্কিত সবাই। অবগত করা হয় মিরপুর থানা পুলিশকে। বিষয়টি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অবগত করা হয় ঢাকা মেট্টোপলিটন কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াকে। হাসপাতাল ও স্কুলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বাড়ানো হয় গোয়েন্দা তৎপরতাও। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সিটিটিসি’র সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ। অবশেষে গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ে মেইলদাতা। তার নাম এ কে এম আল আমিন (৪৪)। ধারণা করা হচ্ছে, তার সঙ্গে দুষ্কৃতিকারীদের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে রোববার দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

গত শনিবার বিকালে ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল নিশাত বাদি হয়ে মিরপুর থানার মামলা করেছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২১শে আগস্ট রাতে মিরপুরের কিডনি হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের পরিচালকের ইমেইলে একটি বার্তা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ‘আগামী ২৫শে আগস্ট আপনার হাসপাতালে জঙ্গি হামলা হবে। আমি আপনার শুভাকাঙ্খী হিসাবে মেসেজ পাঠালাম। এতে আপনার কর্মচারী জড়িত আছে। আপনি এখনি পুলিশকে জানিয়ে রাখুন।’ একই ইমেইল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি ইমেইলে জানানো হয়, ‘স্যার ঢাকায় অনেক স্কুলে আগামী ২৬শে আগস্ট থেকে কিছু অসৎ লোক একসাথে বোমা হামলা করতে পারে। আপনি এই কোমলমতি শিশুদের বাঁচান। আমি তাদের একজন। আমার বিবেক মানেনাই বলে আমি আপনাকেই মেইল করে জানালাম। এই ইমেইল নাম্বারটি আমার এক বড় ভাইয়ের। সে হামলা সম্মন্ধে কিছু জানেনা। স্যার হয়ত তারা জানলে আমাকে মেরে ফেলবে। শিশুদের বাঁচান।’
এ বিষয়ে ২২শে আগস্ট কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের পরিচালক ড. একে এম হাবিবুল হকের পক্ষে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন ডা. শেখ মো. মইনুল ইসলাম। একইভাবে আরেকটি জিডি করেন রবিন হাসনাত রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক)’র প্রকল্প পরিচালক দেলওয়ার হোসেন। ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু করে সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ।

ইমেইল হেডার ও ইমেইলের থ্রেট কনটেন্টসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে গুগল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এভাবেই ইমেইলটির ব্যবহারকারীকে সনাক্ত করা হয়। রায়েরবাজার এলাকার একটি আইপি অ্যাড্রেসের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে যায়। শনিবার বিকালে পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম ও নাজমুল নিশাতের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয় রায়েরবাজার ও ধানমন্ডি এলাকায়। জানা যায়, হাজারীবাগ থানা এলাকার মনেস্বর জিগাতলার বাসিন্দা আব্দুল জব্বারের মেইলটি ব্যবহার করে তার অজান্তে এই বার্তা পাঠিয়েছে ৮/এ ধানমন্ডির ৭৯ নম্বর বাড়ির এ কে এম হারুন আল রশিদের পুত্র এ কে এম আল আমিন (৪৪)। ধানমন্ডি এলাকার ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান আল আমিন।

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষয়টি নিশ্চিত হন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ওই বাসা থেকে আটক করা হয় আল আমিনকে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আল আমিন স্বীকার করে যে, কয়েকটি হুমকি মূলক মেইল হাসপাতাল ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক দেলওয়ার হোসেন বলেন, হুমকি পেয়ে আমরা খুব আতঙ্কিত ছিলাম। জিডি করার পরপরই পুলিশ তৎপরতা চালায়। অল্প সময়ের মধ্যে মেইলদাতা গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। তবে এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি-না বা কি উদ্দেশ্যে মেইলটি পাঠানো তা এখনও জানতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, জিজ্ঞাসবাদে আল আমিন একেকবার একেক কথা বলছে। এ বিষয়ে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। মেইলে নিজেকে দুষ্কৃতিকারীদের একজন উল্লেখ করলেও জিজ্ঞাসাবাদে তা অস্বীকার করছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর