× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার
দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনের সম্পাদকীয়

আসামে আরেকটি সহিংসতা রোধে প্রয়োজন নতুন এনআরসি

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, ৮:৩৭

আসামে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনকে। সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে এটা হলো ভয়াবহ দ্বন্দ্ব, সংঘাতের এক আতঙ্কের সূচনামাত্র। এসব ‘রাষ্ট্রহীন মানুষগুলোকে’ নিয়ে কি করা হবে সে বিষয়ে দৃশ্যত রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো পরিকল্পনা বা ক্লু নেই। বাদ পড়া ব্যক্তিরা নিজেদেরকে ভারতীয় হিসেবে প্রমাণ করতে সময় পাবেন ১২০ দিন। তারা যদি তা না পারেন, আসাম থেকে প্রকাশিত রিপোর্টগুলো যদি সত্য হয়, তবে তাদেরকে রাখা হবে ১১টি বন্দিশিবিরে। এসব বন্দিশিবির রাজ্য সরকার আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্মাণ করবে বলে বলা হয়েছে। যদিও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মার মতো সিনিয়র মন্ত্রীরা এ বিষয়ে বলছেন, এমন কোনো বন্দিশিবির নির্মাণ করা হবে না।
কিন্তু টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখানো হয়েছে এ রকম একটি এক্সক্লুসিভ বন্দিশিবিরের ছবি, যা গোয়ালপাড়ায় নির্মাণ করা হচ্ছে।
পীড়া সৃষ্টির জন্য তা যথেষ্ট। এমনিতেই রাজ্যে আছে ৬টি বন্দিশিবির। তার সঙ্গে অধিকন্তু আরো ১১টি এক্সক্লুসিভ বন্দিশিবির নির্মাণ হতে যাচ্ছে। ১৯৫৫ সালের আসাম চুক্তির ৬-এ ধারার অধীনে যেসব ব্যক্তিকে নাগরিকত্বের বিশেষ বিধানে ‘বিদেশি বলে চিহ্নিত’ করা হয়েছে তাদেরকে বিদ্যমান ৬টি বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছে। তাদের সংখ্যা প্রায় ১০০০। উপরন্তু ‘বিদেশি নাগরিক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এক লাখের বেশি মানুষকে। তাদেরকে আটক করা হয়নি। এর কারণ সোজা। তাহলো, এসব বন্দিশিবিরে পর্যাপ্ত স্থান সংকুলান নেই।
উদ্ভট বিষয় হলো, প্রস্তাবিত ১১টি বন্দিশিবিরে রাখা হবে অতিরিক্ত বন্দিদের। হিমান্ত বিশ্ব শর্মার মতো সিনিয়র মন্ত্রীরা অব্যাহতভাবে বলে আসছেন যে, নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নিতে রাজি করানো উচিত বাংলাদেশকে। এটি হলো অনিশ্চয়তায় ভরা একটি বিবৃতি। কারণ যেসব মানুষ ভারতীয় নাগরিকত্ব দাবি করছেন তাদেরকে ফেরত নেয়ার জন্য প্রতিবেশী দেশটিকে আশ্বস্ত করার প্রক্রিয়াতে তাদেরকে জড়িত করার প্রক্রিয়া।
বাস্তব অর্থে এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে থাকার স্থান দেয়া, খাওয়ানো, পোশাক দেয়া এবং আটক করা অথবা তাদেরকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেয়া দৃশ্যত সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে যা ঘটতে পারে তা হলো, আসামে এমনিতেই বিদ্যমান ১০০ ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল। এর ওপর ডিসেম্বর নাগাদ আরো অতিরিক্ত ৪০০ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব আদালতে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিল শুনানি শুরু হবে। এ সময়ের মধ্যে বিজেপি যা করতে পারে বলে মনে হচ্ছে তাহলো, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনতে পারে। এর মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের পুনর্বাসন করা হতে পারে, যারা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন।
সাম্প্রদায়িক এই পৃথক্‌করণে আসামের নাগরিক বনাম বাংলাদেশিদের মধ্যে একটি বড় ধরনের বিচ্যুতি দেখা দেয়ার ঝুঁকি আছে। ১৯৮০’র দশকে এমনই এক বিচ্যুতি এই রাজ্যে আসামের উপ-জাতীয়তাবাদ উস্কে দিয়েছিল এবং তা থেকে ভয়াবহ এক সহিংস আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
এক্ষেত্রে সর্বোত্তম উপায় হলো এনআরসি নতুন করে করা, যাতে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া অধিক অর্থপূর্ণ হয় এবং সমাধানটা হয় অধিক বাস্তবসম্মত ও মানবিক। ধর্মীয় ও জাতিগত জটিলতার বিষয়টি মাথায় রেখে বহুবিধ দিক থেকে অভিবাসনের বিষয়টি দেখা উচিত। সীমান্তের অন্যপাড়ে যে হতাশা তা প্রশমনে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত বাংলাদেশকে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর