× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

পাকুন্দিয়ায় জলাবদ্ধতায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত

বাংলারজমিন

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) থেকে | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, ৮:২২

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের চার গ্রামের ৪শ’ একর জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে কৃষি জমির ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সময় মতো ফসল উৎপাদন করতে না পারায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ কৃষক। প্রতিকারের আশায় গত ২৬শে আগস্ট এক কিলোমিটার খাল খননের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন এলাকাবাসী। শতাধিক কৃষকের স্বাক্ষর সম্বলিত আবেদনটির অনুলিপি দেয়া হয়েছে- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি, সেচ) ও চণ্ডিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে। যদিও এর আগেও কয়েকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী।
সরজমিন উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের শৈলজানী, চিলাকাড়া, কোদালিয়া ও কয়ারখালী গ্রাম ঘুরে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- সাতাইরা, ফুলাপুড়ি, খালিয়াবাড়ি এই তিনটি বিলের সংযোগস্থলে প্রায় ৪শ’ একর ফসলি জমি রয়েছে। ওই চার গ্রামের হাজারো মানুষ এই জমিগুলোতে বিভিন্ন ফসল ফলনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। জমিগুলোতে এক সময় আউশ, আমন ও বোরো ধানের ব্যাপক আবাদ হতো। সবজি ও রবি শস্যেরও চাষাবাদ হতো। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে পার্শ্ববর্তী আশুতিয়া, খলিশাখালী, চরপলাশ ও দগদগা গ্রামের কৃষি জমির পানি খালিয়াবাড়ী ব্রিজ, চিলাকাড়া গ্রাম ও কালটিয়া বাজারের পাশ দিয়ে বাটাইল খালে প্রবেশ করে। সাম্প্রতিক খালিয়াবাড়ী ব্রিজের পূর্ব পাশে পানি চলাচলের নালা বন্ধ হয়ে যাওয়া, অপরিকল্পিতভাবে জমির মাটি ভরাট করা ও যত্রতত্র ফিশারি স্থাপনের কারণে ওই কৃষি জমিগুলো থেকে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে জমিগুলো জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং পানি নিষ্কাশন হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে জমিগুলো জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও কোমর পানিও হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি আটকে ফসল মারা যাচ্ছে। কোনো কোনো কৃষক একই জমিতে একাধিকবার ধানের চারা রোপণ করেও বাঁচাতে পারেনি। যেখানে তিনটি ফসল উৎপাদন করা হতো, বর্তমানে দুটি ফসল উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়েছে। এতকিছুর পরেও সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল হাসান আলামিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ওই চার গ্রামের ফসলি জমির জলাবদ্ধতার বিষয়টি তিনি অবগত। উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। শিগগিরই জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরজমিন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর