× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার

মুক্তিযুদ্ধে কলকাতার সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসায় বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, ১২:২৫

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ভুলবার নয়। কলকাতার সাংবাদিকরা এই আন্দোলনের খবর যেভাবে প্রচার করেছেন তার তুলনা হয় না। শনিবার কলকাতায় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: কলকাতার সাংবাদিকরা ও প্রেস ক্লাব’ শীর্ষক এক আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেছেন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার সাংবাদিকরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে কলকাতা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ছিলেন কলমযোদ্ধা ও কলম সৈনিক। রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে তারা খবর পরিবেশন করেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাই সেই কলমযোদ্ধারা আজও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাক্ষী ও অংশ হয়ে আছেন।
হাছান মাহমুদ আরও বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি এক। এখানের মানুষ বাংলায় কথা বলে। আমরাও বাংলায় কথা বলি। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এক হয়ে রয়েছে। তাই কলকাতায় এলে বাংলাদেশের বাইরে রয়েছি বলে মনে হয় না। এদিনের সভায় প্রেস ক্লাব প্রকাশিত সাংবাদিকদের চোখে মুক্তিযুদ্ধ বইটি নিয়েও বক্তারা আলোচনা করেছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, কলকাতা প্রেসক্লাব ৭৫ বছর পূর্তিতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে সংকলন প্রকাশ করেছে, তা এক ঐতিহাসিক দলিল। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন কলকাতার সাংবাদিকদের অবদান নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন কলকাতার প্রবীণ সাংবাদিক পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তরুণ গাঙ্গুলি, সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত, দিলীপ চক্রবর্তী, মানস ঘোষ ও উপেন তরফদার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, প্রেস সচিব মোফাকখারুল ইকবাল, কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ¯েœহাশীষ শুর, সম্পাদক কিংশুক প্রামাণিক ও প্রবীণ সাংবাদিকরা। এদিন তথ্যমন্ত্রী স্মিথ লেনের বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য্যে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এদিন তিনি কলকাতার আইসিসিআরের বেঙ্গল গ্যালারিতে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন।  বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী এই চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।
এদিকে, গত শুক্রবার কলকাতার নিউটাউনে ‘ইন্দো-বাংলা সামিট ২০১৯’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ভারত সরকার এবার সমগ্র ভারতে বাংলাদেশ টেলিভিশন দেখানো শুরু করেছে। এতে আমরা খুশি। তবে ভারতের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল অপারেটররা বাংলাদেশি চ্যানেল দেখাচ্ছেন না। একেকটি বাংলাদেশি চ্যানেল দেখানোর জন্য পাঁচ কোটি রুপি দাবি করছেন। এটা কি সম্ভব? ভারতে  বাংলাদেশি চ্যানেল দেখানো না হলেও বাংলাদেশে ভারতের চ্যানেল দেখানো হচ্ছে। তিনি ভারতের বেসরকারি চ্যানেলের অপারেটরদের বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন বিশ্বের আকাশ অবারিত। মানুষকে তো আর আটকে রাখা যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুলে দিয়েছে আকাশ। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিশ্বের অন্যতম সেরা জানিয়ে তথ্য মন্ত্রী বলেছেন, মেধার দিক থেকেও বাঙালিরা আজ বিশ্বজুড়ে মাথা তুলে আছে। শুধু বাঙালিদের জন্য বিশ্বে একটি দেশ হয়েছে, সেটি বাংলাদেশ। আর এই বাংলাদেশের বাংলা ভাষার আন্দোলনের জন্য আজ বিশ্বে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবাহী একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পেয়েছে। এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল ইন্দো-বাংলা কাউন্সিল ফর কমার্শিয়াল, কালচারাল, এডুকেশনাল কো-অপারেশন।  
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রীকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এদিনের সভায় আরও বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান. বাংলাদেশের লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক কামরুজ্জামান চৌধুরী, পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি আবু তাহের কামরুদ্দিন  প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর