× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

মানিকগঞ্জে বিএনপিতে টানাপড়েন পদ পেয়েও গণপদত্যাগের হিড়িক

বাংলারজমিন

রিপন আনসারী, মানিকগঞ্জ থেকে | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার, ৭:৪৭

বিএনপির কমিটিতে স্থান পেয়ে যেখানে খুশি হওয়ার কথা সেখানে ঘটলো উল্টো। খুশির বদলে ক্ষুব্ধ হয়ে শুরু হয় গণপদত্যাগ। ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট সমালোচিত কমিটির ২৩ জনই শেষমেশ কমিটি গঠনের মূল হোতাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গণপদত্যাগের মাধ্যমে নিজেদের সরিয়ে নিলেন। এমন ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকালে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা বিএনপি’র সদ্য গঠন করা আহ্বায়ক কমিটিতে।
শুধু শিবালয় উপজেলা কমিটিই নয় গণপদত্যাগের এমন আওয়াজ বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে জেলার বাকি ৬টি উপজেলা ও দুটি পৌরসভাতেও। যার ফলে মানিকগঞ্জের বিএনপির রাজনীতি এই মুহূর্তে টানাপড়েনের মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে।
জেলা বিএনপির হালচাল নিয়ে ১০ই সেপ্টেম্বর মানবজমিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রায় শতভাগ সত্যতা মিলেছে নিউজ প্রকাশের ২-৩ দিন পরই। এখন মানিকগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জালে আটকে পড়েছে।
এই বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান আতা, যুগ্ম আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন ও সদস্য সচিব এসএ কবীর জিন্নাহকেই দায়ী করছেন মানিকগঞ্জের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আগে জেলার রাজনীতিতে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা ছাড়াই রাতারাতি কমিটিগুলো ঘোষণা করায় এই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। দলের ক্রান্তিকালে যে সব নেতাকে রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি তাদের বেশির ভাগ নেতাকে নিয়ে উপজেলা ও পৌরসভায় বিএনপির পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কমিটিগুলো ঘোষণার পর থেকেই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
শুধু তৃণমূলের নেতাকর্মীই ক্ষুব্ধ নন সঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ২৮ সদস্যের বিরাট একটি অংশের নেতারাও চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন কমিটিগুলো নিয়ে। ওই  ২৮ জন নেতা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং কমিটিগুলো ভেঙে দেয়ার দাবিতে গেল শনিবার মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত করেছেন। এর দুইদিন আগে ওই ২৮ নেতা উপজেলা ও পৌর কমিটি বাতিল চেয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। লিখিত অভিযোগনামা পাঠিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়কের বরাবরে লেখা শিবালয় উপজেলায় বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির পদত্যাগী নেতারা তাদের পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন, দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত, জেল খাটা মামলার শিকার নেতাদের বঞ্চিত ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া গঠিত উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিতে তারা আরো উল্লেখ করেছেন গত সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে সিল দেয়া ব্যক্তিদেরও কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করার অভিযোগ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক  তোজাম্মেল হক তোজা বলেন, দলের এই সংকটময় মুহূর্তে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক জামিলুর রশিদ খান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান আতা, যুগ্ম আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন এবং সদস্য সচিব এস এ কবীর জিন্নাহ  জেলার সিনিয়র ও উচ্চ পর্যায়ের কোনো নেতার সঙ্গে আলাপ আলোচনা ছাড়াই উপজেলা ও পৌরসভায় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিগুলো ঘোষণা করেন। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে স্বেচ্ছাচারী কায়দায় গঠিত এই পকেট কমিটিগুলো তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলার কোনো  পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গ্রহণ করেনি। শিবালয় উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির কয়েকজন যুগ্ম আহ্বায়কসহ ২৩ জন ইতিমধ্যে গণপদত্যাগ করেছেন। তোজা আরো বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে পাশ কাটিয়ে এবং কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জের ঐসব  নেতারা দলকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমার বিশ্বাস বাকি ৬টি উপজেলা ও দুটি পৌর কমিটির প্রায় সকল সদস্যই পর্যায়ক্রমে পদত্যাগ করবেন।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর