× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

আজাদ কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান বাকযুদ্ধ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার, ১১:০৫

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের বক্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, আজাদ জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অংশ। তিনি আরো আশা করেন, একদিন নয়া দিল্লি এর নিয়ন্ত্রণ নেবে। এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, আজাদ কাশ্মীরকে ভারতের হাতে তুলে না দিলে পাকিস্তান টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আরও কিছু রাজনীতিক আজাদ কাশ্মীরকে ভারতের দখলে নেয়ার কথা বলেছেন। এর ফলে উভয় দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। এমন দাবির কড়া নিন্দা জানিয়ে তাদের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মর্মে একটি বিবৃতি দিয়েছে।
তাতে পাকিস্তান ও আজাদ জম্মু কাশ্মীর নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যকে জ্বালাময়ী ও দায়িত্বহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিবৃতিতে ভারতের আগ্রাসী মনোভাবের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেছে পাকিস্তান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।  

আজাদ জম্মু কাশ্মীর হলো পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল। এখানে বিপুল পরিমাণ মানুষের বসবাস। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর ভারত এখন চাইছে আজাদ কাশ্মীরকে দখল করতে। এ বিষয়টি আগেভাগেই বুঝতে পেরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে এ পরিস্থিতিতে তার ইমেজ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদে গিয়েছে পাকিস্তান। এ মাসেই জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এ ইস্যু উত্থাপন করার কথা রয়েছে ইমরান খানের। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে জোরালো কোনো ভূমিকা বা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভবত সে কারণেই ভারত জম্মু কাশ্মীরকে তাদের পূর্ণাঙ্গ অঙ্গরাজ্য বানানোর পর আজাদ জম্মু কাশ্মীরের দিকে নজর দিয়েছে।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি এতে বলেছেন, আজাদ কাশ্মীর ইস্যুতে আমাদের অবস্থান সব সময় অত্যন্ত স্পষ্ট। আজাদ কাশ্মীর হলো ভারতের অংশ। আমরা আশা করি একদিন আমরা এর দখল পাবো। পূর্ণাঙ্গ দখলের এখতিয়ার পাবো।

গত ৫ই আগস্ট ভারত সরকার দখলীকৃত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে। এর মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলকে তারা তাদের ভূখন্ডের মধ্যে পুরোপুরিভাবে নিয়ে নেয়। এর তীব্র প্রতিবাদ হয় কাশ্মীর ও পাকিস্তানে। এমন অবস্থায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ ফয়সাল বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুতে তার সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পাকিস্তান মনে করে কাশ্মীর হলো একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। এর সমাধান হতে হবে জাতিসংঘের অধীনে। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার ভারতীয় সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবাদ জানিয়েছে কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের। পাকিস্তান বলছে, কাশ্মীরে জনসাধারণের বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ সহ মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ভারত।

এমন অবস্থায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ড. মোহাম্মদ ফয়সাল। তিনি বলেছেন, কাশ্মীরে ভারত যে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তার ফলে আন্তর্জাতিক দুনিয়া থেকে চাপ আসছে। এ জন্যই ভারত হতাশা থেকে ওইসব মন্তব্য করছে। তিনি আরো বলেন, ভারত কাশ্মীরের ৮০ লক্ষাধিক মানুষকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। এর মধ্য দিয়ে তারা কাশ্মীরকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কারাগার বানিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করছে ভারত। জম্মু ও কাশ্মীরের নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে যে অপরাধ ঘটাচ্ছে তা থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ভিন্নখাতে সরাতে পারবে না তারা। ভারত এখন একটি শোচনীয় অবস্থায় আছে, যা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ অনুমোদন করে। গরু রক্ষাকারীদের হাতে যারা নির্যাতনের শিকার হন, গণপিটুনির শিকার হন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণের শিকার হন এবং ভারতের নিজস্ব আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ ভারত।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর