× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার

৩১ বছর আগের পারিবারিক ট্র্যাজেডি ছাপানোয় ক্ষুব্ধ স্টোকস

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:৫২

ইংল্যান্ডের ট্যাবলয়েড সংবাদপত্র দ্য সান ৩১ বছর আগের এক পারিবারিক ট্র্যাজেডির ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বেন স্টোকস। আর বেন স্টোকসের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্তা টম হ্যারিসন। প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অধিনায়ক জো রুটের মতো শীর্ষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরাও। ইংল্যান্ডের ২৮ বছর বয়সী অলরাউন্ডার বেন স্টোকস টুইটারে এক আবেগঘন বার্তায় বলেন, ওই রিপোর্ট নীতি বিবর্জিত নিষ্ঠুর। ১৯৮৮ সালে নিউজিল্যান্ডে স্টোকসের সৎ ভাই ও বোনকে হত্যা করেন তার মায়ের সাবেক স্বামী। স্টোকসের মা ডেবের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর নিজের ৮ বছরের ছেলে ট্রেসি ও মেয়ে চার বছরের অ্যান্ড্রুকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন রিচার্ড ডান। এই নির্মম ঘটনা ওই সময় আলোড়ন তুলেছিল পুরো নিউজিল্যান্ডে। এর তিন বছর পর জেরার্ড স্টোকস ও ডেব দম্পতির ঘরে জন্ম নেন বেন স্টোকস।
২০০৩ সালে ১২ বছর বয়সে স্টোকস সপরিবারে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তখন ডেবের সঙ্গে বিচ্ছেদটা একদম মেনে নিতে পারেননি ডান। আস্তে আস্তে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন তিনি। অবস্থা আরো খারাপ হয় যখন ডান শোনেন, রাগবি কোচ জেরার্ড স্টোকসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন ডেব। আদালতের নির্দেশে সপ্তাহে দু’দিন বাচ্চাদের দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ডান। এমনই এক দিনে দুই বাচ্চাকে রাইফেল দিয়ে গুলি করে খুন করেন ডান, নিজেও আত্মহত্যা করেন।
তিন দশক আগের বিয়োগান্তক ওই ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করায় হতাশ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় আগের ঘটনার ওই শোক কাটাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে আমার পরিবারকে। এই ধরনের ব্যক্তিগত ও দুঃখজনক ঘটনা গোপন রাখতে হয়েছে অনেক সতর্কতার সঙ্গে।’ আজ দ্য সান একটি খুব বেদনাদায়ক, সংবেদনশীল আর একান্ত ব্যক্তিগত ঘটনা ছেপেছে যা আমাদের পরিবারে ঘটেছিল ৩১ বছর আগে। সাংবাদিকতার নামে এমন আচরণ কতটা নীচ আর জঘন্য সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আমার পরিবারের অনুভূতি নিয়ে এমন নির্মম, নিষ্ঠুর আর ঘৃণ্য আচরণ কল্পনাও করতে পারি না।’
স্টোকসের বাবা-মার সাক্ষাৎকার নিতে রিপোর্টারকে নিউজিল্যান্ডে পাঠায় সংবাদপত্রটি। দ্য সানের একজন মুখপাত্র এনিয়ে বলেন, ‘বেন স্টোকস ও তার মায়ের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ সহানুভূতি আছে, কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার যে এই রিপোর্ট লিখতে তার পরিবারের একজন বিস্তারিত তথ্য দিয়ে, ছবি দিয়ে ও নিজে ছবি তুলে সহযোগিতা করেছেন। এই বিয়োগান্তক ঘটনা ওই সময় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এবং নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন সংবাদপত্রের সামনের পাতায় প্রকাশিত হয়েছিল। বেন স্টোকসকে আমরা অনেক পছন্দ করি এবং এই মৌসুমে তার কৃতিত্বে আমরা আনন্দিত। এই রিপোর্ট ছাপানোর আগে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম এবং কোনোভাবে তিনি কিংবা তার কোনও প্রতিনিধি আমাদের এই রিপোর্ট না ছাপাতে অনুরোধ করেননি।’ আর সান-এর প্রতিবেদন দেখে অসন্তুষ্ট ও হতবাক ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন। তিনি বলেন, ‘পুরো দেশ স্টোকসের পাশে আছে’।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর