× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার

সিরিয়ায় কুর্দিদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন সিগন্যাল

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৭ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ২:০৭

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে অত্যাসন্ন অভিযান চালানোর পথ তৈরি করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কুর্দি ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের শক্ত সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র। কিন্ত এখন কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযানে বাধা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। আবার তারা তুরস্কের সঙ্গেও যোগ দেবে না। হোয়াইট হাউজ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। একে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
 
এতে বলা হয়, তুরস্ক কুর্দি যোদ্ধাদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখে থাকে।
তাদেরকে নিজের সীমান্ত থেকে সরিয়ে দিয়ে সীমান্তকে নিরাপদ করতে চায় তুরস্ক। এখানে উল্লেখ্য, সিরিয়ায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত সেনা। সিরিয়ায় আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ওয়াইপিজি যোদ্ধারা। এ জন্য তাদের শক্ত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পরে যদি কুর্দি বাহিনীর ওপর কোনো হামলা হয় তাহলে তার জন্য তুরস্কের অর্থনীতিকে ভয়াবহতায় পড়ার হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানুয়ারিতে। সেই যুক্তরাষ্ট্র এখন কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযানে বাধা দেবে না। তবে রোববার ইস্যু করা হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের কোনো প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয় নি। সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস’কে পরাজিত করতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে এই ওয়াইপিজি। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে এক টেলিফোন কলের পরে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। এরপরেই দেয়া হয়েছে হোয়াইট হাউজের ওই বিবৃতি।

বিবৃতিতে যা বলেছে হোয়াইট হাউজ
বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘ পরিকল্পিত অপারেশন নিয়ে শিগগিরই অগ্রসর হবে তুরস্ক। এ অভিযানে সমর্থন দেয়া বা জড়িত কোনোটিই করবে না যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী। ওই এলাকায় আইসিস খেলাফতকে পরাজিত করার পর সেখানে আর অবস্থান করছে না যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। গত দু’বছরে আইএসের যেসব যোদ্ধাকে আটক করা হয়েছে তাদের সব দায়িত্ব নেবে তুরস্ক। হোয়াইট হাউজ আরো বলেছে, আটক আইসিস যোদ্ধাকে ফেরত নিতে ফ্রান্স, জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয়ান দেশগুলোকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা আইসিস যোদ্ধাদের ফেরত নিতে চায় না এবং ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাই এসব জঙ্গিকে অনেক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আওতায় রাখতে চায় না। কারণ, তাতে তার দেশের আয়কর দাতাদের বড় অংকের অর্থ খরচ করতে হবে।
 
তুরস্কের পরিকল্পনা কী
রোববার রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানের অফিস থেকে বলা হয়, তিনি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়ার উত্তর-পূব্র্াঞ্চলে সেফ জোন বা নিরাপদ এলাকা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এটা প্রয়োজন হয়েছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এবং সিরিয়ায় শরণার্থীদের জন্য এমন একটি প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টির জন্য, যাতে তারা নিজেদের দেশে ফিরতে পারেন। কমপক্ষে ৩৬ লাখ সিরিয়ানকে আশ্রয় দিয়েছে তুরস্ক। ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা পালিয়ে তুরস্কে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তাই প্রায় ২০ লাখ শরণার্থীকে নিজ দেশ থেকে ওই প্রস্তাবিত নিরাপদ জোনে স্থানান্তর করতে চায় তুরস্ক। আগস্টে নিরাপদ এলাকা স্থাপনের একটি চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও নিরাপত্তা বিষয়ক বোদ্ধাদের কারণে ওই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থতার জন্য হতাশা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এর আগে তিনি গত শনিবার হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, সামনের দিনগুলোতে সীমান্ত অতিক্রম করে অভিযান চালাবে তুরস্কের সেনারা। তবে কি মাত্রায় হবে তা সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেন নি এরদোগান।

নেপথ্য কারণ
সিরিয়ায় আইএস’কে পরাজিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়ক শক্তি ছিল সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। এই এসডিএফ-এর বড় অংশ ছিল ওয়াইপিজি। তবে তাদেরকে নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে তুরস্ক। তুরস্কে তিন দশক ধরে কুর্দি স্বায়ত্ত শাসনের দাবিতে লড়াই করেছে পিকেকে। তবে পিকেকে’র সঙ্গে সরাসরি সাংগঠনিক সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে ওয়াইপিজি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর