× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার

এবার ওদের ‘ঋণ’ শোধের পালা

খেলা

ইশতিয়াক পারভেজ | ৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ৯:৩১

তালহা জুবায়ের বয়স ৩৩ ছুঁয়েছে। জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার এখন পুরোদস্তুুর কোচ। এরই মধ্যে জাতীয় ক্রিকেট লীগে (এনসিএল) তিন আসরে ঢাকা মোট্রোর প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এতোদিন তরুণ কোচদের মধ্যে তিনিই ছিলেন একা। তবে ২১তম আসরে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে অভিষেকের অপেক্ষায় আরো দু’জন। কিছুদিন আগেই এনসিএলে  খেলেছেন ৩৫ বছর বয়সী জাতীয় দলের আরেক ক্রিকেটার খন্দকার রাজিন সালেহ। এবার সালেহ কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এনসিএলে সিলেট বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন। আর চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান কোচ হিসাবে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন আফতাব আহমেদ।
জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার জাতীয় লীগে প্রথম দিনটির জন্য মুখিয়ে আছেন। রাজিন ও আফতাব কোচিং পেশাকে  দেখছেন ‘ঋণ পরিশোধের পালা’ হিসেবে। তারা মনে করেন জাতীয় দলে খেলে যা পেয়েছেন, কোচিংয়ে মাধ্যমে তা ফিরিয়ে দেয়ার সময় এসেছে। লংগার ভার্সনে নতুন ক্রিকেটারদের নিয়ে তাদের লক্ষ্য বহুদূরে। শুধু তাই নয় চট্টগ্রাম ও সিলেট ক্রিকেটের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চান এ দুই কোচ। এমন চ্যালেঞ্জে তাদের দু’জনকে শুভকামনা জানিয়েছেন তালহা জুবায়েরও। তাদের কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-
সিলেটকে নিয়ে বহুদূর  যেতেচাই: রাজিন সালেহ
মাত্র কিছু দিন হলো ক্রিকেট ছেড়েছি। দেশের হয়ে মাঠে এক রকম দায়িত্ব পালন করেছি। এবার মাঠের বাইরে নতুন চ্যালেঞ্জ। আমি জানি ভীষণ কঠিন। কিন্তু এখনো যারা সিলেট দলে আছে কিছুদিন আগেও তাদের সঙ্গে খেলেছি। বিশেষ করে অলক কাপালি আছে। ওরা আমাকে দারুণভাবে বরণ করে নিয়েছে। যারা তরুণ আছে তারাও। কারণ মাঠে আমি তাদের এক সময় বড় ভাই হিসেবে গাইড করেছি। এখন মাঠের বাইরে অভিবাবকের মতো গাইড করবো। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের এক সময় যে ক্রিকেটের ঐতিহ্য ছিল তা ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা প্রায় ৬ থেকে ৭ জন ক্রিকেটার জাতীয় দলে খেলতাম। এখন সেটি নেই। আমি চাইবো আবারো সিলেট বিভাগের ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে গুরুত্ব পাক। আরেকটা বিষয় হলো আমাদের ব্যাটিংটা আগের মতো নেই। সিলেট থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যাটসম্যান বের হচ্ছে না। আমি চাইবো ব্যাটসম্যান তৈরী করতে। নতুন যুগের ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলাতে পারে সেই চ্যালেঞ্জে প্রস্তুত করে তুলতে। জাতীয় ক্রিকেট লীগের যে আবেদন আমার সিলেটের ক্রিকেটাররা যেন সেটা বুঝতে পারে। কারণ লংগার ভার্সন যেকোনো ক্রিকেটের ভিত। এ ভিতটা আমি শক্ত করতে চাই। হ্যা, কাল থেকে আমার নতুন পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। যদি টিকে যাই তাহলে আমার লক্ষ্য সিলেটকে নিয়ে বহুদূর যাওয়া।
মাঠের বাইরের চ্যালেঞ্জটাই কঠিন: আফতাব আহমেদ
জাতীয় দলে যখন খেলেছি তখন সবটাই ছিল নিজের। ভালো করলে আমার হয়েছে, খারাপটাও আমারই থেকেছে। তখন আমি নিজেকে মূল্যায়ন করতাম। কিন্তু কোচ হিসেবে মাঠের বাইরে  থেকে কাজ করা বেশি কঠিন। বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এখন আমাকে অনেককে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে আমি প্রস্তুত আছি। লংগার ভার্সনে আমার শুরুটা কালই। নিজেকে কোচ হিসেবে প্রস্তুত করেছি। আমার মূল লক্ষ্য হবে চার দিনের ক্রিকেটা যেন সবাই ধারণ করতে পারে। একটা সময় চার দিনের ক্রিকেটে শুধু আসা-যাওয়া  আর  কোনো রকম খেলাই লক্ষ্য হয়ে গিয়েছিল অনেকের। তাই পিকনিক ক্রিকেট নামেও ঢাকা লীগ শুরু হয়েছিল। আমি সেই মানসিকতা থেকে ক্রিকেটারদের বের করে আনতে চাই। পিকনিক ক্রিকেটের যে বদনাম সেটা মুছে দিতে চাই। এছাড়াও আমি চট্টগ্রামের ক্রিকেটকে আমার পাওনা ফিরিয়ে দিতে চাই। আমার মনে হয় আমার ঋণ পরিশোধ করার সময় এসেছে।
আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে হবে: তালহা জুবায়ের
রাজিন ভাই, আফতাব আসায় দারুণ খুশি। বিসিবিকেও ধন্যবাদ, যারা মাত্র ক্রিকেট ছেড়েছে তাদের কোচ হিসেবে সুযোগ করে দেয়ার জন্য। আমরা নতুন, তবে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমি তিন আসর এখানে কাজ করেছি। আমি জানি নতুন একটি চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে আছে। তা হলো টেস্ট বা চার দিনের ম্যাচে ক্রিকেটারদের মনযোগ ফেরানো। ফিটনেসটাও বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত। কারণ তিন ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলতে হলে ফিটনেস খুবই জরুরী। তাই ভালো ক্রিকেটার হলেই হবেনা, চার দিনের ক্রিকেট খেলার মতো ফিটনেসের প্রতি নজর দিতে হবে। তারা দু’জনই মাঠের ক্রিকেটার। তারা জানেন কীভাবে দলকে এগিয়ে নিতে হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর