× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার

অবিলম্বে ৩০ রোহিঙ্গার মুক্তি দাবি

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ১২:০১

রাখাইন থেকে ইয়াঙ্গুনে যাওয়ার পথে ৩০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে আটক করেছে মিয়ানমার। এরপর একদিনের শুনানিতে তাদেরকে জেল দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে এসব রোহিঙ্গার মুক্তি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। একই সঙ্গে সংগঠনটি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে খেয়ালখুশি মতো বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সরকার জাতিগত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সব রকম সফরের ওপর বিধিনিষিধ দিয়ে রেখেছে। এসব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া উচিত সরকারের। একই সঙ্গে মুক্তভাবে চলাচল সীমাবদ্ধ করতে যেসব বৈষম্যমুলক বিধান আছে তা বাতিল করতে হবে।

নিউ ইয়র্ক থেকে নিজস্ব ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
এতে আরো বলা হয়, গত ২৩ শে সেপ্টেম্বরে একদল রোহিঙ্গাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এর এক সপ্তাহ পরে একটি আদালত তাদের ২১ জনকে দু’বছরের জেল দিয়েছে। আর আটটি শিশুকে শিশুদের জন্য নির্মিত বন্দিশিবিরে পাঠিয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে কম ৫ বছর বয়সী একটি শিশুকে তার মায়ের সঙ্গে রাখা হয়েছে পাথেইন কারাগারে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেন, রোহিঙ্গারা বাড়িতে থাকলে অথবা দেশের ভিতর মুক্তভাবে চলাচলের চেষ্টা করলে তাদের ওপর নিষ্পেষণ চালানোর নীতি গ্রহণ করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন নৃশংসতার শিকার হচ্ছেন এমন এই ৩০ জন নারী, শিশু ও পুরুষকে শুধু তাদের বাড়িঘর থেকে ইয়াঙ্গুনে যাওয়ার কারণে শাস্তি দেয়া হয়েছে।  

দেশের ভিতরে স্থানান্তরে সরকারি অনুমতিপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মধ্য রাখাইনের সিতওয়েতে আয়েইয়ারবতী অঞ্চলে একটি বোট থেকে। তাদের যাওয়ার কথা ছিল ইয়াঙ্গুনে। তাদের পরিকল্পনা ছিল সেখানে কাজ করা অথবা মালয়েশিয়ার দিকে ছুটে যাওয়া। এসব অপরাধে ৪ঠা অক্টোবর নগাপুড টাউনের একটি আদালত এই দলের ২১ জনের বিরুদ্ধে দুই বছরের জেল দেয়। শুনানি হয়েছে মাত্র একদিন। এ সময়ে তাদেরকে কোনো আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেয়া হয় নি। শহরের ভিতরে অথবা রাখাইন রাজ্যের বাইরে এমনভাবে গ্রেপ্তার ও নিষ্পেষণের শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গারা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, ইয়াঙ্গুন অঞ্চলের কাওহমু শহরে একটি ‘প্রশিক্ষণ বিষয়ক স্কুলে’ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে আটক আটটি শিশুকে। কিন্তু তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবে না তাদের পরিবারের সদস্যরা। এখনও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। তারা অব্যাহতভাবে সরকারি নিষ্পেষণ ও সহিংসতার শিকারে পরিণত হচ্ছেন। এর আগে সেনাবাহিনীর জাতি নিধনযঞ্জের কারণে কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। যারা এখনও মিয়ানমারে অবস্থান করছেন তাদের অবস্থা শোচনীয়। তারা ক্যাম্পে এবং গ্রামে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। মুক্তভাবে চলাচল করতে পারেন না। পর্যাপ্ত খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ নেই তাদের।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর