× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার

সিলেটে মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে জিডি

দেশ বিদেশ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১০ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:৫২

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় জিডি করেছেন ব্যবসায়ী এহসানুল হক তাহের। জিডিতে তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন। গতকাল তাহের মানবজমিনকে জানান- ‘উনাকে তো বিশ্বাস করা যায় না। বিএনপির জমানায় তার অনেক কর্মকাণ্ড দেখেছি। কখন কী হয় জানি না। এ কারণে বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করেছি।’ তাহেরকে সিলেটের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারের মানুষ এক নামেই চিনেন। পারিবারিক সূত্রেই পয়েন্টের কাছে রয়েছে তাদের নিজস্ব ভূমিতে লাইব্রেরি ব্যবসা। পাশাপাশি তিনি একজন যুব সংগঠক।
২০১০ সালে জাতীয় শ্রেষ্ঠ যুব পুরস্কারে ভূষিত হন। গত সিটি নির্বাচনে এহসানুল হক তাহের সিলেট সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে হরিণ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- সম্প্রতি রাস্তা প্রশস্তকরণের নামে ব্যক্তি সম্পত্তি থেকে মেয়র জায়গা অধিগ্রহণ করছেন। এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় মেয়র কখনো অধিগ্রহণের সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করেননি। বরং জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ না দিয়েই তিনি রাস্তার জন্য জায়গা নিচ্ছেন। জনস্বার্থে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ক্ষতি করে হলেও জমি ছেড়ে দিচ্ছেন। এখন ব্যবসায়ীদের দাবি হচ্ছে- দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করা। কারণ- যে কাজ চলমান রয়েছে সেটি দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। এর আগে বিদ্যুতের কাজের জন্য ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে মেয়র আরিফ জিন্দাবাজার এলাকায় কাজের পরিদর্শনে আসেন। এ সময় জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ীদের পক্ষে মেয়রের সঙ্গে কথা বলতে যান এহসানুল হক তাহের। ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি জানালে ক্ষেপে যান মেয়র আরিফ। শ’ শ’ ব্যবসায়ীর সামনেই তাহেরকে শাসান তিনি। এক পর্যায়ে বলেন- ‘দোকান ভাঙবো, পারলে আটকাও’। তাহের জানান- মেয়র যখন ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতি তোয়াক্কা না করে বলছিলেন- সরকারের নির্দেশ রয়েছে জিন্দাবাজারে ৮০ ফুট রাস্তা করতে হবে। এই নির্দেশের আলোকে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।’ জবাবে আমরাও জানিয়েছি- ‘আমরাও সরকারের উন্নয়নের পক্ষে। এজন্য আমাদের পরিকল্পনা প্রণয়নের আদেশটি দেখান। একথা বলার পর মেয়র আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। শ’ শ’ মানুষের সামনে ধমকান। এ ঘটনায় আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। এবং চলে আসি।’ রাতে এহসানুল হক তাহের কোতোয়ালি থানায় জিডি করেনে। জিডিতে তাহের উল্লেখ করেন- গত ৮ই অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে লতিফ সেন্টারের সম্মুখের ডান পার্শ্বে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে ড্রেন খননের লক্ষ্যে জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে আমরা আলাপ করতে যাই। এ সময় সরকার কর্তৃক পরিকল্পনা প্রণয়নের কপি চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হন। ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখী অবস্থায় হুমকি প্রদান করে বলেন, ‘দোকান ভাঙবো পারলে আটকাও’। এমতাবস্থায় আমি এবং আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি আমার মৌরশী স্বত্বের চারখানা দোকান রক্ষা ও আমার নিজের নিরাপত্তাবিধানের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’ উল্লেখ্য- তাহের ব্যবসায়ীর পাশাপাশি তিনি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থা ও সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জিন্দাবাজার ব্যবসায়ী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, গণতান্ত্রিক ব্যবসায়ী ফোরামের কার্যকরী কমিটির নির্বাহী সদস্য, সিলেট ব্যবসায়ী স্বার্থরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব। এ ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে- সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন শিহাব জানিয়েছেন- ঘটনার সময় তিনি ওখানে ছিলেন না। পরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা এ ধরনের ঘটনার অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন- জনস্বার্থেই রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এদিকে- এহসানুল হক তাহের জানান- জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ীরা এখন তাদের জমি ও ব্যবসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কোটি কোটি টাকার জায়গা জোরপূর্বক রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় জোরপূর্বক সাড়ে ৫ হাত জায়গা দখল করা হয়। জায়গা ছাড়লেও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ পান না। এদিকে- সিলেট নগরীর ফুটপাথ দখল, মশার উপদ্রব, ময়লার ভাগাড় সহ নানা ঘটনায় কামরানের শাসন থেকে সোচ্চার তাহের। আরিফুল হক চৌধুরী দ্বিতীয় দফা মেয়র নির্বাচনের পর মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে মশারি নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন তাহের।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর