× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার

আবরারের গ্রামে প্রতিরোধের মুখে ভিসি

প্রথম পাতা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | ১০ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:৩৪

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করতে পারলেও গ্রামের বাড়িতে ঢুকতে পারেননি বুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। এ সময় আবরারের ছোট ভাই ও বাবা বরকত উল্লাহ সেখানে ছিলেন। এরপর আবরারের মায়ের সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে ঢুকতে চাইলে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে বুধবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের ওই বাড়ির সামনে থেকে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যের পাহারায় দ্রুত গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও পুলিশ সুপার এসএম তানভীন আরাফাত ছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এর আগে বুধবার বিকাল তিনটার দিকে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান ভিসি। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা প্রশাসকের গাড়িতে করে রায়ডাঙ্গায় যান ভিসি।
বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও ছোট ভাই আবরার ফায়াজসহ সবাই মিলে কবর জিয়ারত করেন।

পরে আবরারের ভাই ও বাবার প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন ভিসি। তাদের জিজ্ঞাসা ছিল, ভিসি কেন ওই হত্যাকা-ের পর পর সেখানে উপস্থিত হননি। এখন কেন এসেছেন? এরপর আবরারের মা রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে দেখা করার জন্য রওনা দেন ভিসি। একই সড়কের পাশে আবরারের কবর ও পৈতৃক ভিটা। কুমারখালী থেকে যেতে প্রথমে কবরস্থান পড়ে। পরে আধা কিলোমিটারের মাথায় ওই বাড়ি। এ সময় স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ আবরারদের বাড়ির সামনের সড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। গ্রামবাসী ভিসিকে গালিগালাজ ও ভিসি বিরোধী সেøাগান দিতে থাকে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ভিসিকে ঘিরে রেখে আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে সেøাগান দিতে থাকে। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভিসিকে ঘিরে রাখে। এক পর্যায়ে আবরারের মায়ের সঙ্গে দেখা না করে উপাচার্য পুলিশ প্রহরায় জেলা প্রশাসকের গাড়িতে করে রায়ডাঙ্গা গ্রাম ছেড়ে যান।
ভিসি চলে যাওয়ার পর উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ সময় আবরার ফাহাদের ছোট ভাই ফায়াজ, তার ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী ও আরো একজন নারী আহত হন।

বুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম কুষ্টিয়ার রায়ডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে আবরারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন এ খবরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন করা হয় সেখানে। দুপুর থেকেই আবরারের বাড়ি ও কবরের আশেপাশের এলাকায় অসংখ্য র‌্যাব ও পুলিশ অবস্থান নেয়। সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, ভিসি এখন কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হচ্ছেন।

এদিকে, হত্যাকা-ের শিকার বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় জিলা স্কুল জামে মসজিদে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ও জেলা ছাত্রলীগের সহযোগিতায় এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আবরার ফাহাদ এই স্কুলের এসএসসির ২০১৫ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, ‘সন্তান হারানোর বেদনা ভুলিয়ে দেয়া যায় না। তবে আল্লাহর ঘরে দাঁড়িয়ে কথা দিচ্ছি, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন তার সবই করা হবে।

এ সময় প্রাক্তন শিক্ষার্থী, নিহত আবরারের সহপাঠীরা ছাড়াও আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার ও সাধারণ সম্পাদক সাদ আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন জিলা স্কুল মসজিদের পেশ ইমাম। এ সময় তারা আসামিদের গ্রেপ্তারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আবরার হত্যাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Amir
১০ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:৪২

আবরারের গ্রামে প্রতিরোধের মুখে ভিসি!-----অবিবেচকের মত কাজ করলে পরিণতি তো এমনই হয়, ভিকটিম কে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে আসলেন না বরং অনেক দূরত্ব অতিক্রম করে উনি ভিকটিমের বাড়ি গেলেন- এটা কেমন তালগোল পাকানো বিষয় নয় কি? ওনাকে যারা পরামর্শ দিয়েছেন তারা স্বঠিক পরামর্শ দেন নাই!

রাহমান
৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ৭:১০

এই রকম একটা কুলাঙ্গার কে এখনো পুলিশ পাহারা দেই কি আজব দেশ রে ভাই।

Kazi
৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ৬:১৮

অপদস্থ হতে ও ঘটনা ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরাতে উনি গেলেন কেন ?

Kazi
৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ২:০০

তামাসা নাটক সাজাতে আবরারের বাড়ি উনি গিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে নিজের সন্তানসম মৃত ছেলেটি কে দেখতে আসেন নি জানাজা ও পড়েন নি। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থাকলে অন্যদের পরামর্শ নিলেন না কেন ? উনার কি ভয় ছিল আবরার কে দেখতে এলে অপরাধীরা তাকেও টর্চার সেলে নিয়ে পিটাবে ?

সামসুদিদন
৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ১১:২২

উনার চেহারা একটা অমানুষের মত লাগছে।

জাফর আহমেদ
৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ১১:১০

শিক্ষক নামের কলঙ্ক। লোকটি আসলেই বেহায়া। তার ভাগ্য ভালো তাই ঘন ধোলাই থেকে বেঁচে গেলেন।

অন্যান্য খবর