× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার

বুয়েট ভিসিকে প্রতিরোধ, পুলিশের লাঠিচার্জ, আবরারের ভাই আহত

অনলাইন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | ৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ৯:৪৮

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করতে পারলেও গ্রামের বাড়িতে ঢুকতে পারেননি বুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। এ সময় আবরারের ছোট ভাই ও বাবা বরকত উল্লাহ সেখানে ছিলেন। এরপর আবরারের মায়ের সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে ঢুকতে চাইলে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে বুধবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের ওই বাড়ির সামনে থেকে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যের পাহারায় দ্রুত গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও পুলিশ সুপার এসএম তানভীন আরাফাত ছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এর আগে বুধবার বিকাল তিনটার দিকে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান ভিসি। পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা প্রশাসকের গাড়িতে করে রায়ডাঙ্গায় যান ভিসি।
বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও ছোট ভাই আবরার ফায়াজসহ সবাই মিলে কবর জিয়ারত করেন। পরে আবরারের ভাই ও বাবার প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন ভিসি। তাদের জিজ্ঞাসা ছিল, ভিসি কেন ওই হত্যাকা-ের পর পর সেখানে উপস্থিত হননি। এখন কেন এসেছেন?
এরপর আবরারের মা রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে দেখা করার জন্য রওনা দেন ভিসি। একই সড়কের পাশে আবরারের কবর ও পৈতৃক ভিটা। কুমারখালী থেকে যেতে প্রথমে কবরস্থান পড়ে। পরে আধা কিলোমিটারের মাথায় ওই বাড়ি। এ সময় স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ আবরারদের বাড়ির সামনের সড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। গ্রামবাসী ভিসিকে গালিগালাজ ও ভিসি বিরোধী সেøাগান দিতে থাকে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ভিসিকে ঘিরে রেখে আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে সেøাগান দিতে থাকে। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভিসিকে ঘিরে রাখে। এক পর্যায়ে আবরারের মায়ের সঙ্গে দেখা না করে উপাচার্য পুলিশ প্রহরায় জেলা প্রশাসকের গাড়িতে করে রায়ডাঙ্গা গ্রাম ছেড়ে যান।
ভিসি চলে যাওয়ার পর উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ সময় আবরার ফাহাদের ছোট ভাই ফায়াজ, তার ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী ও আরো একজন নারী আহত হন।
বুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম কুষ্টিয়ার রায়ডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে আবরারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন এ খবরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন করা হয় সেখানে। দুপুর থেকেই আবরারের বাড়ি ও কবরের আশেপাশের এলাকায় অসংখ্য র‌্যাব ও পুলিশ অবস্থান নেয়। সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, ভিসি এখন কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হচ্ছেন।
এদিকে, হত্যাকা-ের শিকার বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় জিলা স্কুল জামে মসজিদে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ও জেলা ছাত্রলীগের সহযোগিতায় এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আবরার ফাহাদ এই স্কুলের এসএসসির ২০১৫ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, ‘সন্তান হারানোর বেদনা ভুলিয়ে দেয়া যায় না। তবে আল্লাহর ঘরে দাঁড়িয়ে কথা দিচ্ছি, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে যা প্রয়োজন তার সবই করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর