× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার

মেয়ে ভারতে পাচার, দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা

অনলাইন

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি | ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৩:১৬

এক বছর হলো অপহরণের শিকার হয়ে ভারতের হরিয়ানা প্রদেশের একটি ‘শিশু নিরাপত্তা হেফাজতে’ অবস্থান করছে ১৪ বছরের এক কিশোরী। গত বছরের ১৪ই নভেম্বরে তাকে অপহরণ করে ভারতে পাচার করা হয়। ভারতে অবস্থানের কথা জানতে পেরে মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে থানার ওসিসহ বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন একরামুল ইসলাম। কিন্তু বিষয়টি দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় সহজে মেয়েকে ফেরত পাচ্ছেন না বাবা। এ অবস্থায় সংশয়ে রয়েছেন একরামুল।

একরামুল ইসলাম রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার দোহাজারি পানো কাপড়িয়ার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
 
পরিবার ও থানায় মামলা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো ওই কিশোরী। গত বছরের ১৪ই নভেম্বর সকাল ৯টায় জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিতে বাড়ি থেকে বের হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে গত ১৮ই নভেম্বর তারাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন বাবা একরামুল।


পরে তিনি জানতে পারেন মেয়ে ঢাকায় আছে। ঢাকায় এসে ঠিকানা অনুযায়ী মেয়ের সঙ্গে দেখাও করেন। কিন্তু অপহরণকারীদের বাধার মুখে মেয়েকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। পরে ঢাকায় অবস্থানরত শ্যালক সবুজ মিয়ার কাছে ছুটে যান একরামুল। তারা ফিরে গিয়ে সেখানে আর কিশোরীকে খুঁজে পাননি। এতে একরামুল কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
 
এ অবস্থায় চলতি বছরের ২৫ই মে একটি নম্বর (০০৯১৯৪১৬৪১২২৮১) থেকে কিশোরীর চাচি নিমলী বেগমের মুঠোফোনে মেসেজ আসে। সেখানে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে- ‘আঁখি (ছদ্মনাম) ইজ ইন সেইফ কাস্টডি অফ সিডব্লিউসি চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি পানিপথ ইন হরিয়ানা ইন্ডিয়া, গো টু পুলিশ অ্যান্ড আস্ক টু গেট হার থ্রু পুলিশ।’ এ বার্তা পেয়ে তার বাবা একরামুল ছুটে যান তারাগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে। ওসি জিন্নাত আলী ওই ফোন নাম্বারে কল করে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেন এবং কিভাবে পাচার হয়েছে তার বর্ণনা শোনেন। কিন্তু ওসি আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে কিছুদিন সময় নেন। পরে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় পাচারকারিরা আত্মগোপনে চলে যায়।

অবশেষে, ১৯শে জুন মা দয়ালী বেগমকে বাদী করে তারাগঞ্জ থানায় একটি মামলা নেয় পুলিশ। আসামি করা হয় পাঁচজনকে। মানবপাচার আইনে দায়ের করা মামলায় পুলিশ এজাহারভুক্ত মানিক (৩৫) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তারও করে। অন্য আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।

এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিন্নাত আলী বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনে রিপোর্ট পাঠিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তাকে ফেরাতে সবাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি এখন দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। পাচারকারী আসলেই কে এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারপরও এজাহার নামীয় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।  

এদিকে তারাগঞ্জ থানার ওসির ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করে বাবা একরামুল বলেন, ভারতের ওই ফোন নাম্বারে কল করে ওসি সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পর মামলা নিয়েছেন। তিনি বলেন, একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে সে জামিনে মুক্ত হয়ে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সকল মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
রিপন
১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:২৮

ভারতীয় সংস্থাটি যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে, আমাদের পুলিশের চেয়েও। একরামুল প্রথমবার মেয়েকে ঢাকায় দেখার পরও ঢাকা পুলিশের স্মরণাপন্ন হয় নি কেন? প্রায় ১৩ বছরের একটি মেয়ে কীভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহৃতা হয়ে যায় যদি তার সম্মতি না থেকে থাকে? কোন্ প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে সে মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে পা দিয়েছিল? অনেক স্টোরিই রয়েছে, অন্য আরও নানা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সাথে ইন ডেপথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নামের বস্তুটির কথাও - আজও অজানা আমাদের সংবাদপত্রের! ওই ইন ডেপথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন অথরিটি সরঞ্জামাদি দিয়ে মাঠে নামিয়ে দেয়া উচিত ছিল রংপুরের এই প্রতিনিধিকে। তিনি ভারতে গিয়ে মেয়েটিসহ সম্ভবপর সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথা বলে ফিচার লিখে পাঠাতে পারতেন, তা পড়ে এদেশের মেয়েরা মানবপাচারের পরিণতি ও এর শিকার হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে পারতো, কোন্ কোন্ প্রলোভনে কীভাবে প্রলুব্ধ করে থাকে মানবপাচারকারীরা তা জেনে নিজেরা সতর্ক হতে পারতো। কীভাবে মানবপাচারকারীদেরকে নিকটস্থ পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়া যায়, তার কৌশল শিখতে পারতো। মানবপাচারাবিরোধী জনেসচেতনতা জনমত তৈরি হতো সমাজে। দরকার ছিল এসবের। খুবই দরকার। একা পুলিশের পক্ষে তামাম মানবপাচার নির্মূল সম্ভব নয়, জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতভাবেই আবশ্যক।

অন্যান্য খবর