× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার

নারায়ণগঞ্জে শিশুপুত্রকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা মা আটক

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ৮:১১

নারায়ণগঞ্জে নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে চার তলা বাড়ির ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে এক মা। তবে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার পাগলা পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার আমান উল্লাহ প্রধানের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পরে রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মা রোকসানা আক্তারকে আটক করেছে। পরে বিষয়টি চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। নিহত শিশুটির নাম আশফাক জামান জাহিন। শিশুটির বাবা নুরুজ্জামান মারুফ জানান, গত চার থেকে পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবে একই এলাকার রোকসানা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার স্ত্রী রোকসানা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্নভাবে চিকিৎসা করেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এভাবেই চলছিল তাদের অস্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন।

নুরুজ্জামান মারুফ আরো জানান, সোমবার দুপুরে তার বড় মেয়ে অর্পার মোবাইল ফোন পেয়ে শহরের চাষাঢ়ায় পপুলার হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তার স্ত্রী রোকসানা তাদের দেড় বছরের শিশুপুত্র জাহিনকে বাড়ির ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিয়েছেন। পপুলার হাসপাতালে নেয়ার পর সেখান থেকে জাহিনকে নিথর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, ফতুল্লার পাগলা পশ্চিম নন্দলালপুর আমান উল্লাহ প্রধানের বাড়িতে খন্দকার নুরুজ্জামান মারুফ তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার ও দুই ছেলে এবং এক মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। তাদের মধ্যে রোকসানা আক্তার মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সন্ধ্যার সময় চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে শিশু জাহিনকে তার মা রোকসানা আক্তার (২৮) ফেলে দেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শিশুটির বাবার সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে শিশুটির মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত রোকসানাকে আটক করেছে।

ওসি আসলাম হোসেন আরো জানান, যদিও নিহত শিশুটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন অসুস্থ রোগী। নিজের অজান্তেই হয়তো তিনি এ কাজটি করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও সেটা দাবি করা হচ্ছে। স্বজ্ঞানে কখনো একজন মা এই কাজ করতে পারেন না। তবে আইনের কাছে সব অপরাধীই সমান। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ঘটনায় নিহত শিশু জাহিনের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই মোতাবেক মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর