× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার

ভালো রাঁধেন অভিজিৎ, খেটেছেন জেল, পরিবারের সবাই অর্থনীতিবিদ

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৭:৩১

অভিনব সব তথ্য বেরিয়ে আসছে এবার অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার পরিবার সম্পর্কে। যেমন অভিজিৎ ছাত্রজীবনে তিহার জেলে ১০ দিন জেল খেটেছিলেন। তার পরিবার অর্থনীতিবিদে ঠাঁসা। তার পিতা-মাতা- সবাই অর্থনীতিবিদ। তার এমন কীর্তিতে গর্বিত পরিবারের সবাই। ছেলে অভিজিতের লেখা বই ‘পুওর ইকোনমিক্স’-এর একটি কপি সাংবাদিকদের দেখিয়ে মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমার পরিবারের সবাই অর্থনীতিবিদ। ওর বাবা, আমি- আমরা সবাই, এক একজন অর্থনীতিবিদ। তবে এক একজন কাজ করি ভিন্ন ভিন্ন ফিল্ডে।’ আর অভিজিৎকে নোবেলজয়ী, কিন্তু খুব সাধারণ বলে বর্ণনা করেছেন তার ছোট ভাই অনিরুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়।


সোমবার যৌথভাবে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এতে এস্থার পাফলো এবং মাইকেল ক্রেমারের সঙ্গে এ পুরস্কার জেতেন অভিজিৎ। এর পর থেকেই তার সম্পর্কে মজাদার সব তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। ভারতের মিডিয়ায় বলা হয়েছে, তিনি ভালো রান্না করতে পারেন। শাস্ত্রীয় সংগীতেও আছে তার দক্ষতা।  এ ছাড়া ছাত্রজীবনে ১০ দিন তিহার জেলে কাটাতে হয়েছিল তাকে। এই তথ্য অভিজিৎই ২০১৬ সালে জানিয়েছিলেন এক মিডিয়াকে।
১৯৮৩ সাল ছিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজিতের শেষ বছর। ঐ বছর ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্টকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে উপাচার্যকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘেরাও করেন অভিজিৎরা। সেই কারণেই তাদের  গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় তিহার জেলে। ১৯৮৩ সালের ঘটনাটির সঙ্গে মিল পাওয়া যাবে ২০১৬ সালের উত্তাল জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ছবির।

অভিজিৎ বিনায়ক সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখেন, ‘আমাদের রীতিমতো পেটানো হয়েছিল। তারপর তিহার জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।  দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছিল আমাদের নামে। এমনকি খুনের চেষ্টার ধারাতেও মামলা দেয়া হয়। ঈশ্বরের কৃপায় পরে সেই ধারা তুলে নেয় পুলিশ। কিন্তু ১০টা দিন তিহার জেলেই রাত্রিবাস করতে হয়েছিল।’

২০১৬ সালের জেএনইউতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল তাই নিয়েই ছিল অভিজিতের ওই কলাম। নিজের  লেখায় অতীত তুলে এনে এই ধরনের ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রের গা-জোয়ারি’ বলেও উল্লেখ করেন অভিজিৎ বিনায়ক। তার মতে, ১৯৮৩ বা ২০১৬ দু’বারই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুরক্ষিত পরিসর আর নিরাপদ থাকেনি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ফলে।

ওদিকে গতকাল বুধবার আনন্দবাজার পত্রিকা অভিজিতের ছোট ভাই অনিরুদ্ধ সম্পর্কে লিখেছে একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, ভালো ছাত্ররা নাকি সারা দিন বই মুখে নিয়ে বসে থাকে। কিন্তু যিনি নোবেল জয় করেন তিনিও কি তাই করেন? অন্যদের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে চাননি। তবে নিজের দাদাকে কখনও সারা দিন বই মুখে নিয়ে বসে থাকতে দেখেননি নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহোদর অনিরুদ্ধ। উল্টো তিনি জানালেন, আড্ডায় নাকি ভীষণ উৎসাহ অভিজিৎ বাবুর। রান্নাবান্নায়ও তুখোড়।

সোমবার দিল্লি থেকে বিমানে ওঠার আগেই অনিরুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে পেরেছিলেন, দাদার নোবেল জয়ের খবর। মাঝ আকাশে ওড়ার সময়ে মনের মধ্যে চেপে রেখেছিলেন উচ্ছ্বাস। সন্ধ্যায় বিমান কলকাতার মাটি ছুঁতেই দাদা অভিজিৎকে ফোনে ধরে ছোট ভাই বলেছিলেন, ‘ফাটিয়ে দিয়েছো...!’

অভিজিৎ বাবুর  চেয়ে বয়সে সাড়ে চার বছরের ছোট অনিরুদ্ধ পেশায় ব্র্যান্ড ও স্ট্র্যাটেজির পরামর্শদাতা। কাজের প্রয়োজনে  সোমবার দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছেন। ‘ফাটিয়ে দিয়েছো’- ভাইয়ের এহেন শুভেচ্ছাবার্তা শুনে হেসেছিলেন একুশ বছর পরে ফের বাংলায় নোবেল এনে দেয়া অভিজিৎ বিনায়ক।

আসলে তাদের দাদা-ভাইয়ের সম্পর্কের বাইরে নিবিড় বন্ধুত্ব রয়েছে বলেই জানান অনিরুদ্ধ। নোবেলজয়ী দাদাকে কখনো সারাদিন বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকতে  দেখেছেন বলে মনে করতে পারলেন না। বললেন, ‘দাদা পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। তবে সারাদিন পড়াশোনা করতো তা একেবারেই নয়। বরং দাদার প্রচুর বন্ধু ছিল। আড্ডা, গানবাজনা, সবই চলতো।’

মঙ্গলবার এক বন্ধুর মাধ্যমে দাদা ও বৌদির  নোবেল পাওয়ার খবর পেয়েছেন অনিরুদ্ধ। মাত্র ৫৮ বছর বয়সেই দাদা যে নোবেল  পেতে পারেন, তা অবশ্য ভাবেননি অনিরুদ্ধ। তবে মা নির্মলা দেবী এবং তার বিশ্বাস ছিল, বছর পাঁচেক পরে হয়তো নোবেল পাবেন অভিজিৎ বাবু। কলকাতায় সময় না হলেও দিল্লিতে দাদা-ভাইয়ের মাঝেমধ্যে দেখা হয়।
আর প্রতি বছর নিয়ম করে গরমের ছুটিতে মা নির্মলা দেবীকে নিয়ে দুই ভাই দিন দশেকের জন্য পাড়ি দেন দেশ কিংবা বিদেশের কোনো গন্তব্যে। হোটেলের আলাদা ঘরে নয়। বরং মাকে নিয়ে বাড়ি ভাড়া করেই থাকেন দুই ভাই। অনিরুদ্ধ জানান, বাইরে গেলে  হেঁসেলের দায়িত্ব সামলান তার নোবেলজয়ী দাদাই। দেশি থেকে বিদেশি বিভিন্ন পদ অনায়াসেই রেঁধে ফেলেন অভিজিৎ। অনিরুদ্ধ বলেন, ‘দিল্লিতে আমাদের বাড়িতে একদিন  কেক তৈরি নিয়ে কথা হচ্ছিল। আলোচনা হচ্ছিল মিষ্টি ছাড়া কেক ভালো হয় না। আচমকাই রান্নাঘরে কী কী আছে জেনে নিয়ে দাদা সটান গিয়ে সুস্বাদু অথচ মিষ্টি ছাড়া একটি কেক বানিয়ে ফেললেন।’

নতুন বছরে তারা সকলে মিলে পাড়ি দেবেন থাইল্যান্ডের ফুকেত। কলকাতার কাজ মিটিয়ে দু’দিনের মধ্যে দিল্লি ফিরে যাবেন অনিরুদ্ধ। শনিবার সেখানেই দেখা হবে দাদা-ভাইয়ের। প্রতিবারের মতো এবারও দাদা বিশেষ কোনো উপহার আনবেন ভাইয়ের জন্য। তবে বিশ্বজয়ী দাদার জন্য তিনি কী উপহার কিনবেন- তা অবশ্য এখনো ঠিক করেননি অনিরুদ্ধ। হেসে বললেন, ‘কিছু একটা কিনে নেব। আমার দাদা নোবেলজয়ী, তবে খুবই সাধারণ।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Jyoti
১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ৭:৪৪

জেল খাটা লোকেরাও ভালো ।

অন্যান্য খবর