× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ঢাকা সিটি নির্বাচন- ২০২০ষোলো আনা মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার
মিলন হত্যা মামলা

এসআই আকরামসহ ১১ আসামি কারাগারে

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী থেকে | ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:০২

কোম্পানীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মিলন হত্যা ঘটনায় এসআই শেখ আকরাম উদ্দিনসহ ১১ আসামি আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। গতকাল নোয়াখালীর ৪ নম্বর আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক। মানবজমিনকে তিনি বলেন, মিলন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় এসআই আকরাম উদ্দিন গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন না-মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, একই আদালতে গত মঙ্গলবার ১০ জন আসামি আত্মসমর্পণ করলে তাদেরও জেলহাজতে পাঠানো হয়। আসামিরা হলো- আজিজুল হক, আহছান উল্যা, আকবর হোসেন ওরফে সুমন, দেলোয়ার হোসেন ওরফে স্বপন, সালাহ উদ্দিন ওরফে মিলন, ওমর ফারুখ, মো. সবুজ, আবুল খায়ের ওরফে লিটু, নুর উদ্দিন ওরফে বাবু ও মো. সেলিম। সূত্র জানায়, এ মামলায় আটজন আসামি জামিনে আছে।
আর গত দুইদিনে আত্মসমর্পণ করেছে ১১ আসামি। বাকি নয়জন পলাতক আছে। ২০১১ সালের ২৭শে জুলাই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়া এলাকায় ডাকাত সেজে কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ গাড়িতে এনে জনতার হাতে এই কিশোরকে ছেড়ে দেয়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতেই মিলনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়াসহ পুরো ঘটনাটির ভিডিওচিত্র সে সময় ভাইরাল হয়। এ ঘটনার পর ওই বছরের ৩রা আগস্ট মিলনের মা কোহিনুর বেগম আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন। মামলায় তিনি পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করেন। অভিযোগটি আদালত থেকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় যাওয়ার পর প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাব দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। মামলার বাদী মিলনের মা কোহিনুর বেগমও আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। পরে ৫ই নভেম্বর ২ নম্বর আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফারহানা ভূঁইয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন। সিআইডি দীর্ঘ তিন বছর ৪ মাসের তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দিলেও পুলিশকে বাদ দিয়ে গত ৯ই মার্চ আদালতে ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর আদালত মামলার নথি পর্যালোচনা করে অভিযোগপত্রের সাক্ষীর তালিকায় থাকা পুলিশের এসআই আকরাম উদ্দিন শেখকে আসামি করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালের ২৭শে জুলাই সকাল ৯.৩০ টায় চর কাঁকড়ার বেপারী স্কুলে শামছু উদ্দিন মিলন তার খালাত বোনের সাথে দেখা করতে যায়। এ সময় স্থানীয় মহিলা ইউপি মেম্বারের স্বামী মিজানুর রহমান স্কুলের পুকুরের ঘাটলা থেকে তাকে আটক করে। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ ১৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। টহল পুলিশের এস.আই শেখ আকরাম উদ্দিন তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে টেকের বাজারে নিয়ে মিলনকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে উপস্থিত সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দেয়। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মিলনের পরিবারকে দীর্ঘ হয়রানির পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ২০১১ সালের ৮ই আগস্ট কোম্পানীগঞ্জ থানায় মিলনের মা কোহিনুর বেগমের মামলাটি অনেক রদবদল করে গ্রহণ করে। এরপর মামলাটি থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। পরে ডিবির তৎকালীন ওসি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। বাদী আদালতে না রাজি দিলে আদালত মামলাটি সি.আই.ডিতে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু সি.আই.ডি এস.আই শেখ আকরাম উদ্দিনকে বাদ দিয়ে ২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর