× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার

আফগানিস্তানে মসজিদে জঙ্গি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, ৫:৫৯

আফগানিস্তানের তালেবান অধ্যুষিত নানগরহর প্রদেশে মসজিদে জঙ্গি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯এ। শুক্রবারের নামাজ চলাকালীন ভয়াবহ ওই জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাৎক্ষনিকভাবে নিহতের সংখ্যা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন প্রথমে ২৯ জন নিহতের কথা বল্লেও শনিবার নাগাদ কমপক্ষে ৬৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখনো কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে আফগান সরকার এর জন্য তালেবানকে দায়ি করেছে। জঙ্গি গোষ্ঠিটি আফগানিস্তানজুরে কট্টোর ইসলামি শরিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে হামলা চালিয়ে আসছে।

যেই মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে সেটি প্রদেশটির হাসকা মেনা জেলার জাওদারা এলাকায় অবস্থিত।
নানগরহর প্রদেশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোহরাব কাদেরি রয়টার্সকে জানান, হামলার সময় সেখানে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নামাজ পড়ছিলেন। মসজিদটি যখন কানায় কানায় ভর্তি তখনই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে ৬৯টি মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুও। এখনো নিখোঁজ আরো কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার হতে পারে বলেও জানান কাদেরি।

শুক্রবার স্থানীয় কর্মকর্তারা নিহতের পাশাপাশি অর্ধশতাধিক আহতের কথাও জানিয়েছেন। ফলে আশংকা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ৪৫ বছর বয়স্ক গুলাবিস্তান বলেন, তখন মাত্র নামাজ শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে বিকট শব্দে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এরপর আমার চারদিক অন্ধকার হয়ে আসে। আমি জ্ঞান ফিরে নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করি। আমাকে তখন জানানো হয় যে, বিস্ফোরণে আমার সন্তান মারা গেছে। এছাড়া এতে আমার আরো দুই ভাইও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এখন।

রয়টার্সের প্রতিবেদক তালেবান অধ্যুষিত ওই গ্রামটিতে গিয়ে ৬৭টি সদ্য খোঁড়া কবর দেখেন। ঘটনার পর এর তীব্র নিন্দা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন আর বাস টুইটারে লিখেন, আফগানিস্তানের সকল মানুষের একসঙ্গে ও নিরাপদে নামাজ পড়ার অধিকার রয়েছে। একইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নও একটি বিবৃতি দিয়েছে ওই হামলা নিয়ে। জোটটি বলছে, এ ধরণের হামলা আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সকল আশা ধ্বংস করে দিচ্ছে।

নানগরহর প্রদেশটি পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত। আফগানিস্তান-পাকিস্তানি সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গিদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। উভয় দেশের এই অঞ্চলটিতে শিক্ষার হার কম থাকায় ক্রমেই এটি জঙ্গি গোষ্ঠিগুলো এসব অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নানগরহরে আগে থেকেই শক্তিশালী তালেবান। সম্প্রতি এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরাও। মধ্যপ্রাচ্য থেকে উৎখাত হয়ে আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে গোষ্ঠিটি। ইতিমধ্যে সেখানে বেশ কয়েকটি হামলার জন্য দায় স্বীকার করেছে আইএসের জিহাদিরা। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, এ বছরের শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই দেশটিতে ৪৩১৩জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর