× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার

সেতুর জন্য চট্টগ্রামে রেলভবন ঘেরাও

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার, ৭:৫৮

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের দাবিতে রেলভবন ঘেরাও করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। এসময় ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর বিষয়ে সরকার সুসপষ্ট সিদ্ধান্ত না জানালে সেতু এলাকায় গণ-অবস্থান ও গণ-অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর কদমতলী মোড়ে সিআরবির প্রবেশ পথে জমায়েত হন সিপিবি ও গণ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেখানে প্রথমে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লাল পতাকা মিছিল নিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মূল ভবনের দিকে অগ্রসর হন তারা। রেলভবনের পাশে মূল প্রবেশপথের অদূরে সাত রাস্তার মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দিলে নেতাকর্মীরা সেখানেই বসে পড়েন। সেখানে রিকশায় মাইক টানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ চলাকালে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা যানবাহন আসা-যাওয়া বন্ধ ছিল।
মিছিল আটকে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন বলেন, মিছিল নিয়ে উনারা সাত রাস্তার মোড় পর্যন্ত এসেছেন। আমরা কোনও বাধা দেইনি। উনাদের অনুরোধ করেছি যেন মিছিল নিয়ে সিআরবি ভবনের ভেতরে প্রবেশ না করেন। উনারাই ভেতরে না গিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সমপাদক অশোক সাহা বলেন, একটি ছোট্ট কালুরঘাট সেতুর জন্য সরকার বলছে নাকি টাকা নেই। অথচ এই বাংলায় হাজার হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রজেক্ট হচ্ছে আর হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে। আমরা সরকারকে জিজ্ঞেস করতে চাই, হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ নেই বলে কি কালুরঘাটে সেতু করছেন না ? তিনি বলেন, আমাদের একজন এমপি আছেন মঈনউদ্দিন খান বাদল। তিনি একবার বলেন, সেতু না হলে ডিসেম্বরে পদত্যাগ করবেন। আরেকবার বলেন, সেতুর জন্য প্রয়োজনে দীর্ঘদিনের নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন। আমরা এমপি সাহেবকে বলতে চাই, আপনার যা ইচ্ছা আপনি করুন। আমাদের মাথাব্যথা নেই। শুধু সেতু নিয়ে রাজনীতি করবেন না। সরকারকে বলতে চাই, লাখ লাখ মানুষের কষ্টের কথা ভাবুন। কে এমপি, কে সরকারি দল, কে নেতা-আমরা জানতে চাই না। আমরা শুধু কালুরঘাটে সেতু চাই।
বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে মৃণাল চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিন আহমেদের কাছে গিয়ে রেলমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে অবিলম্বে দ্বিমুখী সড়ক সুবিধাসহ নতুন রেলসেতু নির্মাণ, পুরনো সেতু সংস্কার, ইজারাদারের জুলুম ও সেতুতে ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা নিরসন এবং চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটে দুই জোড়া ট্রেন চালুর দাবি জানানো হয়। সিপিবি নেতা শেহাবউদ্দিন সাইফু বলেন, স্মারকলিপি দেয়ার সময় রেলওয়ের জিএম আমাদের বলেন, কালুরঘাটে শুধু রেলসেতু হবে, সড়ক সেতু হবে না। রেলসেতুর জন্য সমীক্ষা সমপন্ন হয়েছে। আমরা বলেছি, সড়ক ছাড়া রেলসেতু দক্ষিণ চট্টগ্রামের জনগণ করতে দেবে না। সিপিবি আরও জোরদার আন্দোলনে যাবে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বোয়ালখালী-পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের একাংশের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই কালুরঘাট রেলসেতু। একমুখী সেতুটি দিয়ে ট্রেনের পাশাপাশি যানবাহনও চলাচল করে। ব্রিটিশ আমলে ১৯৩০ সালে নির্মিত সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বলে বক্তব্য খোদ রেলওয়ের।





 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর