× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার

কক্সবাজারে খাদ্য গুদামে জালিয়াতি কর্মকর্তাসহ সিন্ডিকেট সদস্যদের পলায়ন

বাংলারজমিন

রাসেল চৌধুরী, কক্সবাজার থেকে | ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৭:৪৯

কক্সবাজার সদর খাদ্য গুদামে চাল কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছে। চাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত দুই শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। পালিয়ে গেছে ২ কর্মকর্তা। ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিলগালা করে দেয়া হয়েছে ৬ নম্বর গুদাম। রোববার রাতে ধরা পড়েছে জালিয়াতির এ ঘটনা। সদর খাদ্যগুদামে ভয়ানক জালিয়াতির খবরে ছুটে যান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দেবদাস চাকমা। তিনি ঘটনায় জড়িতদের কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

সরজমিন দেখা গেছে, ৫ নং গুদামের পশ্চিম পাশে সাদা বস্তায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে প্রায় ৩০০ টনের মতো চাল। যেগুলো নির্ধারিত একটি দাতাসংস্থাকে সরবরাহ করার জন্য রাখা। কিন্তু সরবরাহের আগেই প্রতিবস্তা থেকে অন্তত কেজি/দুই কেজি করে চাউল বিশেষ কায়দায় বের করে ফেলা হয়েছে। যা আলাদা বস্তায় ভরছে শ্রমিকরা। খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। অভিযানের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় জালিয়াতি ও অপকর্মের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত উপখাদ্য পরিদর্শক কামরুল ইসলামসহ সিন্ডিকেটের সদস্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বড় কোনো কর্মকর্তাকে আটক না করলেও জায়িলাতির কাজে নিয়োজিত দুই শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্য ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার খবরের সূত্র ধরে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মুক্তার।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম মাহফুজুর রহমানের নির্দেশে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এসিল্যান্ড শাহরিয়ার মুক্তার। চাল নিয়ে জালিয়াতির বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তিনি নিজেই উপস্থিত থাকাবস্থায় ৬ নং গুদামটি সিলগালা করে দেন। সতর্ক করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, সদর খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের আস্কারায় জালিয়াতির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সাথে হাত করে একযুগেরও বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে রয়ে গেছেন কামরুল ইসলাম এবং সুলতানা রাজিয়া। কামরুলকে বদলি করা হলেই তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দৌড়ঝাঁপ দিয়ে তা ঠেকিয়ে দেন।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, কামরুল ইসলাম ও পরিদর্শক সুলতানা রাজিয়ার পরিকল্পনাতেই গুদামের যাবতীয় অপকর্ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। অথচ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সুলতানা রাজিয়া দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই চেয়ারে থেকে কামরুল ইসলামকে দিয়ে কারবার চালিয়ে আসছেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দেবদাস চাকমা জানান, এ ঘটনায় উখিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম হেলালিকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন- মহেশখালী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তপন বড়ুয়া ও রামুর ইন্সপেক্টর মুরশেদুল করিম। প্রতিবেদন সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মুক্তার জানান, চাউল জালিয়াতির বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। গুদাম সীলগালা করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর