× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার

পশ্চিমবঙ্গে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না : মমতা

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ২৪ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১১:০৯

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে রাজ্যে রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। ফলে কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আসামে ৬টি ডিটেনশন ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও আরও বড় আকারে একটি ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, এনআরসির কথা মাথায় রেখেই সারাদেশে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করে প্রস্তুতি এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। গত দুই দিনে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বারে বারে এনআরসি নিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন। গত মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় উত্তরের তিন জেলার পর্যালোচনা বৈঠকে সরকারি আধিকারিকদেরও ‘রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, এ রাজ্যে এনআরসি করার কোনও পরিকল্পনা নেই।
ভোটার তালিকায় যাতে অকারণে নাম বাদ দেয়া না হয়, সে বিষয়ে বার বার সর্তক করে তার নির্দেশ, যারা বাংলায় থাকেন, তাদের একজনের নামও যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। সেইসঙ্গে তার স্পষ্ট ঘোষণা, এই রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প হচ্ছে না। এনআরসির মাধ্যমে বিদেশি বাছাই করে তাদের রাখার জন্যই ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা করেছে ভারত সরকার। ইতিমধ্যেই ট্রাইবুনালের মাধ্যমে আসামে বহু মানুষকে বিদেশি চিহ্নিত করে সেখানকার ৬টি ডিটেনশন ক্যাম্পে অমানবিক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৬ জন মানুষ ডিটেনশন ক্যাম্পের পরিবেশে মারা গিয়েছেন। এনআরসিতে আসামে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এনআরসির আতঙ্ক স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গেও এসে পড়েছে। ইতিমধ্যেই এনআরসি আতঙ্ক রাজ্যে হিস্টিরিয়ার রূপ নেয়ায় সরকারও উদ্বিগ্ন। আসামে এনআরসি থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের  কারও বাবার বাড়ি কোচবিহারে, কারও স্বজনেরা থাকেন জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুরে। ফলে উত্তরবঙ্গ জুড়েই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ১১ জন মারা গিয়েছেন আতঙ্কে। বিজেপি এই আতঙ্ক তৈরি করছে বলে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ। রাজ্য সরকার  নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিয়ে রাজ্যে এনআরসি চালু হওয়ার কোনও স¤ভাবনা নেই বলে জনগণকে আশাস্ত করে চলেছে। তৃণমূল  কংগ্রেস নেতাদের দাবি, এনআরসি নিয়ে জেলাস্তরের আধিকারিকদের অনেকের স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই সাধারণ বাসিন্দাদের প্রশ্নের জবাব তারাই সঠিক দিতে পারছেন না। বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাই মঙ্গলবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, সরকারি বৈঠকে দায়িত্ব নিয়ে বলছি। সব আধিকারিক আছেন। এখানে এনআরসি করার পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমি যখন বলছি, মনে রাখবেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বলছি। এদিকে ভোটার তালিকার কাজে যুক্ত আধিকারিকদের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী তাদের বলেছেন, যারা বাংলায় থাকেন, তাদের কারও নাম যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়েও মমতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই বিলের মাধ্যমে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। আগামী শীতকালীন অধিবেশনেই এই বিলটি পাস হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মমতা বলেছেন, এই বিলে ৬ বছর অপেক্ষা করার পর নাগরিকত্ব দেবার কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, এই ৬ বছর আবেদনকারী কিসের ভিত্তিতে অপেক্ষা করবেন। আবেদনপত্র যে গৃহীত হবে তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর