× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

হেরে গেল অগ্নিদগ্ধ মা-মেয়ে

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে | ৭ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:২৫

অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো অগ্নিদগ্ধ মা ও মেয়েকে। টানা চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার ভোরে মা আসমা বেগম  ও তার ৭ বছরের মেয়ে সুমাইয়া চলে গেল অজানা ঠিকানায়। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত স্কুলপড়ুয়া ছেলে আরিফ হোসেন (১৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। স্ত্রী ও কন্যাকে হারিয়ে  মুন্নু ফেব্রিক্সের অফিসার (ইলেকট্রিক্যাল) ইব্রাহিম মিয়া দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। মা-মেয়ের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আফরোজা খান রিতা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুন্নু ফেব্রিক্সের অফিসার (ইলেকট্রিক্যাল) ইব্রাহিম মিয়া চাকরির সুবাদে মানিকগঞ্জের গিলন্ড এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।
গত শনিবার সন্ধ্যার পর বাসায় তার স্ত্রী আসমা বেগম (৫০) ব্লেন্ডার দিয়ে পিঠা তৈরির জন্য চালের গুঁড়ি বানাচ্ছিলেন, আর একই রুমে নবম শ্রেণির ছাত্র ছেলে আরিফ আইরন দিয়ে নিজের জামা কাপড় ইস্ত্রি করছিল। পাশেই খাটের ওপর বসে ছিল একমাত্র শিশুকন্যা সুমাইয়া।
এসময় হঠাৎ বিকট শব্দে রুমে আগুন ধরে যায়। এতে মা, মেয়ে ও ছেলে এই সঙ্গে  অগ্নিদগ্ধ  হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় লোকজন দ্রুত তিনজনকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে  নিয়ে ভর্তি করা হয়। তিনজনের মধ্যে মা আসমা বেগম ও কন্যা সুমাইয়ার শরীরের ৯০ ভাগ আর ছেলে আরিফের শরীরের  ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে। জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে টানা চার দিন লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হেরে যান মা আসমা বেগম ও একমাত্র কন্যা সুমাইয়া।
 বুধবার ফজরের আজানের পর প্রথমে মারা যায় শিশু সুমাইয়া। মেয়ের মৃত্যুর ঠিক আধা ঘণ্টা পর একই দেশে পাড়ি জমায় মা আসমা বেগম। পাশের বেডে শুয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় অচেতন হয়ে পড়ে আছে ছেলে আরিফ। সে জানে না তার সামনে থেকেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন মা ও আদরের ছোট বোন।
স্ত্রী ও কন্যাকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন মুন্নু ফেব্রিক্সের অফিসার (ইলেকট্রিক্যাল) ইব্রাহিম মিয়া। অঝোরে কাঁদছেন। তাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষাও  কারো জানা নেই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইব্রাহিম মিয়া বলেন, একদিন আগেও  বার্ন ইউনিটে স্ত্রী, কন্যা ও ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে আমি কাঁদছিলাম। গুরুতর অবস্থায় বিছানায় শুয়ে থাকা আমার ছোট্ট মেয়ে তখন আমাকে বলে উঠে কাঁদছো কেন বাবা। আমাকে কোলে নিয়ে একটু ঘুরে আসো। আমি বাইরে বেড়াতে যাবো। মেয়ের এমন কথার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন অসহায় বাবা।
ইব্রাহিম মিয়ার মূল ঠিকানা হচ্ছে ঢাকার মিরপুর। তবে দীর্ঘদিন মানিকগঞ্জের মুন্নু ফেব্রিক্সে চাকরির সুবাদে মানিকগঞ্জেই থাকেন। যার ফলে স্ত্রী ও কন্যার দাফন মানিকগঞ্জে সম্পন্ন করা হয়।  
বুধবার বিকালে মা-মেয়ের মরদেহ ঢাকা থেকে গিলন্ড আনা হলে সেখানে তাদের নামাজে জানাজা শেষে গিলন্ড কবরস্থানে দাফন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল হাসান, মুন্নু ফেব্রিক্সের ডিজিএম শেখ সাদিকসহ মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় এলাকার শত শত মানুষ।
এদিকে মুন্নু ফেব্রিক্সের অফিসার (ইলেকট্রিক্যাল) ইব্রাহিম মিয়ার স্ত্রী ও কন্যার মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে গভীরভাবে শোক  জানিয়েছেন মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান রিতা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর