× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
কমলগঞ্জ আওয়ামী লীগের সম্মেলন কাল

নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস

বাংলারজমিন

সাজিদুর রহমান সাজু, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) থেকে | ৮ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ৮:৪১

দীর্ঘ ১৫ বছরের বন্ধ্যত্ব কাটিয়ে অবশেষে আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দুই দফা তারিখ পিছিয়ে উপজেলা সদরের ভানুগাছ বাজারের চৌমুহনা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা আওয়ামী লীগের এ সম্মেলন। সম্মেলন শেষে চৌমুহনাস্থ জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিল। এ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদটি ছেড়ে দিতে পারেন। কারণ হিসেবে তার অনুসারীরা বলছেন, তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আরো বড় কোনো পদে আসীন হতে পারেন। এ জন্যই দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে বলে ওই সূত্র জানায়। সর্বশেষ কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল ২০০৪ সালে।
ওই সম্মেলনে বেলায়েত আলী সভাপতি ও অধ্যাপক রফিকুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১১ সালের ২২শে এপ্রিল বেলায়েত আলীর মৃত্যুর পর থেকে সভাপতির পদটি ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালানো হচ্ছিল। সভাপতির মৃত্যুর পর নিয়মানুযায়ী প্রথম সহসভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করার বিধান থাকলেও দলের গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ এমপির ছোট ভাই কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ২নং সহসভাপতি এম মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত করা নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শুরু হয় গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের ফলে ভেঙে পড়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। ফলে দীর্ঘদিনেও সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। সম্মেলনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি ছাত্রলীগও সভা-সমাবেশ করছে। শহর ও তৃণমূলের হাটবাজারে সম্মেলন উপলক্ষে আসা সম্ভাব্য অতিথিদের ব্যানার, বিলবোর্ড ও পোস্টার সাঁটানো হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ৩রা মে দলের বর্ধিত সভায় এম মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর যে গ্রুপিং রাজনীতির বলয় তৈরি হয়েছিল তা থেকে দূরে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুর রহমান। তার পুরস্কার হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে স্থান করে নেন। আসন্ন সম্মেলনে তিনি কোনো পদে প্রার্থী না হলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্ব প্রত্যাশী ডজনখানেক প্রার্থী মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে গত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীর সংখ্যাই বেশি। কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে বিতর্কিত কারো হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেয়া হবে জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির সূচনা হবে। মূল্যায়ন করা হবে ত্যাগী নেতাদেরও। সম্মেলনে সভাপতি পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম মোসাদ্দেক আহমেদ মানিক, সহসভাপতি অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম, সহসভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম মাহম্মদ আলীর ভাতিজা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা, সহসভাপতি আছলম ইকবাল মিলন, যুগ্ম সম্পাদক উপজেলা ছাত্রলীগের তিনবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিদ্দেক আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএসএম আজাদুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের দুইবারের সাবেক সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (১) ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক (২) ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমদ বদরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক (৩) অধ্যাপক হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক পৌরমেয়র জুয়েল আহমেদ, শমসেরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম বেলায়েত আলীর ভাতিজা ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ ভূঁইয়া প্রমুখ। তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন এ সম্মেলনে ‘অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত যারা দলের দুর্দিনে মাঠে ছিলেন ত্যাগী সেই নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে এবং কমিটিতে তারা স্থান পাবেন। সম্মেলন প্রসঙ্গে কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ফজলুল হক বাদশা বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর সম্মেলন হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। এই সম্মেলনে প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব আসবে। এ নেতৃত্ব সম্মেলনে কাউন্সিলরদের মতামতের উপর ভিত্তি করে সরাসরি সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচন হতে পারে। অথবা গোপন ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন। এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সম্মেলনের প্রথমপর্ব শেষে দ্বিতীয়পর্বের কাউন্সিল অধিবেশনে চমক থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে শহীদ-রফিক পরিবারকে মাইনাস করে সাবেক দুই ছাত্র নেতাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সম্মেলনকে ঘিরে এমন গুঞ্জনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আশা করছেন উদ্যমী ও দলের জন্য নিবেদিত কাউকে সভাপতি ও সম্পাদক পদে আসীন করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর