× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার

মুসলিম তরুণের চ্যালেঞ্জের মুখে বরিস

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার, ৮:৪৮

বৃটেনের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গত বুধবার থেকে তার দল কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে তার সামনে একটি বাধা আছে। জনসনকে অবশ্যই তার নিজের আসনে জয়ী হতে হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধী দল লেবার পার্টির একজন তরুণ মুসলিম অভিবাসী নেতা। ওই আসনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বরিস জনসন উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের আক্সব্রিজ নামের একটি উপশহর থেকে লড়ছেন। এখানে এক সময় দাপট থাকলেও এখন টরিদের জন্য এটি আর নিরাপদ আসন নয়। ২০১৫ সাল থেকে এই আসনে লড়ছেন বরিস জনসন।
২০১৭ সালের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে তিনি এখান থেকে মাত্র ৫০৩৪ ভোটে জয় পেয়েছিলেন। অর্থাৎ এবার যদি মাত্র পাঁচ শতাংশ ভোট নিজেদের দিকে নিয়ে আসতে সক্ষম হয় লেবাররা তাহলেই বিপদে পড়ে যাবেন বৃটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

বৃটেনের আইন অনুযায়ী আইনপ্রণেতাদের নিজের জেলা বা আসনে স্থায়ীভাবে থাকতে হয় না। তারা শুধু পার্লামেন্টে নিজের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। বরিস জনসনও আক্সব্রিজে থাকেন না যদিও মাঝেমধ্যে সেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায় তাকে। আর এটিই তার বিরোধী প্রার্থী লেবার নেতা আলি মিলানিকে অতিরিক্ত সুবিধা এনে দিয়েছে। ২৫ বছর বয়স্ক মুসলিম এই তরুণ বলেন, আমি এখানে একদমই স্থানীয়। নিজের পরিবারকে নিয়ে এই আক্সব্রিজেই আমি বড় হয়েছি। আক্সব্রিজবাসীর চাহিদা আমার নখদর্পণে। এখানকার স্কুলেই আমি পড়াশোনা করেছি। তাই এলাকাটির সঙ্গে বরিসের তুলনায় আমার পরিচিতি অনেক বেশি। আমি মনে করি আক্সব্রিজবাসী আমাকেই পছন্দ করবেন।

আলি আক্সব্রিজের ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। সেখানেই তিনি ছাত্র নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন। গত মঙ্গলবার রাত থেকে তিনি তার প্রতিবেশীদের দরজায় দরজায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছেন, জনসনকে এ আসন থেকে পুনরায় নির্বাচিত না করতে। তিনি যখন প্রচারণায় নামছেন, শতাধিক কর্মীও তার সঙ্গে থাকছে। তার ভাষায়, এটি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন হতে চলেছে। এটিই হতে পারে বৃটেনের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো প্রধানমন্ত্রী তার নিজ আসনে হারছেন। আমাদের সেই ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে এভাবেই ভোটারদের উৎসাহিত করছেন আলি।

আলি মিলানির জন্ম মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইরানে। তেহরান থেকে তিনি যখন পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে আসেন তখন তার বয়স মাত্র ৫ বছর। এখানেই স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। অপরদিকে বরিস জনসনের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। তার পিতা ছিলেন একজন কূটনীতিক এবং মা একজন শিল্পী। তিনি পড়াশোনা করেছেন ইটোন ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজনীতিতে আসার পূর্বে তিনি ছিলেন একজন তারকা সাংবাদিক।
তরুণ আলি বৃটেনে এর আগে বেশ কয়েকবার খবরের শিরোনামে এসেছেন। কিশোর অবস্থায় তিনি বেশ কয়েক বছর আগে টুইটারে ইহুদিবিরোধী মন্তব্য করেছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ষোলো। সেই মন্তব্যের পর বেশ বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল আলিকে। পরে অবশ্য নানা সমালোচনার পর ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান তিনি। এছাড়া হিথ্রো বিমানবন্দরের তিন নম্বর রানওয়ে  তৈরির বিরোধিতায় প্রচার চালিয়েও আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

বৃটেনের সাধারণ নির্বাচনে যত প্রার্থী রয়েছেন তার মধ্যে আলিই সর্বকনিষ্ঠ। তিনি মনে করেন, এবার বরিস জনসনকে হারিয়ে তাকে ‘নাটকীয় অপমানের’ মুখোমুখি করতে পারবেন তিনি। গত সপ্তাহে শোনা গিয়েছিল, জনসন হয়তো বা আসন পাল্টাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আক্সব্রিজ থেকে তিনি লড়বেন না বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে পরে কনজারভেটিভ পার্টি বিষয়টি সত্যি নয় বলে নিজেদের অবস্থান সপষ্ট করে। এমনিতেই এ আসনে পূর্বের মতো ভালো অবস্থায় নেই কনজারভেটিভরা। তার মধ্যে আবার নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি যদি এখানে প্রার্থী দেয়, তাহলে জনসনের চাপ আরো বাড়বে। ব্রেক্সিটপন্থিদের ভোট সে ক্ষেত্রে ভাগ হয়ে যাবে।

যদি বরিস জনসন আক্সব্রিজ থেকে জয়ী হতে না পারেন তবে এটি হবে আধুনিক বৃটেনের জন্য একটি নজিরবিহীন ঘটনা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমনটা হলে তিনি হয়তো পদত্যাগ করবেন। তাকে পার্লামেন্টে ফিরে আসতে আবারো নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বৃটিশ আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য কোনো আসনে এমপি হওয়ার দরকার নেই। জনসন হাউস অব লর্ড থেকেই সরকার চালাতে পারবেন। তবে বিগত ১০০ বছরেও এই ঘটনা ঘটেনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর