× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার

চবিতে ৫৩ বছরেও স্থায়ী হয়নি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

শিক্ষাঙ্গন

রাহাত মাহমুদ খাঁন, চবি প্রতিনিধি | ১০ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, ২:৪২

প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোন কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য উৎপাদন হ্রাস না করার ফলে পরিবেশ আইন লঙ্গন হচ্ছে। এদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায় চাপাচ্ছেন একে অন্যের ঘাড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন ও পাশের সড়ক দিয়েই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এই দুটি স্থানের মাঝেই খোলা আকাশের নিচে বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে ময়লার ভাগাড়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানের বর্জ্য এনে এখানে স্তুপ করা হয়। এই স্তুপকৃত ময়লা এখানেই পোড়ানো হয়। ফলে আবর্জনার দূর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সকলের।

এছাড়াও ক্যাম্পাসের যত্রতত্র স্থানে বর্জ্য স্তুপ করে রাখা হয়।
যা পচে-গলে পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে। বর্ষা মৌসুমে বর্জ্যের ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিনের কঠিন বর্জ্য রাস্তার পাশের ড্রেনে পড়ে পানির প্রবাহকে অচল করে দেয়।

ছাত্রদের হল ও ক্যান্টিনে নেই বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান। ফলে তা ফেলা হচ্ছে রাস্তার পাশে খোলা নর্দমায়। অধিকাংশ  অনুষদ ও ঝুপড়ির আবর্জনা ফেলা হয় যত্রতত্র স্থানে। নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকার লোকজন বসতবাড়ির আশেপাশেই বর্জ্য ফেলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের হল, শিক্ষক কোয়ার্টার, স্টাফ কোয়ার্টার, কলোনি, দোকানপাট থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য নিঃসৃত হয়ে  নষ্ট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরম পরিবেশ। উৎকট দুর্গন্ধের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের  অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা জমে প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে মশা-মাছি ও কীট পতঙ্গের।

রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকার দরুন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমেছে। হোটেল ও ক্যাফিটেরিয়াগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং ময়লা-আবর্জনার মধ্যে খাবার পরিবেশন করা হয়। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ  ড্রেনেজ ব্যবস্থাও খুবই নাজুক। নিয়মিত হল এবং ক্যাম্পাসের আশপাশের জঙ্গল পরিষ্কার না করায় দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। যার ফলে আবাসিক হল সমূহে মশা মাছির উপদ্রব বেড়েই চলেছে।

২০১১ সালে পরিচালিত বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ০.১৭ কেজি করে মোট ১৫০৯ কেজি বর্জ্য উৎপন্ন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসব বর্জ্যের ২৮ শতাংশ (৪১৬.২০ কেজি) পুনরায় ব্যবহার যোগ্য হলেও ৭২ শতাংশই (১০৯২.৭৯ কেজি) পুনরায় ব্যবহারের অযোগ্য। এ বর্জ্যের অনেকাংশ দখল করে রেখেছে পলিব্যাগ। যা মাটির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

 লঙ্গিত হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা
ব্যবস্থাপনা আচরণবিধিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরিবেশবান্ধব উপায় অনুসরণ করে বর্জ্য উৎপাদন হ্রাস করার কথা থাকলেও চবির ক্ষেত্রে সেই আচরণ বিধিও মানা হচ্ছে না। বিজ্ঞান অনুষদ গুলোর ক্ষেত্রে রাসায়নিক বর্জ্য ২শ’ লিটার ড্রামে সংগ্রহ করে সঠিকভাবে লেবেল লাগিয়ে অনুমোদিত রাসায়নিক বর্জ্য ধ্বংসের স্থানে পাঠাতে হবে এবং পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত এলাকায় অস্থায়ী সংরক্ষণাগার তৈরি করে কন্টেইনার ও ড্রাম রাখতে হবে। যাতে কোন যানবাহন বা ভারী যন্ত্রপাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। এবং সেই স্থানটি একটু ঢালু হলে ভাল হয় অথবা তেল নিঃসরণের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু অনুষদগুলোতে তা অনুসরণ করে না অপসারণ ব্যবস্থা নেই বলে।

দায় নিচ্ছেননা কেউই
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার বলেন, ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবু সাইদ হোসেন জানান, আমাদেরকে শুধুমাত্র সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনের বর্জ্য অপসারণের জন্য বলা হয়েছে। এটি দেখভালের দায়িত্ব মূলত এস্টেট শাখার তাঁরা সম্প্রতি এই কাজের জন্য একটি গাড়িও নিয়েছে এদিকে এস্টেট শাখা থেকে জানানো হয় তাঁদেরকে শুধুমাত্র দক্ষিণ ক্যাম্পাসের বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর