× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে 'বাণিজ্য'

শিক্ষাঙ্গন

আদীব রাহেমান, জাককানইবি প্রতিনিধি | ১৪ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৬:১০

 জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়ার বিনিময়ে বিপুল অংকের টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অসুস্থ সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সেবার জন্য একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তুঙ্গে। গত ১৫ই অক্টোবর মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের ছাত্রী নাজমুন নাহার তুলি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টার 'ব্যাথার দানে' নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা গেলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার বিভাগের একজন শিক্ষকের সুপারিশে অ্যাম্বুলেন্সেই তাকে তার গ্রামের বাড়ি গৌরীপুরে পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্স চার্জ হিসেবে তার ৩৩০০ টাকা বিল আসে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে জরিমানার বিধান আছে বলে জানানো হয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে চার্জ যদি এইভাবে বিশাল অংকের ধরা হয় তাহলে সাধারণ ছাত্রছাত্রী রা অসুস্থ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে চাইবে না।
তিনি আরো বলেন, আগামী ৩ দিনের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলে জরিমানার ব্যবস্থাও আছ। সুস্থ্য হবার আগেই বড়সড় একটা ধাক্কা খেলাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থনীতি বিভাগের এক ছাত্র বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবার দিয়ে অতিরিক্ত চার্জ ধরা একপ্রকার হয়রানি। হঠাৎ রাতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নিয়ে নিয়ে গেলে যাতায়াত ববাদ ২৪০০ টাকা চার্জ ধরা হয়। যেটা সত্যিই অবাক করার মতো। এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে এত টাকা চার্জ নেয়া প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রদের কাছ থেকে এত টাকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হীনম্মন্যতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য লজ্জার এবং দুঃখের।

আর আমাদের এখানে অ্যাম্বুলেন্সের সংকটও রয়েছে। মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স আমাদের। এইবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কিছুদিন মেডিকেল সেন্টারের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ করা হতো। পরবর্তীতে নানা সমস্যার জন্য অ্যাম্বুলেন্স কে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে দেয়া হয়। অতিরিক্ত চার্জ এর বিষয়ে তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স এর অপব্যবহার রুখতে নীতিমালার আলোকে চার্জ ধরা হয়। এত পরিমাণ চার্জ আসার প্রসঙ্গে পরিবহন প্রশাসক ড.মুহাম্মদ ইমদাদুর রাশেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স যে নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হয়, সেই নীতিমালা অনুসারেই বিল এসেছে। উক্ত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ শুনে তিনি বিস্মিত হন এবং বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান। শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন বিষয়ে জানিতে চাইলে তিনি বলেন, এই মহান প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য যা কিছু দরকার তা করা হবে। প্রয়োজনে নীতিমালা সংশোধন করা হবে। উল্লেখ্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবার বিনিময়ে কোনো ধরনের চার্জ নেয়া হয় না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর