× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার

শাল্লার ফসল রক্ষা বাঁধে হরিলুটের অভিযোগ

বাংলারজমিন

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ৮:১৯

 সুনামগঞ্জ জেলার ভাটির উপজেলা শাল্লার হাওরাঞ্চলে বাঁধ নির্মাণে হরিলুট ঠেকাতে প্রকল্প তৈরির আগেই আরো বেশি যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন কৃষক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা। গত বুধবার থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিযুক্ত সার্ভে টিম কোথায় বাঁধ কীভাবে হবে এই কাজ শুরু করেছে। এলাকার কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, কোথায় বাঁধ দিলে হাওরের ফসল অকাল বন্যা থেকে রক্ষা হবে, কতটুকু উচ্চতায় বাঁধ হওয়া প্রয়োজন, সেটি বিশেষজ্ঞরা যেমন বুঝেন, স্থানীয় কৃষকরাও এর ধারণা দিতে পারেন, এজন্য স্থানীয় কৃষকদের যুক্ত করে এই কাজ করলে ভালো হয়। জেলায় মোট ১৪শ’ কিলোমিটার হাওর রক্ষা বাঁধের যেখানে যেখানে সংস্কার, মেরামত বা নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন তা ৩০শে নভেম্বরের মধ্যেই নির্ধারণ করবে জেলা হাওর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি। বাঁধ নির্মাণের জন্য জেলায় এবার ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রকৌশলী জানান, এই সপ্তাহের মধ্যেই কোথায় কোথায় বাঁধের কাজ করতে হবে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ তালিকা করে উপজেলা বাঁধ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠাবে। এই কমিটি ইউনিয়ন পরিষদের পাঠানো প্রস্তাব যাচাই করবে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিযুক্তিয় দুটি প্রতিষ্ঠান ল্যা-সার্ভে টিম, ঢাকা এবং সার্ভে টেকনোলজি বাংলাদেশ লিমিটেড, এই দুই প্রতিষ্ঠান এসব বাঁধে বাঁধে গিয়ে সার্ভে করে রিপোর্ট জমা দেবে কোথায় কীভাবে বাঁধ হবে।
স্থানীয় কৃষক বলছেন, বাঁধ কোথায় হবে, কীভাবে হবে, এটি নির্ধারণ করার সময়ই বেশি সংখ্যক সুবিধাভোগী কৃষককে যুক্ত করতে হবে। না হয় অপ্রয়োজনীয় বাঁধ এবং লুটপাট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
শাল্লার ছায়ার হাওর পাড়ের বড় কৃষক মামুদ নগর গ্রামের হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালে জেলার অনেক স্থানেই কিছু অপ্রয়োজনীয় বাঁধ হয়েছে। ২০১৮তে অপ্রয়োজনীয় বাঁধের সংখ্যা কমেছে। তবে বাঁধের কাজ শুরু করার আগের পরিমাপ এবং কাজ শেষ করার পরের পরিমাপের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে মিল না থাকায় কোথাও প্রকল্প কমিটি (পিআইসি) ঠকেছেন। আবার ৩ থেকে ৪টি বাঁধে প্রয়োজন দেখিয়ে দ্বিগুণ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে- এ ব্যাপারে আরো সতর্ক হতে হবে। কালিকুটা হাওর পাড়ের কৃষক নেতা অমর চাঁদ দাস বলেন, বাঁধের কাজে যারা আর্থিকভাবে লাভবান হন, তারা তাদের সুবিধামতো বাঁধে বেশি বরাদ্দ আনার চেষ্টা করে। যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানেও প্রকল্প তৈরি করে। যেখানে ২০ হাজার টাকায় হবে, সেখানে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ আনার চেষ্টা করে। যেখানে ৫ লাখ টাকা লাগবে, সেখানে ২০ লাখ টাকার প্রকল্প তৈরি করে। এজন্য প্রকল্প তৈরির সময়ই গণ্যমান্য স্থানীয় কৃষকদের পরামর্শ নিলে এ ধরনের দুর্নীতি কিছুটা হলেও রোধ হবে।
শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন চৌধুরী বলেন, গত বছর হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময় আমরা দেখেছি, উজানের বাঁধের উচ্চতা বাড়িয়ে দিয়ে নিচের এলাকায় উচ্চতা কম দেয়া হয়েছে। যেমন শাল্লার নিয়ামতপুর এলাকার বাঁধের উচ্চতা ছিল বেশি, শ্রীহাইল এলাকায় উচ্চতা কম। স্থানীয়রা এটি ঠিক মনে করেন না। স্থানীয়রা মনে করেন ভাটির দিকে উচ্চতা বেশি দিতে হবে। এজন্যই বাঁধ কোথায় হবে এমন প্রকল্প নির্ধারণেও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে হবে, আবার উচ্চতা কেমন হবে এই নিয়েও কথা বলা প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাবনা উপজেলায় যাবে, সেগুলো যাচাই বাছাই করা হবে। আবার সার্ভে টিমগুলোও এগুলো যাচাই করবে। বাঁধের কাজ কোথায় কোথায় হবে, কীভাবে হবে এই বিষয়ে স্থানীয়রাও লিখিতভাবে জেলায়-উপজেলায় পরামর্শ জানাতে পারেন। আমরা গুরুত্ব দিয়ে এগুলো যাচাই করেই কাজ করবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর