× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার

ত্রি-ধারায় বিভক্ত দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ

বাংলারজমিন

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি | ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ৮:২১

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মধ্যে ১১টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি ৩টি চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর ও মরিচার সম্মেলন শুক্রবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ১১টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন হলেও কোনো ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়নি। অথচ সম্মেলনস্থলেই ইউনিয়ন কমিটির অন্তত শীর্ষ পদগুলোর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে সম্মেলন সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু তা করা হয়নি। সবই রয়েছেন অন্ধকারে। কারণ দলীয় কোন্দল, দলের নেতাকর্মীদের বিশৃঙ্খলা এবং কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হলে বঞ্চিতরা বিক্ষোভ করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন- এমন আশঙ্কা থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থল থেকে কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়নি বলে দলীয় নেতাদের অভিমত। যার কারণে প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থল থেকে পদ প্রত্যাশীদের একাধিক প্যানেল জমা হলে তা বগলদাবা করে জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ফলে এক প্রকার অবমূল্যায়িত হয়েছে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের বর্তমানে যে কমিটি রয়েছে সে কমিটির নেতৃবৃন্দ। আর এমনই অভিমত প্রকাশ করেছেন মাঠ পর্যায়ের আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীরা। বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে রিফায়েতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এ সম্মেলনেও প্রতিদ্বন্দ্বী সভপতি পদে ২৩ জন আর সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন প্রার্থী নিজেদের নাম ঘোষণা করেছেন। এখানেও সব প্রার্থীর নামের তালিকা বগলদাবা করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জেলা সদরে।
বর্তমানে দৌলতপুর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব চলছে তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে। আর তিন ধারা সমর্থিত নেতা-কর্মীরা ইউনিয়ন কমিটির পদ পাওয়ার আশায় পৃথক পৃথক প্যানেল জমা দিয়ে জট বাধিয়েছেন। এদের মধ্যে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক এমপি আফাজ উদ্দিন সমর্থিত মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ভিড়ভাট্টা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সাবেক এমপি রেজাউল চৌধুরী সমর্থিত নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন ভিড়ভাট্টার দলে। আর সব সময়ই সরকারদলীয় এমপির কাছাকাছি থাকা দলছুট কিছু নেতাকর্মী রয়েছেন, যারা এমপির নেক দৃষ্টি পাবেন এমন আশায় ছোটাছুটিতে ব্যস্ত রয়েছেন। পদ পাওয়ার আসায় তারাও রয়েছেন বগলদাবা তালিকায়। সব মিলিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত নেতাকর্মীরা একমত না হওয়ার কারণে কোনো কমিটির তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ১৯শে নভেম্বর দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সম্মেলনে ইউনিয়ন পর্যায়ের পদ পাওয়া নেতাদের সমর্থনে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদ নির্বাচিত হবে।
 কিন্তু যারা উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচন করবেন তারাও এখনো রয়েছেন অন্ধকারে। তারপরও দৌলতপুরের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আশায় বুক বাঁধছেন। কারণ ২০০২ সালের দৌলতপুর আওয়ামী লীগের কমিটি দিয়ে দীর্ঘ দেড় যুগ পার হয়েছে। নতুন কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আসবে- যারা দৌলতপুর আওয়ামী লীগকে নতুন করে ঢেলে সাজাবেন যেখানে থাকবে না বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা পরগাছা।   
দৌলতপুরের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি অন্ধকারে থাকার বিষয়ে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন রিমন বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে তড়িঘড়ি দ্রুততার সঙ্গে ইউনিয়ন সম্মেলন সম্পন্ন করা হচ্ছে। একাধিক প্রার্থী ও প্যানেল জমা হওয়ায় সমঝোতা না হওয়ার কারণে সবার তালিকা একত্রে রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে তখন বসে ইউনিয়ন কমিটিগুলো নির্বাচন করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর