× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার

‘বাংলাদেশের এখনো শিশুকাল চলছে’

খেলা

ইশতিয়াক পারভেজ, ইন্দোর (ভারত) থেকে | ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার, ৯:০১

ইন্দোর টেস্টের তৃতীয় দিন বিকালেই নীরব হোলকার স্টেডিয়াম। ভারতের জয়ের উল্লাস নিয়ে ফিরে যান স্বাগতিক দর্শকরা। স্টেডিয়ামের ভেতর তখন সব আয়োজন সরিয়ে নেয়ার ব্যস্ততা। কিন্তু নিজেদের দল জিতলেও বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সে অবাক ভারতীয়রাও। বাংলাদেশি ক্রিকেপ্রেমীদের মনের অবস্থা যে ভালো নয় তা সহজেই অনুমেয়। এমনকি ইন্দোর প্রেসবক্সে উপস্থিত বাংলাদেশি সংবাদকর্মীরাও নীরবে সয়েছেন হারের যন্ত্রণা। মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট এসোসিয়েশনের মিডিয়া ম্যানেজার রাজিব শিরোদকরের হঠাৎ প্রশ্ন- ‘মন খরাপ?’ প্রফেশনাল সংবাদকর্মী তাই জবাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছু না বলে শুধু হাসলাম। হাসি দেখে পরক্ষণেই তিনি বললেন, ‘আপনি কি জানেন, ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো শিশু? আমি বলতে চাইছি টেস্ট ক্রিকেটে এখনো বাংলাদেশের শিশুকাল চলছে।’ নিজের দেশ নিয়ে এমন মন্তব্য শুনলে যে কারোই রাগ হতে পারে।
তিনিও বুঝলেন হয়তো রাগই হচ্ছে আমার। এবার তিনি বলেন, ‘রাগ করার কিছু নেই, চলেন আসল কারণটা বলি, কেন আমি এমনটা বললাম।’ বাংলাদেশকে টেস্টে এখনো ‘শিশু’ বলার ব্যাখ্যা দিতে শুরু করলেন তিনি। তার কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-

৪০ বছর অপেক্ষা করেছে ভারত
ভারতের ১৯৩২ সালে টেস্ট অভিষেক হয়। কিন্তু আমাদের দলের প্রথম টেস্ট জয় আসে ১৯৫২তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে চেন্নাইয়ে। মানে নিজেদের মাঠে প্রথম জয় পেতে ২০ বছর সময় লেগেছে ভারতের। এখানেই শেষ নয়, বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জিততে আমাদের সময় লেগেছে ৪০ বছর। সেই জয় ছিল ১৯৭১-এ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। বাংলাদেশ টেস্ট খেলা শুরু করেছে ২০০০ সালে। ২০ বছরও হয়নি তাদের টেস্ট ক্রিকেটের। তার মানে ভারতের তুলনায় এখন টাইগারদের টেস্ট ক্রিকেটের শিশুকালই চলছে বলে আমি মনে করি। তবে এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ কিন্ত ভারতের তুলনায় দ্রুত উন্নতি করেছে। তারা দেশের মাটিতে টেস্ট জিতেছে। আবার বিদেশের মাটিতেও টেস্ট সিরিজ জিতেছে। এমনকি টাইগাররা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে যে কোনো দলকে যে কোনো দেশের মাটিতে হারানোর সক্ষমতা রাখে। এই সিরিজে তারা ভারতের মাটিতে তাদের টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছে। সিরিজটাও প্রায় জিতে নিয়েছিল। তাই আমি বলছি তোমাদের অধৈর্য হওয়ার কিছু নেই। আমার বিশ্বাস, টাইগাররা দ্রুতই টেস্ট ক্রিকেটেও বিশ্বের যে কোনো দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে। তবে সময় দিতে হবে। কারণ টেস্ট নিয়ন্ত্রণ পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা ভারতও করেছে।’

কতটা সুযোগ পায় টাইগাররা!
আমি ৩৫ বছর ধরে ভারতের ক্রিকেটের সঙ্গে আছি। স্কোরার ছিলাম, এখন মিডিয়া ম্যানেজারের পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) তালিকাভুক্ত আম্পায়ারও। এতদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বেশি বেশি টেস্ট ও ৪ দিনের ম্যাচ না খেললে এই ফরম্যাটে উন্নতি অসম্ভব। আমি যতটা জানি ভারত গেলো এক বছরে যতগুলো টেস্ট খেলেছে তার অর্ধেকও বাংলাদেশ দল খেলতে পারেনি। তারপরও দেখ কোহলিরা তোমাদের দলকে হালকাভাবে নিতে ভয় পেয়েছে। তারা সেরা দল নিয়ে মাঠে নেমেছে। যে কারণে অভিজ্ঞতাও বড় পার্থক্য পড়ে দিয়েছে দুই দলের মধ্যে। এখানে সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতের বিপক্ষে ৩ দিনে অলআউট হয়ে গেছে।

ভারতের প্রদেশের সঙ্গেও খেলা বাড়াতে হবে
একটা সময় আমাদের প্রদেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বয়স ভিত্তিকসহ বেশ কিছু দল খেলতে আসতো। আমরা যেতাম, সবশেষ মধ্যপ্রদেশের জুনিয়র টিম খেলে এসেছে বাংলাদেশে। আমি মনে করি আবারও দুই দেশের বয়স ভিত্তিক, ‘এ’ দল ও হাইপারফরম্যান্সের দলগুলোর মধ্যে খেলা আয়োজন করা প্রয়োজন। আমরাও চাই যে বাংলাদেশ এখানে আসুক। আর আমাদের আমন্ত্রণ করলে আমরাও যাবো। এতে করে দুই দেশের তরুণ ক্রিকেটাররা দারুণ উন্নতি করতে পারবে।

এখনো যেখানে ঘাটতি
দেখ আমাদের মধ্য প্রদেশের কোনো ক্রিকেটারই এখন জাতীয় দলে নেই। কারণ এমন নয় যে ভালো কোনো ক্রিকেটার আমাদের নেই। আসল ঘটনা হচ্ছে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে কিন্তু সঠিক সময় তারা নিজেদের যোগ্যতা দেখাতে ব্যর্থ। ঠিক তোমাদের সঙ্গেও এই ঘটনা ঘটছে, দেখ লিটন দাস, সাদমানরা তোমাদের প্রতিভাবান ক্রিকেটার। কিন্তু তারা নিজেদের সেরা জায়গাতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে এটিও ঠিক হয়ে যাবে। সময় দিতে হবে, তাদের ভালো মতো পরিচর্যা করতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর