× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার

জনসন করবিন বাহাস

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:১৫

আগামী ১২ই ডিসেম্বর বৃটেনে জাতীয় নির্বাচন। ব্রেক্সিটকে সামনে রেখে এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব। এরই মধ্যে চলছে প্রচারণা। তবে প্রথমবারের মতো এই প্রচারণায় মঙ্গলবার টেলিভিশনে সরাসরি বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও বিরোধী লেবার নেতা জেরেমি করবিন। ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে তাদের মধ্যে। এ ছাড়া জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, আস্থা ও নেতৃত্ব, স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও রাজপরিবার নিয়ে তারা তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রেক্সিটকে জাতীয় দুর্যোগ আখ্যায়িত করে এর সমাপ্তি টানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে লেবার দলকে ঘায়েল করেছেন।
বলেছেন, লেবার দল শুধুই বিভক্তি সৃষ্টি করছে। তারা অচলাবস্থা সৃষ্টি করছে। তার যুক্তিকে খণ্ডন করেছেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন। তিনি বলেছেন, লেবার দল হলে অর্থাৎ লেবার দল ক্ষমতায় থাকলে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ায় বৃটিশ জনগণকে তাদের শেষ কথা বলার সুযোগ দিতো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
বিবিসি’র রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক লরা কুয়েন্সবার্গ বলেছেন, এই বিতর্কে কে বিজয়ী হয়েছেন অথবা কে পরাজিত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। ইউগভের এক জরিপ বলছে, বিতর্কে কে বিজয়ী হয়েছেন সে বিষয়ে জনগণ বিভক্ত। বেশির ভাগ লেবার দলীয় ভোটার মনে করছেন বিজয়ী হয়েছেন জেরেমি করবিন। অন্যদিকে রক্ষণশীল কনজারভেটিভ দলের ভোটাররা মনে করছেন বিজয়ী হয়েছেন বরিস জনসন। তবে বিতর্ক শুনে মোটেও আলোড়িত হননি স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির নেত্রী নিকোলা স্টার্জেন। তার মতে, এ দু’জনের একজনও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্রেট দলের নেতা জো সোয়াইনসন প্রধানমন্ত্রী জনসন ও বিরোধী নেতা করবিনের পারফরমেন্সকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি মনে করেন এ দুই নেতাই তর্জন গর্জন করেছেন এবং বিভক্তি সৃষ্টি করেছেন। ‘বিশৃঙ্খল এক পরিবেশ’ নিয়ে আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন গ্রিন পার্টির সহ-নেতা সিয়ান বেরি। তার মতে, বিতর্ক দ্রুতই যেন অগ্নিরূপ ধারণ করেছিল। তবে জেরেমি করবিনকে জনসনের চেয়ে ভালো বিতার্কিক বলে মন্তব্য করেছেন ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজে। ভবিষ্যতে গণভোট হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পক্ষে (রিমেইন) অথবা এর বিরুদ্ধে (লিভ) কোন পক্ষে থাকবেন তা না বলায় করবিনের সমালোচনা করেছেন তিনি। ওদিকে লিবারেল ডেমোক্রেট ও স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির নেতাদের বিতর্কে না ডাকার সিদ্ধান্ত নেয় আইটিভি। এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেছিল ওই দুটি দল। কিন্তু আদালতে তারা হেরে যায়।
বরিস জনসন ও জেরেমি করবিনের মধ্যে বিতর্কের অর্ধেক সময় প্রাধান্য বিস্তার করেছিল ব্রেক্সিট বিষয়ক প্রশ্ন। ১২ই ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিজয়ী হতে চাইছেন বরিস জনসন। যাতে তিনি ব্রেক্সিট চুক্তি সম্পাদন করতে পারেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তিনি ব্রেক্সিট নিয়ে যে চুক্তিতে আটকে আছেন, তা তিনি আইনে পরিণত করতে চাইছেন। তবে তার এমন ইচ্ছার কড়া জবাব দিয়েছেন জেরেমি করবিন। তিনি বলেছেন, বরিস জনসনের করা চুক্তিকে তিনি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলতেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির বিষয়ে সমঝোতা করতেন। তাতে থাকতো কাস্টমস ইউনিয়ন ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে থাকতো সিঙ্গেল মার্কেট সুবিধা। এরপরই তিনি এই চুক্তি নিয়ে জনগণের সামনে ভোটে দিতেন। ব্রেক্সিট পরবর্তী জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে জেরেমি করবিন মন্তব্য করার পরই ঝড়ো বিতর্ক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে উদ্দেশ্য করে করবিন বলেন, আপনি তো আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এবং বিগ ফার্মা’র কাছে বিক্রি করে দিতে চলেছেন। এক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেশ কিছু গোপনীয় মিটিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। করবিনের ভাষায়, এসব বৈঠকে বৃটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় মার্কিন পণ্যগুলোর পূর্ণাঙ্গ মার্কেট সুবিধা প্রস্তাব করেছে সরকার। জেরেমি করবিনের এমন বক্তব্যের কড়া জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী জনসন। তিনি বলেন, করবিনের এমন দাবি পুরোটাই বানানো। এই বিতর্কের আগে জনমত জরিপে পিছিয়ে ছিল লেবার দল। ফলে এই বিতর্ক তাদেরকে ব্যবধান কমানোর একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। বিতর্কের এক পর্যায়ে ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যে ভবিষ্যৎ ইউনিয়নকে ঝুঁকিতে ফেলবে কিনা তা নিয়ে ধারালো বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন জনসন ও করবিন। জনসন দাবি করেন, স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির সমর্থন পেতে স্কটল্যান্ডের আরেকটি গণভোটে একমত হবে লেবার পার্টি। কারণ, এসএনপির সমর্থন প্রয়োজন তাদের। তার এ মন্তব্যকে ননসেন্স বলে আখ্যায়িত করেন জেরেমি করবিন। তিনি জানান, এসএনপি’র সঙ্গে তার দল কোনো জোট গঠন করবে না।

 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর