× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবরসাউথ এশিয়ান গেমস- ২০১৯
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার

পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘট চলছেই

অনলাইন

অনলাইন ডেস্ক | ২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৩:৪১
ফাইল ফটো

নতুন সড়ক আইন সংস্কারের দাবিতে ডাকা অঘোষিত ধর্মঘট পালন করছে পরিবহন শ্রমিকরা। আজও দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে তারা। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষিরা, নড়াইল, নাটোর, রাজশাহী, জামালপুর, শরিয়তপুর, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইলসহ অনেক জেলায় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব জেলায় দূরপাল্লার কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। অভ্যন্তরীণ রুটেও বাস চলাচল ছিল কম।

টানা তৃতীয় দিনের মতো খুলনা, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল শুরু হয়েছে। আজ সকালে বাস ছাড়বে এমন খবরে খুলনার সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রয়েল ও শিববাড়ির  মোড়ে শতশত যাত্রীরা দূর-দূরান্তে যাত্রার উদ্দেশ্যে আসলেও বাস না ছাড়েনি।
ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, নতুন সড়ক আইনের কিছু ধারায় মালিক ও চালকদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এ কারণে চালক ও মালিকরা ভয়ে গাড়ি বের করছেন না।

সাতক্ষীরাতেও সকাল থেকে কোনও রুটে বাস চলাচল করেনি। সাতক্ষীরা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জানান, নতুন আইন সংশোধনের পর বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকরা বাস চালানো বন্ধ করে দেয়। সরকারের আশ্বাস পেলেই রাস্তায় নামবে শ্রমিকরা। কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশনের  নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরকারের ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে।

সাতক্ষীরা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল করিম সাবু বলেন, মালিকরা বাস চালাতে নিষেধ করেনি। শ্রমিকরাই বাস চালানো বন্ধ করেছেন। এছাড়া ২১শে ও ২২শে নভেম্বর কেন্দ্রীয় মিটিং রয়েছে। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সম্ভবত শ্রমিকরা বাস চালাবে না।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহকারী সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান মিঠু বলেন, খুলনায় এখনও বাস চলাচল শুরু হয়নি। বুধবার রাতে মালিক ও শ্রমিক নেতারা ঢাকায় গেছেন। মন্ত্রণালয়ে ট্রাক মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে সভা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বৈঠক হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হবে।

টাঙ্গাইলে ধর্মঘট করছে বাসচালক ও শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল থেকে কোনও দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন বলেন, এখনও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ ঢাকায় শ্রমিক ফেডারশনের বৈঠক রয়েছে। বাস চলাচলের বিষয়ে ওই বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে আজও কুড়িগ্রাম থেকে সব রুটে বাস, মিনিবাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, বাস চলাচল না করায় যাত্রীরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বেলা ১২টার দিকে বাস স্ট্যান্ডের কাছে পার্কিং করা অটোরিকশা চালকদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদর তাড়িয়ে দেয় বাস শ্রমিকরা।

জামালপুরে বাসচালক ও শ্রমিকদেরও ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জামালপুর-টাঙ্গাইল সড়কের ধনবাড়ী এলাকায় শ্রমিকরা এখনও তাদের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা জামালপুর-টাঙ্গাইল রুটে চলাচলকারী সব ধরনের যান চলাচলে বাধা দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

আজ সকালে ময়মনসিংহ থেকে বাস চলাচল শুরু হলেও বেলা ১২টা থেকে আবারও বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। টানা তৃতীয় দিনের মতো ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা এবং  জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে সবধরণের বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বেলা ১২টা থেকে নগরীর পাটগুদাম বাসস্ট্যান্ড, টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এবং মাসকান্দা আন্তঃজেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কোনও ধরণের ভারী যানবাহন ছেড়ে যাচ্ছে না। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ।

এদিকে নাটোর, রাজশাহী ও পাবনার অভ্যন্তরীণ রুটে কোন বাস চলাচল করছে না। এসব অঞ্চল থেকে দূরপাল্লারও কোন বাস ছেড়ে যায়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

শরীয়তপুরের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে ঢিলেঢালাভাবে বাস চললেও দূরপাল্লার কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। এফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। তবে আগামীকাল থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

এছাড়া চুয়াডাঙ্গা, নওগাঁ, ঝিনাইদহে চতুর্থ দিনের মতো বাসচালক ও শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পরও পণ্য পরিবহন চলাচল শুরু হয়নি। তেজগাঁও ট্র্যাক-কাভার্ড ভ্যান টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। টার্মিনাল থেকে ছোট বড় কোনো ট্র্যাক-কাভার্ড ভ্যান ছাড়েনি। তেজগাঁও রেলক্রসিং থেকে শুরু করে সাতরাস্তা মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করা রাখা হয়েছে ট্র্যাক-কাভার্ড ভ্যান।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
জাফর আহমেদ
২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৩:১৫

সরকারের উচিত গাড়ি না চালালে। সরকারি জায়গা দখল করে গাড়ি রাখতে না দেওয়া। হয় গাড়ি চালাও না হয় , তোমার বাড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে রাখ। সরকারি জায়গা ছেড়ে চলে যাও। তার পর বুঝবে।।

অন্যান্য খবর